ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬০ বছর পর পৃথিবীর কাছাকাছি বৃহস্পতি

প্রায় ৬০ বছর পর সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি পৃথিবীর খুব কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ফলে পৃথিবী থেকে বৃহস্পতিকে অনেক স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল দেখায়। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এটি একটি মহাজাগতিক বিরল ঘটনা।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সারা রাতই আকাশে দেখা যায় বৃহস্পতিকে। সূর্য এবং বৃহস্পতি উভয়ে একই দিকে ছিল, পৃথিবীর বিপরীতে। ফলে, সূর্যের মতোই পৃথিবীর নিয়ম সাপেক্ষে বৃহস্পতিও পূর্ব দিকে ওঠে, পশ্চিমে অস্ত যায়।

নাসার দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই দিন চাঁদ ছাড়া আকাশের অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে বৃহস্পতিকেই সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখা যায়। তবে পৃথিবী থেকে খালি চোখে কেউ বৃহস্পতিকে দেখতে পায়নি। গ্রহটি দেখতে টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে হয়।

এদিন পৃথিবী ও বৃহস্পতির মধ্যে দূরত্ব কমে দাঁড়ায় ৫৮ কোটি কিলোমিটার। স্বাভাবিক অবস্থায় এ দূরত্ব থাকে ৯৬ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৫৯২.৬৯ মিলিয়ন কিলোমিটার। কিন্তু এদিন পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব ছিল সবচেয়ে কম মাত্র ৩৬৫ মিলিয়ন কিলোমিটার।

বৃহস্পতির এ রকম পৃথিবীর নিকটবর্তী হওয়ার ঘটনাটি মহাজাগতিক বলে জানিয়েছেন নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষণারত জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডাম কোবেলস্কি।

এর আগে ১৯৬৩ সালে পৃথিবী থেকে গ্রহটিকে দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতি গ্রহটি সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় গ্রহ। বৃহস্পতির ব্যাস ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ গুণ বড়। সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার। বৃহস্পতি গ্রহের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং সামান্য পরিমাণ হিলিয়াম।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

৬০ বছর পর পৃথিবীর কাছাকাছি বৃহস্পতি

আপডেট টাইম : ০৯:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রায় ৬০ বছর পর সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি পৃথিবীর খুব কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ফলে পৃথিবী থেকে বৃহস্পতিকে অনেক স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল দেখায়। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এটি একটি মহাজাগতিক বিরল ঘটনা।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সারা রাতই আকাশে দেখা যায় বৃহস্পতিকে। সূর্য এবং বৃহস্পতি উভয়ে একই দিকে ছিল, পৃথিবীর বিপরীতে। ফলে, সূর্যের মতোই পৃথিবীর নিয়ম সাপেক্ষে বৃহস্পতিও পূর্ব দিকে ওঠে, পশ্চিমে অস্ত যায়।

নাসার দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই দিন চাঁদ ছাড়া আকাশের অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে বৃহস্পতিকেই সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখা যায়। তবে পৃথিবী থেকে খালি চোখে কেউ বৃহস্পতিকে দেখতে পায়নি। গ্রহটি দেখতে টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে হয়।

এদিন পৃথিবী ও বৃহস্পতির মধ্যে দূরত্ব কমে দাঁড়ায় ৫৮ কোটি কিলোমিটার। স্বাভাবিক অবস্থায় এ দূরত্ব থাকে ৯৬ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৫৯২.৬৯ মিলিয়ন কিলোমিটার। কিন্তু এদিন পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব ছিল সবচেয়ে কম মাত্র ৩৬৫ মিলিয়ন কিলোমিটার।

বৃহস্পতির এ রকম পৃথিবীর নিকটবর্তী হওয়ার ঘটনাটি মহাজাগতিক বলে জানিয়েছেন নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষণারত জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডাম কোবেলস্কি।

এর আগে ১৯৬৩ সালে পৃথিবী থেকে গ্রহটিকে দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতি গ্রহটি সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় গ্রহ। বৃহস্পতির ব্যাস ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ গুণ বড়। সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার। বৃহস্পতি গ্রহের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং সামান্য পরিমাণ হিলিয়াম।


প্রিন্ট