ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিকৃত যৌন ভিডিও চ্যাটিং ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিকৃত যৌন ভিডিও চ্যাটিং ভাইরাল হয়ে এখন ফেসবুক আর ইউটিউবে ঘুরছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিব্রত। ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ জনগণ, ধর্মপ্রাণ মানুষ আর সুশীল সমাজও। পৌরপিতার বিকৃত যৌনাচার প্রকাশ্যে আসায় পৌরসভার কর্মকর্তা, কর্মচারী আর স্থানীয় প্রশসানেও মেয়র সাইফারকে নিয়ে নানামুখী কানাঘুষা চলছে।
যদিও মেয়র সাইফার ভিডিওটি সুপার এডিট করে তাকে মানুষের কাছে ছোট করার চক্রান্ত বলে দাবি করছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেয়র সাইফার ভিডিও চ্যাটিংয়ে তার বিশেষ অঙ্গ প্রদর্শন করছেন একজন নারীকে। ওই নারী তার শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ আবার আওয়ামী লীগ নেতা সাইফারকে প্রদর্শন করছেন। উভয়ে যৌন উত্তেজক কথাবার্তাও বলছেন।
হঠাৎ এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ভাবে ক্ষোভ ও বিব্রতকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
থানা আওয়ামী লীগের একজন সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়র সাইফার বরাবরই বেপরোয়া। তার আয়ের কোনো বৈধ উৎসই নেই। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের টেন্ডার থেকে ১০-১৫ শতাংশ কমিশন নেন প্রকাশ্যে। বৈধ আয় না থাকা সত্ত্বেও তার বিশাল পাঁচতলা অট্টালিকা, গাড়ি আর অঢেল সম্পত্তিই তার বেহিসেবি জীবনযাপনের উদাহরণ।
থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদুল হাসান আলাপকালে এই প্রতিনিধিকে বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়রের যৌন ভিডিও দেখে তারা মর্মাহত হয়েছেন। এটি আওয়ামী লীগ ও জনগণের জন্য লজ্জা।
প্রসঙ্গত, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র সাইফারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ২০২০ সাল থেকে অনুসন্ধান চলছে (নথি নং-১১৯/২০২০)। এই অনুসন্ধান এখনো চলমান।
মেয়র সাইফার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে অসহায় আলফাডাঙ্গার স্থানীয় জনগণ। মেয়রের দুই ভাই জাপান ও ওসমান মোল্যার বিরুদ্ধেও মাদক বাণিজ্য, অবৈধ অস্ত্রবহনসহ অসংখ্য অভিযোগ আছে। এমনকি পুলিশকে মারধর ও সাংবাদিক নির্যাতনের মামলাও আছে।
কিছুদিন আগে মেয়র সাইফারের ভাই জাপানকে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকা থেকে র্যা ব গ্রেপ্তার করে। আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা নং-০৩, তারিখ-২.৮.২০২২। সম্প্রতি এই মামলায় (ধারা ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬) তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে আলফা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো রকম মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।r


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিকৃত যৌন ভিডিও চ্যাটিং ভাইরাল

আপডেট টাইম : ০৫:২১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিকৃত যৌন ভিডিও চ্যাটিং ভাইরাল হয়ে এখন ফেসবুক আর ইউটিউবে ঘুরছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিব্রত। ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ জনগণ, ধর্মপ্রাণ মানুষ আর সুশীল সমাজও। পৌরপিতার বিকৃত যৌনাচার প্রকাশ্যে আসায় পৌরসভার কর্মকর্তা, কর্মচারী আর স্থানীয় প্রশসানেও মেয়র সাইফারকে নিয়ে নানামুখী কানাঘুষা চলছে।
যদিও মেয়র সাইফার ভিডিওটি সুপার এডিট করে তাকে মানুষের কাছে ছোট করার চক্রান্ত বলে দাবি করছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেয়র সাইফার ভিডিও চ্যাটিংয়ে তার বিশেষ অঙ্গ প্রদর্শন করছেন একজন নারীকে। ওই নারী তার শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ আবার আওয়ামী লীগ নেতা সাইফারকে প্রদর্শন করছেন। উভয়ে যৌন উত্তেজক কথাবার্তাও বলছেন।
হঠাৎ এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ভাবে ক্ষোভ ও বিব্রতকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
থানা আওয়ামী লীগের একজন সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়র সাইফার বরাবরই বেপরোয়া। তার আয়ের কোনো বৈধ উৎসই নেই। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের টেন্ডার থেকে ১০-১৫ শতাংশ কমিশন নেন প্রকাশ্যে। বৈধ আয় না থাকা সত্ত্বেও তার বিশাল পাঁচতলা অট্টালিকা, গাড়ি আর অঢেল সম্পত্তিই তার বেহিসেবি জীবনযাপনের উদাহরণ।
থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদুল হাসান আলাপকালে এই প্রতিনিধিকে বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়রের যৌন ভিডিও দেখে তারা মর্মাহত হয়েছেন। এটি আওয়ামী লীগ ও জনগণের জন্য লজ্জা।
প্রসঙ্গত, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র সাইফারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ২০২০ সাল থেকে অনুসন্ধান চলছে (নথি নং-১১৯/২০২০)। এই অনুসন্ধান এখনো চলমান।
মেয়র সাইফার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে অসহায় আলফাডাঙ্গার স্থানীয় জনগণ। মেয়রের দুই ভাই জাপান ও ওসমান মোল্যার বিরুদ্ধেও মাদক বাণিজ্য, অবৈধ অস্ত্রবহনসহ অসংখ্য অভিযোগ আছে। এমনকি পুলিশকে মারধর ও সাংবাদিক নির্যাতনের মামলাও আছে।
কিছুদিন আগে মেয়র সাইফারের ভাই জাপানকে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকা থেকে র্যা ব গ্রেপ্তার করে। আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা নং-০৩, তারিখ-২.৮.২০২২। সম্প্রতি এই মামলায় (ধারা ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬) তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে আলফা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো রকম মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।r


প্রিন্ট