ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

বন্যায় মৃত্যু দেড়শ ছাড়িয়েছে

হুমায়ুন কবির: চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও নানা কারণে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পানি এখন কমতে থাকলেও অগাস্টের শেষে আবার বন্যা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে চলতি মৌসুমে দেশে ২৬ জুন থেকে বন্যা শুরু হয়। তিন ধাপে এ পর্যন্ত ৩৩ জেলার অর্ধ কোটিরও বেশি মানুষ বন্যা কবলে পড়েছে। বন্যার পানিতে ডোবার পাশাপাশি সাপের দংশনে এবং বিভিন্ন রোগে মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেল্থ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ১৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

৩০ জুন থেকে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে, ডায়রিয়ায়, সাপের কামড়ে ও বজ্রপাতে ১৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নথিভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে পানিতে ডুবে ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মারা গেছে ১৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জে ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

জানা গেছে, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালীর প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৭৩ জন। এরমধ্যে ১০ হাজার ২২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি কমার হার অব্যাহত রয়েছে। গঙ্গা-পদ্মায়ও আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে পানি কমেছে ৬৩টি পয়েন্টে। বেড়েছে ৩৪টি পয়েন্টে। ১৪টি নদীর ২০টি স্টেশনে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে অগাস্ট মাসের দীর্ঘ মেয়াদী পূর্বাভাসে আরেকটি বন্যার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতি হয়ে মাসের মধ্যভাগে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

“মাসের শেষার্ধে মৌসুমী ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”

ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। ঢাকার জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও সাতদিন দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, দশআনী, জিঞ্জিরামসহ যমুনার বিভিন্ন শাখা নদীতে পানি বাড়ায় অনেক এলাকা গেছে তলিয়ে।
সামছুদ্দিন বলেন, অগাস্ট মাসে এক থেকে দুটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সুষ্টি হবে বঙ্গোপসাগরে। এরমধ্যে একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুও মোটামুটি সক্রিয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাচি নিরাপদে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

বন্যায় মৃত্যু দেড়শ ছাড়িয়েছে

আপডেট টাইম : ০৮:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২০

হুমায়ুন কবির: চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও নানা কারণে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পানি এখন কমতে থাকলেও অগাস্টের শেষে আবার বন্যা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে চলতি মৌসুমে দেশে ২৬ জুন থেকে বন্যা শুরু হয়। তিন ধাপে এ পর্যন্ত ৩৩ জেলার অর্ধ কোটিরও বেশি মানুষ বন্যা কবলে পড়েছে। বন্যার পানিতে ডোবার পাশাপাশি সাপের দংশনে এবং বিভিন্ন রোগে মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেল্থ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ১৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

৩০ জুন থেকে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে, ডায়রিয়ায়, সাপের কামড়ে ও বজ্রপাতে ১৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নথিভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে পানিতে ডুবে ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মারা গেছে ১৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জে ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

জানা গেছে, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালীর প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৭৩ জন। এরমধ্যে ১০ হাজার ২২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি কমার হার অব্যাহত রয়েছে। গঙ্গা-পদ্মায়ও আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে পানি কমেছে ৬৩টি পয়েন্টে। বেড়েছে ৩৪টি পয়েন্টে। ১৪টি নদীর ২০টি স্টেশনে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে অগাস্ট মাসের দীর্ঘ মেয়াদী পূর্বাভাসে আরেকটি বন্যার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতি হয়ে মাসের মধ্যভাগে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

“মাসের শেষার্ধে মৌসুমী ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”

ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। ঢাকার জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও সাতদিন দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, দশআনী, জিঞ্জিরামসহ যমুনার বিভিন্ন শাখা নদীতে পানি বাড়ায় অনেক এলাকা গেছে তলিয়ে।
সামছুদ্দিন বলেন, অগাস্ট মাসে এক থেকে দুটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সুষ্টি হবে বঙ্গোপসাগরে। এরমধ্যে একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুও মোটামুটি সক্রিয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাচি নিরাপদে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


প্রিন্ট