ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

পশুর হাটকে টার্গেট করে সক্রিয় হচ্ছে মলম পার্টি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞানপার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা। যাত্রীদের নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি খাইয়ে সর্বস্ব লুট করে নিতো তারা। এমন অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার দুপুর পৌনে একটার দিকে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।

গত রোববার ভোর ছয়টার দিকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সড়কে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাসুদ, মামুন হোসেন ওরফে সাত্তার, সুমন ওরফে মুসা এবং সুমন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার (যার নম্বর- ঢাকা মেট্রো খ-১৩-১২৬৮), একটি চাপাতি, ছুরি, রশি, গামছা, নেশা জাতীয় ঘুমের ওষুধ এবং বিষাক্ত মলম উদ্ধার করা হয়। কোরবানির ঈদে গরুর হাটে তাদের টার্গেট ছিল।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে দস্যুতা সংঘটনকারী একটি সংঘবদ্ধ দলের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার আশপাশের এলাকায় অটোরিকশার যাত্রী, চালক এবং পথচারীদের গতিরোধ করত। পরে এসব যানে থাকা মানুষদের মলম লাগিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নির্জনস্থানে ফেলে গাড়িসহ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যেত।

কামরুজ্জামান আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা এসব কাজ করতে গিয়ে সময়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ছুরি, চাপাতি, রশি, মরিচের গুঁড়া এবং বিষাক্ত ও নেশাজাতীয় ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। অপরাধ সংঘটনের সময় তারা চার থেকে পাঁচজন সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অনেকক্ষেত্রে তাদের জনবলের সংখ্যা অপরাধের ধরন অনুযায়ী ওঠানামা করে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা যাত্রীবেশে সিএনজিতে ওঠে যাত্রী বা চালকের চোখে মলম লাগিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর তাদের সিএনজি অটোরিকশাসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। এই চক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে সিএনজিতে ওঠে। পরে যাত্রীদের খাবারের প্রস্তাব দেয়। তাদের অচেতন করে কোন এক পর্যায়ে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট করে নেয়া এই সিএনজি বা অটোরিকশা তাদের চক্রের সদস্যদের কাছেই বিক্রি করে। তারা বাসস্ট্যান্ডে ও রেলস্টেশনে কাজ করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতরা ভোর চারটা থেকে ছয়টার মধ্যে তাদের এসব কাজ করে থাকেন। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জীবন কান্তি সরকার এবং অর্গানাইজ ক্রাইমের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

পশুর হাটকে টার্গেট করে সক্রিয় হচ্ছে মলম পার্টি

আপডেট টাইম : ১১:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞানপার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা। যাত্রীদের নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি খাইয়ে সর্বস্ব লুট করে নিতো তারা। এমন অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার দুপুর পৌনে একটার দিকে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।

গত রোববার ভোর ছয়টার দিকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সড়কে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাসুদ, মামুন হোসেন ওরফে সাত্তার, সুমন ওরফে মুসা এবং সুমন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার (যার নম্বর- ঢাকা মেট্রো খ-১৩-১২৬৮), একটি চাপাতি, ছুরি, রশি, গামছা, নেশা জাতীয় ঘুমের ওষুধ এবং বিষাক্ত মলম উদ্ধার করা হয়। কোরবানির ঈদে গরুর হাটে তাদের টার্গেট ছিল।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে দস্যুতা সংঘটনকারী একটি সংঘবদ্ধ দলের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার আশপাশের এলাকায় অটোরিকশার যাত্রী, চালক এবং পথচারীদের গতিরোধ করত। পরে এসব যানে থাকা মানুষদের মলম লাগিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নির্জনস্থানে ফেলে গাড়িসহ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যেত।

কামরুজ্জামান আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা এসব কাজ করতে গিয়ে সময়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ছুরি, চাপাতি, রশি, মরিচের গুঁড়া এবং বিষাক্ত ও নেশাজাতীয় ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। অপরাধ সংঘটনের সময় তারা চার থেকে পাঁচজন সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অনেকক্ষেত্রে তাদের জনবলের সংখ্যা অপরাধের ধরন অনুযায়ী ওঠানামা করে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা যাত্রীবেশে সিএনজিতে ওঠে যাত্রী বা চালকের চোখে মলম লাগিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর তাদের সিএনজি অটোরিকশাসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। এই চক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে সিএনজিতে ওঠে। পরে যাত্রীদের খাবারের প্রস্তাব দেয়। তাদের অচেতন করে কোন এক পর্যায়ে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট করে নেয়া এই সিএনজি বা অটোরিকশা তাদের চক্রের সদস্যদের কাছেই বিক্রি করে। তারা বাসস্ট্যান্ডে ও রেলস্টেশনে কাজ করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতরা ভোর চারটা থেকে ছয়টার মধ্যে তাদের এসব কাজ করে থাকেন। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জীবন কান্তি সরকার এবং অর্গানাইজ ক্রাইমের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট