ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল

দুধ পান করার দোয়া

ধর্ম ডেস্ক : দুধ পুষ্টি সমৃদ্ধ তরল খাদ্য। সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী দুধ। এটি তরল খাদ্য হওয়া সত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটিকে খাদ্য এবং পানীয় হিসেবে এভাবে আখ্যায়িত করেছেন যে, ‘একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মতো দুধের বিকল্প কোনো খাবার নেই।’ সে কারণে দুধ পান ও খাবার গ্রহণ সম্পর্কে এক হাদিসে দুইটি দোয়া তুলে ধরেছেন বিশ্বনবি। দোয়া দুইটি কী?

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, আমি ও খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে মাইমুনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গেলাম। আমাদের জন্য তিনি এক পাত্র দুধ নিয়ে এলেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তা থেকে) পান করলেন। আমি (ইবনে আব্বাস) তাঁর ডান পাশে ছিলাম আর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ছিলেন তাঁর বাম পাশে। তিনি (রাসুলুল্লাহ) আমাকে বললেন, এখন তোমার পান করার পালা। তবে তুমি চাইলে তোমার উপর খালিদকে অগ্রাধিকার দিতে পার।
আমি বললাম, আপনার উচ্ছিষ্টে আমি আমার উপর কোনো লোককে অগ্রাধিকার দেব না। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাআলা যাকে খাবার খাওয়ান সে যেন বলে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহি ওয়া আত্বয়িমনা খাইরাম মিনহু।’
‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ খাদ্যে বারাকাত দাও এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাবার খাওয়াও।’
(বিশ্বনবি আরও বলেন) আর আল্লাহ তাআলা যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ ‏
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহি ওয়া যিদনা মিনহু।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং এর চেয়েও বেশি আমাদেরকে দান কর।’
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মতো দুধের বিকল্প কোনো খাবার নেই।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)

এ হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। দুধকে পুষ্টিকর খাবার ও পাণীয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আজকের বিজ্ঞানেও তা প্রমাণিত। ফলে দুধ পানের সময় উল্লেখিত দুইটি দোয়া-ই পড়া উত্তম। তাছাড়া ডান দিক থেকে খাবার গ্রহণ ও পরিবেশনের তাগিদও ওঠে এসেছে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দুধ সামনে আসলে পান করার সময় হাদিসে বর্ণিত দুইটি দোয়া পড়া। দুধ পানে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

দুধ পান করার দোয়া

আপডেট টাইম : ০৫:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১

ধর্ম ডেস্ক : দুধ পুষ্টি সমৃদ্ধ তরল খাদ্য। সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী দুধ। এটি তরল খাদ্য হওয়া সত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটিকে খাদ্য এবং পানীয় হিসেবে এভাবে আখ্যায়িত করেছেন যে, ‘একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মতো দুধের বিকল্প কোনো খাবার নেই।’ সে কারণে দুধ পান ও খাবার গ্রহণ সম্পর্কে এক হাদিসে দুইটি দোয়া তুলে ধরেছেন বিশ্বনবি। দোয়া দুইটি কী?

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, আমি ও খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে মাইমুনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গেলাম। আমাদের জন্য তিনি এক পাত্র দুধ নিয়ে এলেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তা থেকে) পান করলেন। আমি (ইবনে আব্বাস) তাঁর ডান পাশে ছিলাম আর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ছিলেন তাঁর বাম পাশে। তিনি (রাসুলুল্লাহ) আমাকে বললেন, এখন তোমার পান করার পালা। তবে তুমি চাইলে তোমার উপর খালিদকে অগ্রাধিকার দিতে পার।
আমি বললাম, আপনার উচ্ছিষ্টে আমি আমার উপর কোনো লোককে অগ্রাধিকার দেব না। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাআলা যাকে খাবার খাওয়ান সে যেন বলে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহি ওয়া আত্বয়িমনা খাইরাম মিনহু।’
‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ খাদ্যে বারাকাত দাও এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাবার খাওয়াও।’
(বিশ্বনবি আরও বলেন) আর আল্লাহ তাআলা যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ ‏
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহি ওয়া যিদনা মিনহু।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং এর চেয়েও বেশি আমাদেরকে দান কর।’
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মতো দুধের বিকল্প কোনো খাবার নেই।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)

এ হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। দুধকে পুষ্টিকর খাবার ও পাণীয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আজকের বিজ্ঞানেও তা প্রমাণিত। ফলে দুধ পানের সময় উল্লেখিত দুইটি দোয়া-ই পড়া উত্তম। তাছাড়া ডান দিক থেকে খাবার গ্রহণ ও পরিবেশনের তাগিদও ওঠে এসেছে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দুধ সামনে আসলে পান করার সময় হাদিসে বর্ণিত দুইটি দোয়া পড়া। দুধ পানে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


প্রিন্ট