ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ

‘পুরো পৃথিবী এক দিকে, আর আমি অন্য দিক/সবাই বলে করছ ভুল, আর তোরা বলিস ঠিক/তোরা ছিলি, তোরা আছিস/জানি তোরাই থাকবি/বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’ শিল্পী তপুর গাওয়া গানটা মনে পড়ে? বন্ধুত্ব ঠিক যেন এমনই। মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্ধুত্বকে উদ্‌যাপন করেছে।

ফ্রেন্ডশিপ ডে ওয়েবসাইট-এর তথ্য অনুযায়ী, বন্ধু দিবসের প্রচলন শুরু বিভিন্ন কার্ড তৈরির প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘হল মার্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল এই দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে তিনিই আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব করেছিলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসের যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৩৫ সালে। তারপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ দিবসটি সাদরে গ্রহণ করে। অনেক দেশ তাদের নিজেদের পছন্দসই দিনে বন্ধু দিবস পালন করে থাকে।

জাতিসংঘ ২০১১ সালে সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সুতরাং ৩০ জুলাইকেই আন্তর্জাতিক ভাবে বন্ধু দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস ধরে নেয়া হয়।

যেভাবে এলো দিবসটি : উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকেই বন্ধুত্ব দিবস শীঘ্রই এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস এর রূপ লাভ করে।

আছে অন্য গল্পও- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, বিশৃঙ্খলা ও হিংস্রতা মানুষের মধ্যে অনেকটাই বন্ধুত্বের অভাব তৈরি করেছিলো বলে অনেকের অভিমত। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধু দিবস পালন করার ধারণা এসেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

আরো জানা যায়, ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কার্ড, ফুল, উপহার বিনিময় করতো। ১৯১০ সালে জয়েস হলের প্রতিষ্ঠিত হলমার্ক কার্ড বন্ধু দিবস পালনের রীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছিলো।

১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই, ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড (World Friendship Crusade) এর প্রতিষ্ঠাতা Dr. Ramón Artemio Bracho বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকোতে (নদীর তীরে একটি শহর যা উত্তর Asuncion, Paraguay থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত) এক নৈশভোজে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে রাতেই এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা পায় এবং ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায়। প্রায় ৫৩ বছর পর, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

‘পুরো পৃথিবী এক দিকে, আর আমি অন্য দিক/সবাই বলে করছ ভুল, আর তোরা বলিস ঠিক/তোরা ছিলি, তোরা আছিস/জানি তোরাই থাকবি/বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’ শিল্পী তপুর গাওয়া গানটা মনে পড়ে? বন্ধুত্ব ঠিক যেন এমনই। মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্ধুত্বকে উদ্‌যাপন করেছে।

ফ্রেন্ডশিপ ডে ওয়েবসাইট-এর তথ্য অনুযায়ী, বন্ধু দিবসের প্রচলন শুরু বিভিন্ন কার্ড তৈরির প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘হল মার্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল এই দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে তিনিই আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব করেছিলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসের যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৩৫ সালে। তারপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ দিবসটি সাদরে গ্রহণ করে। অনেক দেশ তাদের নিজেদের পছন্দসই দিনে বন্ধু দিবস পালন করে থাকে।

জাতিসংঘ ২০১১ সালে সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সুতরাং ৩০ জুলাইকেই আন্তর্জাতিক ভাবে বন্ধু দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস ধরে নেয়া হয়।

যেভাবে এলো দিবসটি : উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকেই বন্ধুত্ব দিবস শীঘ্রই এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস এর রূপ লাভ করে।

আছে অন্য গল্পও- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, বিশৃঙ্খলা ও হিংস্রতা মানুষের মধ্যে অনেকটাই বন্ধুত্বের অভাব তৈরি করেছিলো বলে অনেকের অভিমত। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধু দিবস পালন করার ধারণা এসেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

আরো জানা যায়, ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কার্ড, ফুল, উপহার বিনিময় করতো। ১৯১০ সালে জয়েস হলের প্রতিষ্ঠিত হলমার্ক কার্ড বন্ধু দিবস পালনের রীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছিলো।

১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই, ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড (World Friendship Crusade) এর প্রতিষ্ঠাতা Dr. Ramón Artemio Bracho বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকোতে (নদীর তীরে একটি শহর যা উত্তর Asuncion, Paraguay থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত) এক নৈশভোজে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে রাতেই এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা পায় এবং ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায়। প্রায় ৫৩ বছর পর, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।


প্রিন্ট