ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২

লালমনিরহাটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ৮টার দিকে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি এরশাদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লালমনিরহাট সদর উপজেলার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মকবুল হোসেনের ছেলে সামসুল হোসেন বাবলু এবং একই এলাকার আবুল হোসেন সরকারের ছেলে তসলিম উদ্দিন সরকার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা সন্তানদের নিয়ে তার ভাইয়ের বাড়িতে বসবাস করেন। তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঐ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্রতিবেশী হাফিজুল ইসলাম। প্রেমের এক মাস যেতে না যেতেই তাকে কেনাকাটা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাটে নিয়ে যান হাফিজুল।

লালমনিরহাটে নিয়ে আসার পর তাকে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য বাবলু নামক এক ব্যক্তির হাতে তাকে তুলে দেন। বাবলু শহরের স্টেডিয়ামপাড়ায় তার ভাই নুরুজ্জামানের বাসায় নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে তাকে একটি গাড়িতে ঢাকায় পাঠান।

লালমনিরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীকে ফরিদপুরের এক নারী পাচারকারী সদস্যের কাছে পাঠানোর জন্য ঢাকায় পাঠানোর কথাও স্বীকার করেছেন তারা। ঐ ব্যক্তি তাকে ঢাকার গাবতলীতে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে রাতেই এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ধর্ষকদের চিহ্নিত ও ঘটনাস্থল নিশ্চিত হওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা করার পর ঐ রাতেই দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, মেয়েটিকে পাচার করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২

আপডেট টাইম : ০৮:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

লালমনিরহাটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ৮টার দিকে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি এরশাদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লালমনিরহাট সদর উপজেলার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মকবুল হোসেনের ছেলে সামসুল হোসেন বাবলু এবং একই এলাকার আবুল হোসেন সরকারের ছেলে তসলিম উদ্দিন সরকার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা সন্তানদের নিয়ে তার ভাইয়ের বাড়িতে বসবাস করেন। তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঐ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্রতিবেশী হাফিজুল ইসলাম। প্রেমের এক মাস যেতে না যেতেই তাকে কেনাকাটা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাটে নিয়ে যান হাফিজুল।

লালমনিরহাটে নিয়ে আসার পর তাকে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য বাবলু নামক এক ব্যক্তির হাতে তাকে তুলে দেন। বাবলু শহরের স্টেডিয়ামপাড়ায় তার ভাই নুরুজ্জামানের বাসায় নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে তাকে একটি গাড়িতে ঢাকায় পাঠান।

লালমনিরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীকে ফরিদপুরের এক নারী পাচারকারী সদস্যের কাছে পাঠানোর জন্য ঢাকায় পাঠানোর কথাও স্বীকার করেছেন তারা। ঐ ব্যক্তি তাকে ঢাকার গাবতলীতে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে রাতেই এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ধর্ষকদের চিহ্নিত ও ঘটনাস্থল নিশ্চিত হওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা করার পর ঐ রাতেই দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, মেয়েটিকে পাচার করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


প্রিন্ট