ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

দাদনের ফাঁদে সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ

রাজশাহীর বাগমারায় ভুয়া এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ। অনুমোদনহীন এসব এনজিও গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে গেলে মামলা, হামলা, জমার কাগজপত্র আটকে রাখাসহ নানা হয়রানির শিকার হন অভিযোগকারীরা। এসব সমিতির উদ্যোক্তারা প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায় ভুক্তভোগীরা।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গনিপুর গ্রামের আশরাফুলের অভিযোগ, চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প জমা দিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন ঋণ। পরে সমুদয় পাওনা পরিশোধ করেও ফেরত পাননি জমা দেয়া চেকসহ কাগজপত্র। এ নিয়ে তিনি মামলা করলে প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ীরা উল্টো তার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা ৫টি মামলা করেন।

ঋণগ্রহীতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, দাদন ব্যবসায়ীরা সমিতি চালায়; কিন্তু কোনো লাইসেন্স নেই। ওরা শুধু সুদ নেয়। টাকা ফেরত দিলেও জমা দেয়া চেকসহ কাগজপত্র ফেরত দেয় না।

শুধু আশরাফুল নয়, প্রতিটি উপজেলায় তার মতো অনেকেই ভুয়া এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনুমোদনহীন কথিত এনজিওর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে গেলে মামলা, হামলা, জমা করা কাগজপত্র আটকে রাখাসহ নানা হয়রানির স্বীকার হন তারা। অনেক ভুয়া এনজিও রাতারাতি গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

কোটি কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনা করলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি নামে বেনামি পরিচালিত সমিতিগুলো। আবার অনেকে সময় সংবাদের ক্যামেরা দেখে সটকে পড়েন।

বাগমারার পান উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, পান উৎপাদনকারী সমবায় সমিতিটি প্রস্তাবিত; তবে আমরা কেউ বসতে পারি না।

রাজশাহীর কানপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বলেন, আমার দাদন ব্যবসা করার তো কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমি পেশায় শিক্ষক; সেটাই করি।

রাজশাহী সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ড. আব্দুল্লা আল ফিরোজ বলেন, অনুমোদনহীন এনজিওগুলো সবার সমন্বিত প্রয়াসে বন্ধে দরকার।

সমাজসেবা অধিদফতরে তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ১৮০টি। এর মধ্যে ৭৬৭টি এনজিও এখন সক্রিয় আছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

দাদনের ফাঁদে সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ

আপডেট টাইম : ০৯:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২

রাজশাহীর বাগমারায় ভুয়া এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ। অনুমোদনহীন এসব এনজিও গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে গেলে মামলা, হামলা, জমার কাগজপত্র আটকে রাখাসহ নানা হয়রানির শিকার হন অভিযোগকারীরা। এসব সমিতির উদ্যোক্তারা প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায় ভুক্তভোগীরা।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গনিপুর গ্রামের আশরাফুলের অভিযোগ, চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প জমা দিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন ঋণ। পরে সমুদয় পাওনা পরিশোধ করেও ফেরত পাননি জমা দেয়া চেকসহ কাগজপত্র। এ নিয়ে তিনি মামলা করলে প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ীরা উল্টো তার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা ৫টি মামলা করেন।

ঋণগ্রহীতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, দাদন ব্যবসায়ীরা সমিতি চালায়; কিন্তু কোনো লাইসেন্স নেই। ওরা শুধু সুদ নেয়। টাকা ফেরত দিলেও জমা দেয়া চেকসহ কাগজপত্র ফেরত দেয় না।

শুধু আশরাফুল নয়, প্রতিটি উপজেলায় তার মতো অনেকেই ভুয়া এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনুমোদনহীন কথিত এনজিওর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে গেলে মামলা, হামলা, জমা করা কাগজপত্র আটকে রাখাসহ নানা হয়রানির স্বীকার হন তারা। অনেক ভুয়া এনজিও রাতারাতি গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

কোটি কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনা করলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি নামে বেনামি পরিচালিত সমিতিগুলো। আবার অনেকে সময় সংবাদের ক্যামেরা দেখে সটকে পড়েন।

বাগমারার পান উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, পান উৎপাদনকারী সমবায় সমিতিটি প্রস্তাবিত; তবে আমরা কেউ বসতে পারি না।

রাজশাহীর কানপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বলেন, আমার দাদন ব্যবসা করার তো কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমি পেশায় শিক্ষক; সেটাই করি।

রাজশাহী সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ড. আব্দুল্লা আল ফিরোজ বলেন, অনুমোদনহীন এনজিওগুলো সবার সমন্বিত প্রয়াসে বন্ধে দরকার।

সমাজসেবা অধিদফতরে তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ১৮০টি। এর মধ্যে ৭৬৭টি এনজিও এখন সক্রিয় আছে।


প্রিন্ট