ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ফালাক নামে ১০ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। রবিবার সকালের দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ওই শিশুর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নাদিরুল আজিজ চপল।

ওই শিশু ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের আশ্রমপাড়া এলাকার ফয়সাল শুভর মেয়ে। ফয়সাল শুভ বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন না পেয়ে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, হৃদরোগ নিয়েই আমার বাচ্চার জন্ম হয়। এ জন্য অল্পতেই তার শ্বাসকষ্ট হয়। ঠান্ডা লাগার কারণে শনিবার রাতে হঠাৎ করে আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাৎক্ষণিক শহরের একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে অক্সিজেন না থাকায় রাত ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান নেওয়াজনে দেখানো হয়।

তিনি বলেন, ডা. শাহজাহান নেওয়াজ পরামর্শ দেন বাচ্চাটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য। পরে ওই চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে চলে যান।

ওই শিশুর বাবা ফয়সাল শুভ আরো বলেন, কিছুক্ষণ অক্সিজেন দেওয়ার পর সিলিন্ডারে অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। এরপর শিশু ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের বলা হয় অন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়ার জন্য। এভাবে কয়েকটি সিলিন্ডার পরিবর্তন করা হয়। রবিবার সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালে এসে দেখি আমার বাচ্চার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। ৮টার দিকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন না পাওয়ায় চোখের সামনেই আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, রাতে বাচ্চাটি হাসপাতালে আনা হয়। তার শারীরিক অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক রংপুরে রেফার্ড করা হয়, কিন্তু তার স্বজনরা বাচ্চাটিকে নিয়ে যাননি। তারপরও আমরা হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেছি বাচ্চাটি দেওয়ার জন্য।

নিরবিচ্ছন্নভাবে অক্সিজেন না পাওয়ায় বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে স্বজনদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা: শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন নেই। এতে আমাদের কোনো ধরনের গাফিলাতি নেই।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৮:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ফালাক নামে ১০ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। রবিবার সকালের দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ওই শিশুর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নাদিরুল আজিজ চপল।

ওই শিশু ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের আশ্রমপাড়া এলাকার ফয়সাল শুভর মেয়ে। ফয়সাল শুভ বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন না পেয়ে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, হৃদরোগ নিয়েই আমার বাচ্চার জন্ম হয়। এ জন্য অল্পতেই তার শ্বাসকষ্ট হয়। ঠান্ডা লাগার কারণে শনিবার রাতে হঠাৎ করে আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাৎক্ষণিক শহরের একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে অক্সিজেন না থাকায় রাত ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান নেওয়াজনে দেখানো হয়।

তিনি বলেন, ডা. শাহজাহান নেওয়াজ পরামর্শ দেন বাচ্চাটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য। পরে ওই চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে চলে যান।

ওই শিশুর বাবা ফয়সাল শুভ আরো বলেন, কিছুক্ষণ অক্সিজেন দেওয়ার পর সিলিন্ডারে অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। এরপর শিশু ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের বলা হয় অন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়ার জন্য। এভাবে কয়েকটি সিলিন্ডার পরিবর্তন করা হয়। রবিবার সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালে এসে দেখি আমার বাচ্চার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। ৮টার দিকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন না পাওয়ায় চোখের সামনেই আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, রাতে বাচ্চাটি হাসপাতালে আনা হয়। তার শারীরিক অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক রংপুরে রেফার্ড করা হয়, কিন্তু তার স্বজনরা বাচ্চাটিকে নিয়ে যাননি। তারপরও আমরা হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেছি বাচ্চাটি দেওয়ার জন্য।

নিরবিচ্ছন্নভাবে অক্সিজেন না পাওয়ায় বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে স্বজনদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা: শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন নেই। এতে আমাদের কোনো ধরনের গাফিলাতি নেই।


প্রিন্ট