ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

২১ আগস্টের ভয়াবহতায় আজও আঁতকে ওঠেন শিল্পমন্ত্রী

আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিশাল জনস্রোত। চলছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর জঙ্গিবাদবিরোধী’ জনসভা। বিরোধী দলীয় নেত্রী বক্তৃতা শেষ করে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে নামছিলেন। ঠিক সে সময়ে বিকট আওয়াজে একের পর এক গ্রেনেড আর গুলির আওয়াজ। চারদিক ধোঁয়াটে। এখানে সেখানে বিছিয়ে পড়েছিল প্রাণোচ্ছল জনপ্রিয় নেতানেত্রীদের লাশ, ছিন্নভিন্ন হাত-পা, রক্ত মাংসের স্তুপ, হামলায় মৃতপ্রায় মানুষদের নিথর দেহ, আহতদের করুণ আর্তনাদ, স্বজন ও কর্মীদের আকাশ-বাতাস কাঁপানো কান্না, অসহায়দের মতো পাকা মাটিতে পড়ে কাতরানো দেশসেরা রাজনীতিবিদের করুণ অবস্থা, এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করেছিল সেদিন।

২০০৪ সালের সে ভয়াবহ হামলায় মারা গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী। গুরুতর আহতদের অনেকেই স্প্রিন্টারের ভয়াবহ বেদনা নিয়ে পরবর্তীতে মারা গিয়েছিলেন।

সেদিনের হামলায় যারা আহত অবস্থা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তারা আজও আঁতকে ওঠেন ভয়াবহতার স্মৃতিচারণ করে। তাদের একজন নরসিংদী-৪ (বেলাবো-মনোহরদী) আসনের এমপি ও শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

মঞ্চ থেকে একটু দূরে অবস্থান করলেও গ্রেনেড তাকে ছাড়েনি। নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটু দেরিতে আসা বর্তমান শিল্পমন্ত্রী মানবপ্রাচীরে অংশ নেন। মুহূর্তেই একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ হতে থাকে এবং ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়।

কোনরকমে নেত্রীকে গাড়িতে তুলে নিরাপদ করেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে মন্ত্রীপুত্র মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজো তিনি সেই বিভৎসতার কথা স্মরণ করে আঁতকে ওঠেন।

শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের মতো আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা, হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড ও গুলি করার কারণ ছিল শেখ হাসিনা, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার মাধ্যমে কুরাজনীতি চালু করে ক্ষমতায় থাকতে। বাবর তারেকের সরাসরি যোগসাজশে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। সেদিনের সেই ভয়াবহতা আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

২১ আগস্টের ভয়াবহতায় আজও আঁতকে ওঠেন শিল্পমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৮:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিশাল জনস্রোত। চলছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর জঙ্গিবাদবিরোধী’ জনসভা। বিরোধী দলীয় নেত্রী বক্তৃতা শেষ করে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে নামছিলেন। ঠিক সে সময়ে বিকট আওয়াজে একের পর এক গ্রেনেড আর গুলির আওয়াজ। চারদিক ধোঁয়াটে। এখানে সেখানে বিছিয়ে পড়েছিল প্রাণোচ্ছল জনপ্রিয় নেতানেত্রীদের লাশ, ছিন্নভিন্ন হাত-পা, রক্ত মাংসের স্তুপ, হামলায় মৃতপ্রায় মানুষদের নিথর দেহ, আহতদের করুণ আর্তনাদ, স্বজন ও কর্মীদের আকাশ-বাতাস কাঁপানো কান্না, অসহায়দের মতো পাকা মাটিতে পড়ে কাতরানো দেশসেরা রাজনীতিবিদের করুণ অবস্থা, এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করেছিল সেদিন।

২০০৪ সালের সে ভয়াবহ হামলায় মারা গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী। গুরুতর আহতদের অনেকেই স্প্রিন্টারের ভয়াবহ বেদনা নিয়ে পরবর্তীতে মারা গিয়েছিলেন।

সেদিনের হামলায় যারা আহত অবস্থা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তারা আজও আঁতকে ওঠেন ভয়াবহতার স্মৃতিচারণ করে। তাদের একজন নরসিংদী-৪ (বেলাবো-মনোহরদী) আসনের এমপি ও শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

মঞ্চ থেকে একটু দূরে অবস্থান করলেও গ্রেনেড তাকে ছাড়েনি। নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটু দেরিতে আসা বর্তমান শিল্পমন্ত্রী মানবপ্রাচীরে অংশ নেন। মুহূর্তেই একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ হতে থাকে এবং ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়।

কোনরকমে নেত্রীকে গাড়িতে তুলে নিরাপদ করেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে মন্ত্রীপুত্র মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজো তিনি সেই বিভৎসতার কথা স্মরণ করে আঁতকে ওঠেন।

শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের মতো আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা, হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড ও গুলি করার কারণ ছিল শেখ হাসিনা, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার মাধ্যমে কুরাজনীতি চালু করে ক্ষমতায় থাকতে। বাবর তারেকের সরাসরি যোগসাজশে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। সেদিনের সেই ভয়াবহতা আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।


প্রিন্ট