ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

‘এক দিন স্কুলে না যাওয়ায় ৫০০ বার কান ধরে উঠবস’

টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) একাধিক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও কান ধরে উঠবস করিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে এক সহকারী নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা রোববার (২৮ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, টাঙ্গাইল শিশু পরিবারে ৮৩ জন এতিম শিশু আছে। এছাড়া একজন বৃদ্ধাও রয়েছেন। ৮২ জন শিশু বাইরের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শিশু পরিবারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক বুশরাত জাহান সম্প্রতি এক দিন বিদ্যালয়ে না যাওয়ার অভিযোগে একাধিক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করেন।

এ সময় শিশুদের কানধরে উঠবসও করানো হয়। শিশুরা প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে বেত্রাঘাতে কয়েক শিশু অসুস্থ হয়েছে বলেও জানা গেছে। একপর্যায়ে রোববার একাধিক শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে মৌখিকভাবে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা এতিম। তাই সরকারি শিশু পরিবারে থাকি এবং পাশের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে আবার এ কার্যালয়ে ফিরে আসি। এখানে শিক্ষকরা আমাদের দেখভাল করেন। এক দিন বিদ্যালয়ে না যাওয়ার কারণে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক বুশরাত জাহান আমাদের একাধিকবার বেত্রাঘাত করেন। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়াও ৫০০ বার কান ধরে উঠবস করিয়েছেন।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বুশরাত জাহান বলেন, ‘আমি তাদের ভালোর জন্যই শাসন করেছি। এ ধরনের ভুল আমার আর হবে না।’

টাঙ্গাইল সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছিল। পরে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল মাত্র। এখন সমাধান হয়েছে।’ এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি জানান, শিশুরা অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

‘এক দিন স্কুলে না যাওয়ায় ৫০০ বার কান ধরে উঠবস’

আপডেট টাইম : ০৮:৩৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২

টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) একাধিক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও কান ধরে উঠবস করিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে এক সহকারী নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা রোববার (২৮ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, টাঙ্গাইল শিশু পরিবারে ৮৩ জন এতিম শিশু আছে। এছাড়া একজন বৃদ্ধাও রয়েছেন। ৮২ জন শিশু বাইরের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শিশু পরিবারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক বুশরাত জাহান সম্প্রতি এক দিন বিদ্যালয়ে না যাওয়ার অভিযোগে একাধিক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করেন।

এ সময় শিশুদের কানধরে উঠবসও করানো হয়। শিশুরা প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে বেত্রাঘাতে কয়েক শিশু অসুস্থ হয়েছে বলেও জানা গেছে। একপর্যায়ে রোববার একাধিক শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে মৌখিকভাবে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা এতিম। তাই সরকারি শিশু পরিবারে থাকি এবং পাশের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে আবার এ কার্যালয়ে ফিরে আসি। এখানে শিক্ষকরা আমাদের দেখভাল করেন। এক দিন বিদ্যালয়ে না যাওয়ার কারণে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক বুশরাত জাহান আমাদের একাধিকবার বেত্রাঘাত করেন। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়াও ৫০০ বার কান ধরে উঠবস করিয়েছেন।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বুশরাত জাহান বলেন, ‘আমি তাদের ভালোর জন্যই শাসন করেছি। এ ধরনের ভুল আমার আর হবে না।’

টাঙ্গাইল সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছিল। পরে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল মাত্র। এখন সমাধান হয়েছে।’ এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি জানান, শিশুরা অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


প্রিন্ট