ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার গাম্বিয়ার পাশে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস

ডেস্ক: রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের বিচার আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস-আইসিজেতে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশ দুটি যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়। এতে করে গাম্বিয়া এতো দিন একাই লড়ে আসলেও এবার বড় দুই দেশকে তারা পাশে পাচ্ছে। এই দুই দেশ সব ধরনের সহায়তা করবে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে মামলার ব্যয় ভারও তারা বহন করতে পারবে। ফলে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও আসবে গতি।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাসোঁয়া ফিলিপ শ্যাম্পে ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেফ ব্লকের দেয়া যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, গণহত্যায় যারা জড়িত তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে শাস্তি।

অন্য দেশগুলোও যেন, এই ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে, এ আহ্বান রেখেছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) আওতাভুক্ত দেশগুলোকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের গণহত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে গাম্বিয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে বলেও জানায় দেশ দুটি।

গত বছরের নভেম্বরে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) সহায়তায় গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করে। গাম্বিয়ার অভিযোগে বলা হয়, সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ওপর নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিয়ে, হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা, আহত ও নারীদের ধর্ষণ করেছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধরা। এরপর শুনানি হয়। পরে চলতি বছরের ২৩শে জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন।

রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে থাকা ছয় লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মিয়ানমারকে গণহত্যা রোধ করতে, প্রমাণাদি ধ্বংস করা বন্ধ করতে ও এ বিষয়ে চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। যদিও করোনার কারণে সেই রিপোর্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি আর। ‍যদিও আইসিজের ওই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার।

২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের জেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গার বাস বাংলাদেশে। একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। উল্টো টালবাহানা করছে, আর গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার গাম্বিয়ার পাশে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস

আপডেট টাইম : ০৯:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ডেস্ক: রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের বিচার আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস-আইসিজেতে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশ দুটি যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়। এতে করে গাম্বিয়া এতো দিন একাই লড়ে আসলেও এবার বড় দুই দেশকে তারা পাশে পাচ্ছে। এই দুই দেশ সব ধরনের সহায়তা করবে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে মামলার ব্যয় ভারও তারা বহন করতে পারবে। ফলে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও আসবে গতি।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাসোঁয়া ফিলিপ শ্যাম্পে ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেফ ব্লকের দেয়া যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, গণহত্যায় যারা জড়িত তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে শাস্তি।

অন্য দেশগুলোও যেন, এই ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে, এ আহ্বান রেখেছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) আওতাভুক্ত দেশগুলোকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের গণহত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে গাম্বিয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে বলেও জানায় দেশ দুটি।

গত বছরের নভেম্বরে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) সহায়তায় গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করে। গাম্বিয়ার অভিযোগে বলা হয়, সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ওপর নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিয়ে, হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা, আহত ও নারীদের ধর্ষণ করেছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধরা। এরপর শুনানি হয়। পরে চলতি বছরের ২৩শে জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন।

রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে থাকা ছয় লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মিয়ানমারকে গণহত্যা রোধ করতে, প্রমাণাদি ধ্বংস করা বন্ধ করতে ও এ বিষয়ে চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। যদিও করোনার কারণে সেই রিপোর্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি আর। ‍যদিও আইসিজের ওই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার।

২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের জেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গার বাস বাংলাদেশে। একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। উল্টো টালবাহানা করছে, আর গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


প্রিন্ট