ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল

ঘরমুখো যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেই গন্তব্যে রওয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: আজ মঙ্গলবার (৪ জুন) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশনে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেসের এ চিত্র দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে চড়ে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। আবার অনেককেই ইঞ্জিনে চেপেও ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো যাত্রীরা ঢাকা ছাড়ছেন। কিন্তু বাধ সাধে নির্ধারিত ট্রেনগুলো যথাসময়ে স্টেশন থেকে না ছাড়ায়। এর মধ্যে টিকিটের তুলনায় যাত্রী কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা সত্ত্বেও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেই গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন। যারা রাত জেগে কষ্ট করে অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদেরও দুর্ভোগের কমতি ছিল না।

এ দিন ৫৩ মিনিট দেরিতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছে একতা এক্সপ্রেস। কিন্তু রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন থেকেই ট্রেনটি ভেতর ও ছাদ যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল। জায়গা না থাকায় আগে থেকেই ট্রেনের বেশকিছু দরজা বন্ধ করে দেয় ভেতরের যাত্রীরা। বিমানবন্দর স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে না পেরে দরজা ধাক্কাতে থাকেন। জোর করে কিছু যাত্রী উঠতে গেলে ভেতরে যাত্রীরা কেউ কেউ আঘাত পান। আঘাত পেয়ে একজন নারী যাত্রীকে কাঁদতেও দেখা যায়।

ভেতরে উঠতে না পেরে অনেকেই ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে সেখানেও জায়গা হচ্ছিল না অনেকের। এরপরও কিছু যাত্রী জোর করে ছাদে উঠে গেলে জায়গা না পেয়ে স্টেশনের টিনের চালায় আশ্রয় নেন। সেখান থেকে বারবার তারা ট্রেনের ছাদে জায়গার জন্য চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।

এছাড়া ভেতরে ও ছাদে জায়গা না পেয়ে বেশ কয়েকজন ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে এবং ইঞ্জিন বগিতে দাঁড়িয়ে যাত্রা করেন। স্টেশনের অবস্থানরত অন্য গন্তব্যের যাত্রীরা তাদেরকে নামতে বললেও তারা তা কর্ণপাত করেননি।

ট্রেনের ইঞ্জিনে করে যমুনা সেতু পর্যন্ত যাবেন ইউনুস। ইঞ্জিনে উঠেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাদে ওঠার জায়গা নেই।’ তাহলে নেমে পড়েন, এ কথা বললেন তিনি বলেন, ‘যাওয়া লাগবে না?’

ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে একটি ব্যাগসহ বসে থাকা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির কাছে গন্তব্য কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল। এভাবে যাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে রাখেন। এ সময় পাশের একজন জানালেন, বাড়ি যেতে হবে না? ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষেধ রয়েছে জানেন কি না? উত্তরে বলেন, ওই সব তারা বলেই। জীবনের ঝুঁকি আছে জানি। তারপরও আমাদের বাড়ি যেতে হবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

ঘরমুখো যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেই গন্তব্যে রওয়ানা

আপডেট টাইম : ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: আজ মঙ্গলবার (৪ জুন) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশনে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেসের এ চিত্র দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে চড়ে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। আবার অনেককেই ইঞ্জিনে চেপেও ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো যাত্রীরা ঢাকা ছাড়ছেন। কিন্তু বাধ সাধে নির্ধারিত ট্রেনগুলো যথাসময়ে স্টেশন থেকে না ছাড়ায়। এর মধ্যে টিকিটের তুলনায় যাত্রী কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা সত্ত্বেও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেই গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন। যারা রাত জেগে কষ্ট করে অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদেরও দুর্ভোগের কমতি ছিল না।

এ দিন ৫৩ মিনিট দেরিতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছে একতা এক্সপ্রেস। কিন্তু রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন থেকেই ট্রেনটি ভেতর ও ছাদ যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল। জায়গা না থাকায় আগে থেকেই ট্রেনের বেশকিছু দরজা বন্ধ করে দেয় ভেতরের যাত্রীরা। বিমানবন্দর স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে না পেরে দরজা ধাক্কাতে থাকেন। জোর করে কিছু যাত্রী উঠতে গেলে ভেতরে যাত্রীরা কেউ কেউ আঘাত পান। আঘাত পেয়ে একজন নারী যাত্রীকে কাঁদতেও দেখা যায়।

ভেতরে উঠতে না পেরে অনেকেই ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে সেখানেও জায়গা হচ্ছিল না অনেকের। এরপরও কিছু যাত্রী জোর করে ছাদে উঠে গেলে জায়গা না পেয়ে স্টেশনের টিনের চালায় আশ্রয় নেন। সেখান থেকে বারবার তারা ট্রেনের ছাদে জায়গার জন্য চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।

এছাড়া ভেতরে ও ছাদে জায়গা না পেয়ে বেশ কয়েকজন ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে এবং ইঞ্জিন বগিতে দাঁড়িয়ে যাত্রা করেন। স্টেশনের অবস্থানরত অন্য গন্তব্যের যাত্রীরা তাদেরকে নামতে বললেও তারা তা কর্ণপাত করেননি।

ট্রেনের ইঞ্জিনে করে যমুনা সেতু পর্যন্ত যাবেন ইউনুস। ইঞ্জিনে উঠেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাদে ওঠার জায়গা নেই।’ তাহলে নেমে পড়েন, এ কথা বললেন তিনি বলেন, ‘যাওয়া লাগবে না?’

ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে একটি ব্যাগসহ বসে থাকা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির কাছে গন্তব্য কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল। এভাবে যাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে রাখেন। এ সময় পাশের একজন জানালেন, বাড়ি যেতে হবে না? ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষেধ রয়েছে জানেন কি না? উত্তরে বলেন, ওই সব তারা বলেই। জীবনের ঝুঁকি আছে জানি। তারপরও আমাদের বাড়ি যেতে হবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে।


প্রিন্ট