ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা, দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার : ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু কালিয়াকৈরে মা/দক ও অস্ত্র সহ গ্রে/ফতার -৬ কুড়িগ্রামে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নেই অনুমোদন,সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স মিল চালাচ্ছেন মিল মালিক আব্দুস সামাল দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর মামলা: বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা নরসিংদী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ৫২ কেজি পিরানহা মাছ জ/ব্দ সহ ২ হাজার টাকা জরিমানা যে কারণে ‘ট্রাইব্যুনাল’ থেকে সরে দাঁড়ালেন নুসরাত ফারিয়া

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ

‘পুরো পৃথিবী এক দিকে, আর আমি অন্য দিক/সবাই বলে করছ ভুল, আর তোরা বলিস ঠিক/তোরা ছিলি, তোরা আছিস/জানি তোরাই থাকবি/বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’ শিল্পী তপুর গাওয়া গানটা মনে পড়ে? বন্ধুত্ব ঠিক যেন এমনই। মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্ধুত্বকে উদ্‌যাপন করেছে।

ফ্রেন্ডশিপ ডে ওয়েবসাইট-এর তথ্য অনুযায়ী, বন্ধু দিবসের প্রচলন শুরু বিভিন্ন কার্ড তৈরির প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘হল মার্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল এই দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে তিনিই আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব করেছিলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসের যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৩৫ সালে। তারপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ দিবসটি সাদরে গ্রহণ করে। অনেক দেশ তাদের নিজেদের পছন্দসই দিনে বন্ধু দিবস পালন করে থাকে।

জাতিসংঘ ২০১১ সালে সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সুতরাং ৩০ জুলাইকেই আন্তর্জাতিক ভাবে বন্ধু দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস ধরে নেয়া হয়।

যেভাবে এলো দিবসটি : উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকেই বন্ধুত্ব দিবস শীঘ্রই এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস এর রূপ লাভ করে।

আছে অন্য গল্পও- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, বিশৃঙ্খলা ও হিংস্রতা মানুষের মধ্যে অনেকটাই বন্ধুত্বের অভাব তৈরি করেছিলো বলে অনেকের অভিমত। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধু দিবস পালন করার ধারণা এসেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

আরো জানা যায়, ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কার্ড, ফুল, উপহার বিনিময় করতো। ১৯১০ সালে জয়েস হলের প্রতিষ্ঠিত হলমার্ক কার্ড বন্ধু দিবস পালনের রীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছিলো।

১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই, ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড (World Friendship Crusade) এর প্রতিষ্ঠাতা Dr. Ramón Artemio Bracho বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকোতে (নদীর তীরে একটি শহর যা উত্তর Asuncion, Paraguay থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত) এক নৈশভোজে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে রাতেই এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা পায় এবং ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায়। প্রায় ৫৩ বছর পর, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

‘পুরো পৃথিবী এক দিকে, আর আমি অন্য দিক/সবাই বলে করছ ভুল, আর তোরা বলিস ঠিক/তোরা ছিলি, তোরা আছিস/জানি তোরাই থাকবি/বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’ শিল্পী তপুর গাওয়া গানটা মনে পড়ে? বন্ধুত্ব ঠিক যেন এমনই। মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্ধুত্বকে উদ্‌যাপন করেছে।

ফ্রেন্ডশিপ ডে ওয়েবসাইট-এর তথ্য অনুযায়ী, বন্ধু দিবসের প্রচলন শুরু বিভিন্ন কার্ড তৈরির প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘হল মার্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল এই দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে তিনিই আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব করেছিলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসের যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৩৫ সালে। তারপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ দিবসটি সাদরে গ্রহণ করে। অনেক দেশ তাদের নিজেদের পছন্দসই দিনে বন্ধু দিবস পালন করে থাকে।

জাতিসংঘ ২০১১ সালে সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সুতরাং ৩০ জুলাইকেই আন্তর্জাতিক ভাবে বন্ধু দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস ধরে নেয়া হয়।

যেভাবে এলো দিবসটি : উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকেই বন্ধুত্ব দিবস শীঘ্রই এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস এর রূপ লাভ করে।

আছে অন্য গল্পও- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, বিশৃঙ্খলা ও হিংস্রতা মানুষের মধ্যে অনেকটাই বন্ধুত্বের অভাব তৈরি করেছিলো বলে অনেকের অভিমত। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধু দিবস পালন করার ধারণা এসেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

আরো জানা যায়, ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কার্ড, ফুল, উপহার বিনিময় করতো। ১৯১০ সালে জয়েস হলের প্রতিষ্ঠিত হলমার্ক কার্ড বন্ধু দিবস পালনের রীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছিলো।

১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই, ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড (World Friendship Crusade) এর প্রতিষ্ঠাতা Dr. Ramón Artemio Bracho বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকোতে (নদীর তীরে একটি শহর যা উত্তর Asuncion, Paraguay থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত) এক নৈশভোজে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে রাতেই এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা পায় এবং ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায়। প্রায় ৫৩ বছর পর, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।


প্রিন্ট