ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

সেই জজ মিয়া বাস্তবে চাইলেন বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টার কমতি ছিল না তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের। সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। তবে ধোপে টেকেনি সেই আষাঢ়ে গল্প। ফাঁস হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়ভীতি ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে আদায় করা হয়েছিল জজ মিয়ার মিথ্যা জবানবন্দি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে তার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে এ নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে যান।

তবে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন এতে নিহত হন। এ ছাড়া এ হামলায় আরও ৪০০ জন আহত হন। তাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।

আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলার পর প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি। মতিঝিল এবং রমনা থানা ঘুরে হয়রান আওয়ামী লীগ নেতারা। বিচারপতি জয়নুল আবেদিনকে দিয়ে এক সদস্যদের বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করে সাজানো হয় অবাস্তব নাটক।

২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ ধেকে ধরে আনা হয় জজ মিয়া নামের এক যুবককে। ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে, ভয়ভীতি ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি সাজানো জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি।

২০০৫ সালের ২৬ জুন আদালতে দেয়া কথিত জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলতে বাধ্য হন, পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন।

২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়া ছোট বোন খোরশেদা বেগম। তিনি জানান, জজ মিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকেই সিআইডি তার পরিবারকে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছিল। বের হয়ে আসে থলের বেড়াল। আসামি থেকে জজ মিয়া হন মামলার সাক্ষী।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এ মামলার তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন এ সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অব্যাহতি দেয়া হয় জোট সরকারের আমলে গ্রেফতার হওয়া জজ মিয়া, পার্থসহ ২০ জনকে।

কোনো অপরাধ না করেও চার বছর জজ মিয়াকে কাটাতে হয় কারাগারে। তাই মিথ্যা স্বীকারোক্তি নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান জজ মিয়া।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

সেই জজ মিয়া বাস্তবে চাইলেন বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ

আপডেট টাইম : ০৯:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টার কমতি ছিল না তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের। সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। তবে ধোপে টেকেনি সেই আষাঢ়ে গল্প। ফাঁস হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়ভীতি ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে আদায় করা হয়েছিল জজ মিয়ার মিথ্যা জবানবন্দি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে তার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে এ নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে যান।

তবে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন এতে নিহত হন। এ ছাড়া এ হামলায় আরও ৪০০ জন আহত হন। তাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।

আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলার পর প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি। মতিঝিল এবং রমনা থানা ঘুরে হয়রান আওয়ামী লীগ নেতারা। বিচারপতি জয়নুল আবেদিনকে দিয়ে এক সদস্যদের বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করে সাজানো হয় অবাস্তব নাটক।

২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ ধেকে ধরে আনা হয় জজ মিয়া নামের এক যুবককে। ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে, ভয়ভীতি ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি সাজানো জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি।

২০০৫ সালের ২৬ জুন আদালতে দেয়া কথিত জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলতে বাধ্য হন, পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন।

২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়া ছোট বোন খোরশেদা বেগম। তিনি জানান, জজ মিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকেই সিআইডি তার পরিবারকে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছিল। বের হয়ে আসে থলের বেড়াল। আসামি থেকে জজ মিয়া হন মামলার সাক্ষী।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এ মামলার তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন এ সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অব্যাহতি দেয়া হয় জোট সরকারের আমলে গ্রেফতার হওয়া জজ মিয়া, পার্থসহ ২০ জনকে।

কোনো অপরাধ না করেও চার বছর জজ মিয়াকে কাটাতে হয় কারাগারে। তাই মিথ্যা স্বীকারোক্তি নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান জজ মিয়া।


প্রিন্ট