ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

তিস্তায় ৩০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ, কৃষকের সর্বনাশ

৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার ২০ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তায়। এতে পানির নিচে তিস্তার চরাঞ্চল। শত শত মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন কৃষির সবকিছুই গিলে খেয়েছে অকাল ঢলের পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, অন্যান্য বছর এ সময়ে ২ হাজার কিউসেক পানিও আসত না। কদিন পরই গোলায় উঠতো ধান। কিন্তু হঠাৎ ঢলের পানি প্রবেশ করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ডুবে আছে কাঁচা-পাকা ধান। তড়িঘড়ি করে সেটাই কাটতে ব্যস্ত কৃষকরা। পেঁয়াজ, রসুনের অবস্থাও শোচনীয়। পানিতে ভাসছে কুমড়া আর তলিয়ে আছে কাউন ও বাদামের আবাদ।

আন্তঃদেশীয় নদী তিস্তা বাংলাদেশে প্রবেশের পর নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হওয়া পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে প্রায় সোয়া একশ কিলোমিটার। শুষ্ক-মৌসুমে পুরো অববাহিকার দুই ধারে হাজার হাজার বিঘা চরের জমিতে আবাদে জীবিকা নির্বাহ করেন অন্তত ৫০ হাজার পরিবার।

কাঁচা ধান কেবল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্যই পানি থেকে কেটে তুলছেন কৃষক। পেঁয়াজ-রসুন হাটে নিলেও মিলছে না দাম। এতে কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যান্য বছর ২ হাজার কিউসেক পানি না এলেও এবার ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ২০ হাজার কিউসেক পানি তিস্তায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ) আহসান হাবিব। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে পানি প্রবাহের এ পরিবর্তন। চরাঞ্চলের নিচু জমিতে কিছুটা ফসলহানি হয়েছে। আশা করা যায়, পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা থাকবে না। দ্রুতই পানি কমে আসবে।
?

আর তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতোই তিস্তাকে সুরক্ষিত করতে হবে। বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে তিস্তা খনন করতে হবে, সুরক্ষা করতে হবে। তা না হলে এ অঞ্চলের যে দুই কোটি মানুষ তিস্তার ওপর নির্ভরশীল এবং কৃষি বিপন্ন হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

তিস্তায় ৩০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ, কৃষকের সর্বনাশ

আপডেট টাইম : ১২:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২

৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার ২০ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তায়। এতে পানির নিচে তিস্তার চরাঞ্চল। শত শত মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন কৃষির সবকিছুই গিলে খেয়েছে অকাল ঢলের পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, অন্যান্য বছর এ সময়ে ২ হাজার কিউসেক পানিও আসত না। কদিন পরই গোলায় উঠতো ধান। কিন্তু হঠাৎ ঢলের পানি প্রবেশ করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ডুবে আছে কাঁচা-পাকা ধান। তড়িঘড়ি করে সেটাই কাটতে ব্যস্ত কৃষকরা। পেঁয়াজ, রসুনের অবস্থাও শোচনীয়। পানিতে ভাসছে কুমড়া আর তলিয়ে আছে কাউন ও বাদামের আবাদ।

আন্তঃদেশীয় নদী তিস্তা বাংলাদেশে প্রবেশের পর নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হওয়া পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে প্রায় সোয়া একশ কিলোমিটার। শুষ্ক-মৌসুমে পুরো অববাহিকার দুই ধারে হাজার হাজার বিঘা চরের জমিতে আবাদে জীবিকা নির্বাহ করেন অন্তত ৫০ হাজার পরিবার।

কাঁচা ধান কেবল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্যই পানি থেকে কেটে তুলছেন কৃষক। পেঁয়াজ-রসুন হাটে নিলেও মিলছে না দাম। এতে কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যান্য বছর ২ হাজার কিউসেক পানি না এলেও এবার ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ২০ হাজার কিউসেক পানি তিস্তায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ) আহসান হাবিব। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে পানি প্রবাহের এ পরিবর্তন। চরাঞ্চলের নিচু জমিতে কিছুটা ফসলহানি হয়েছে। আশা করা যায়, পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা থাকবে না। দ্রুতই পানি কমে আসবে।
?

আর তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতোই তিস্তাকে সুরক্ষিত করতে হবে। বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে তিস্তা খনন করতে হবে, সুরক্ষা করতে হবে। তা না হলে এ অঞ্চলের যে দুই কোটি মানুষ তিস্তার ওপর নির্ভরশীল এবং কৃষি বিপন্ন হবে।


প্রিন্ট