ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

অপহৃত শিশুকে ৩ বছর পর ফিরে পেল পরিবার

৩ বছর আগে টট্টগ্রামের বাকলিয়ার বগারবিল এলাকায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তি অপহরণ করে আট বছরের শিশু মো. সিয়ামকে। পরে অপহরণকারীর কাছ থেকে পালিয়ে গেলেও বাড়ির ঠিকানা মনে করতে না পারায় আর পরিবারের কাছে ফিরতে পারেনি শিশুটি। তিন বছর ধরে মো. সিয়াম কেরানীগঞ্জের পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছিল।

সম্প্রতি সিয়ামের পরিবারের এক প্রতিবেশী হারানো বিজ্ঞপ্তি দেখে তাকে চাঁদপুরে দেখার কথা জানায়। সেই সূত্র ধরে চট্টগ্রামের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে উদ্ধার করে বুধবার পরিবারের কাছে সিয়ামকে হস্তান্তর করে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় বাকলিয়া থানাধীন বাসার সামনে থেকে অপহরণের শিকার হয় প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. সিয়াম। এ ঘটনায় তার মা ইয়াছমিন বেগম বাকলিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। ঐ সময় অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর মাকে ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ৪০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলে শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

বাকলিয়া থানা পুলিশ অপহরণের সঙ্গে জড়িত মো. নাছির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। সে অপহরণের কথা স্বীকার করলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে এ মামলার তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের কাছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার নাছির পিবিআইকে জানান, নাছির ও শিশুটির পরিবার বাকলিয়া থানাধীন একই কলোনিতে বসবাস করতেন। নাছির ঋণগ্রস্ত ছিলেন। সিয়ামকে মার্বেল কিনে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায় করে ঋণের টাকা পরিশোধ করা। অপহরণের পর সিয়ামকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় নেয়ার পর সিয়ামকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন নাছির। এক পর্যায়ে সিয়াম কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরে সিয়াম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন উত্তর পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল এলাকা সংলগ্ন আল আমিন রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। তখন আল আমিন রেস্টুরেন্টের মালিক তাকে রেস্টুরেন্টের কাজে রাখে। রেস্টুরেন্টের মালিক শিশুটির কাছ থেকে বাবা-মায়ের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে তথ্য দিতে পারেনি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

অপহৃত শিশুকে ৩ বছর পর ফিরে পেল পরিবার

আপডেট টাইম : ০৮:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অগাস্ট ২০২২

৩ বছর আগে টট্টগ্রামের বাকলিয়ার বগারবিল এলাকায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তি অপহরণ করে আট বছরের শিশু মো. সিয়ামকে। পরে অপহরণকারীর কাছ থেকে পালিয়ে গেলেও বাড়ির ঠিকানা মনে করতে না পারায় আর পরিবারের কাছে ফিরতে পারেনি শিশুটি। তিন বছর ধরে মো. সিয়াম কেরানীগঞ্জের পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছিল।

সম্প্রতি সিয়ামের পরিবারের এক প্রতিবেশী হারানো বিজ্ঞপ্তি দেখে তাকে চাঁদপুরে দেখার কথা জানায়। সেই সূত্র ধরে চট্টগ্রামের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে উদ্ধার করে বুধবার পরিবারের কাছে সিয়ামকে হস্তান্তর করে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় বাকলিয়া থানাধীন বাসার সামনে থেকে অপহরণের শিকার হয় প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. সিয়াম। এ ঘটনায় তার মা ইয়াছমিন বেগম বাকলিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। ঐ সময় অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর মাকে ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ৪০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলে শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

বাকলিয়া থানা পুলিশ অপহরণের সঙ্গে জড়িত মো. নাছির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। সে অপহরণের কথা স্বীকার করলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে এ মামলার তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের কাছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার নাছির পিবিআইকে জানান, নাছির ও শিশুটির পরিবার বাকলিয়া থানাধীন একই কলোনিতে বসবাস করতেন। নাছির ঋণগ্রস্ত ছিলেন। সিয়ামকে মার্বেল কিনে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায় করে ঋণের টাকা পরিশোধ করা। অপহরণের পর সিয়ামকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় নেয়ার পর সিয়ামকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন নাছির। এক পর্যায়ে সিয়াম কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরে সিয়াম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন উত্তর পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল এলাকা সংলগ্ন আল আমিন রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। তখন আল আমিন রেস্টুরেন্টের মালিক তাকে রেস্টুরেন্টের কাজে রাখে। রেস্টুরেন্টের মালিক শিশুটির কাছ থেকে বাবা-মায়ের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে তথ্য দিতে পারেনি।


প্রিন্ট