ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

যে কারণে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে গেলেন নিজেদের প্লেনে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনারের বিজি-১৯০১ ফ্লাইটে করে দুটি কারণে নিউইয়র্কে এসেছি বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম কারণ হচ্ছে- অন্য এয়ারলাইন্সের পরিবর্তে দেশি এয়ারলাইন্সকে অর্থ দেওয়া, এতে আমাদের অর্থ আমাদের হাতেই থেকে যায়। দ্বিতীয়ত হলো-প্লেন উড্ডয়ন না করলেও প্রতিদিন একটি বিরাট অংকের টাকা খরচ হয়। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্থগিত রয়েছে। তাই নিজেদের প্লেনে এসেছি।

নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্টের ম্যারিয়ট হোটেলে আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার সরকার ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি কোনো কোনো মানুষকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, তারা বস্তা ও ট্রাংকভর্তি করে নিউইয়র্কে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগকারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন বস্তা ও ট্রাংকগুলো গেল কোথায়?

তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান যে, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে ১৫০টি স্যুটকেসে অর্থভর্তি করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং সৌদি আরবের লকার ভাড়া করে ওই অর্থ রেখেছেন। তার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (লুৎফুজ্জামান) বাবরকে কয়েক লাখ ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারপোর্টে আটক করা হয় এবং পরে বাংলাদেশি দূতাবাসের মধ্যস্থতায় তাকে মুক্ত করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বিদেশে অবস্থানরত কিছু লোক (সরকারের) সমালোচনা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত, এমন সময় তারা এসব করছে, যখন আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। যারা এসব করছে তারা দেশের জনগণের শত্রু।

কেউ যেন দেশে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি ভোগের জন্য নয়, আত্মত্যাগের জন্য। জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কখনও জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেননি, তারা ক্ষমতাকে ভোগ এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে। কিছু মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আমার প্রশ্ন হলো, তারা কীভাবে এ কথাগুলো বলার সুযোগ পায়?

তিনি আরও বলেন, তারা সরকারের তৈরি ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছে। যদি তাদের কোনো আদর্শ থাকে, তারা কখনোই তা করতে পারে না। যারা সরকারের সমালোচনা করছে তারা মূলত বিএনপি-জামায়াত চক্রের কেনা গোলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং হাইকোর্ট তাদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ আত্মসাতের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার ছেলে (তারেক রহমান) ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দুর্নীতিতে তাদের জড়িত থাকার তথ্যপ্রকাশ করেছে এফবিআই।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৯০১ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন শেখ হাসিনা। আগামী ১ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

যে কারণে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে গেলেন নিজেদের প্লেনে

আপডেট টাইম : ০৭:৪১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনারের বিজি-১৯০১ ফ্লাইটে করে দুটি কারণে নিউইয়র্কে এসেছি বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম কারণ হচ্ছে- অন্য এয়ারলাইন্সের পরিবর্তে দেশি এয়ারলাইন্সকে অর্থ দেওয়া, এতে আমাদের অর্থ আমাদের হাতেই থেকে যায়। দ্বিতীয়ত হলো-প্লেন উড্ডয়ন না করলেও প্রতিদিন একটি বিরাট অংকের টাকা খরচ হয়। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্থগিত রয়েছে। তাই নিজেদের প্লেনে এসেছি।

নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্টের ম্যারিয়ট হোটেলে আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার সরকার ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি কোনো কোনো মানুষকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, তারা বস্তা ও ট্রাংকভর্তি করে নিউইয়র্কে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগকারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন বস্তা ও ট্রাংকগুলো গেল কোথায়?

তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান যে, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে ১৫০টি স্যুটকেসে অর্থভর্তি করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং সৌদি আরবের লকার ভাড়া করে ওই অর্থ রেখেছেন। তার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (লুৎফুজ্জামান) বাবরকে কয়েক লাখ ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারপোর্টে আটক করা হয় এবং পরে বাংলাদেশি দূতাবাসের মধ্যস্থতায় তাকে মুক্ত করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বিদেশে অবস্থানরত কিছু লোক (সরকারের) সমালোচনা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত, এমন সময় তারা এসব করছে, যখন আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। যারা এসব করছে তারা দেশের জনগণের শত্রু।

কেউ যেন দেশে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি ভোগের জন্য নয়, আত্মত্যাগের জন্য। জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কখনও জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেননি, তারা ক্ষমতাকে ভোগ এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে। কিছু মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আমার প্রশ্ন হলো, তারা কীভাবে এ কথাগুলো বলার সুযোগ পায়?

তিনি আরও বলেন, তারা সরকারের তৈরি ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছে। যদি তাদের কোনো আদর্শ থাকে, তারা কখনোই তা করতে পারে না। যারা সরকারের সমালোচনা করছে তারা মূলত বিএনপি-জামায়াত চক্রের কেনা গোলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং হাইকোর্ট তাদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ আত্মসাতের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার ছেলে (তারেক রহমান) ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দুর্নীতিতে তাদের জড়িত থাকার তথ্যপ্রকাশ করেছে এফবিআই।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৯০১ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন শেখ হাসিনা। আগামী ১ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


প্রিন্ট