ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষ চাপে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

সিটিজেন প্রতিবেদকঃ গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ চাপে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু শহরের নিদিষ্ট আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে আছে।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় বিএসআরএফের সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব এতে সভাপতিত্ব করেন।

শহরের নিদিষ্ট আয়ের মানুষ চাপে আছে উল্লেখ করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি টিপ্পনী কাটার জন্য বলছি না। বাস্তবতা বলছি, মানুষের কাছে কিন্তু টাকা আছে। গত তিন মাসে দুই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আছে। যেটা গত বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। এই দুই বিলিয়ন ডলার কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ হয়। ফলে গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। গ্রামের মানুষ যারা উৎপাদন করে তারা কিন্তু শহরের নিদিষ্ট আয়ের মানুষের থেকে ভালো আছে। গ্রামের যে লোকটি অটোরিকশা চালায় সে কিন্তু মাল্টিপল কাজ করছে।

তিনি বলেন, খুব বেশি চাপে আছে নিদিষ্ট আয়ের শহরের মানুষ। তাদের সহযোগিতার জন্য টিসিবিসহ অন্যান্য কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা চেষ্টা করছি, শহরভিত্তিক মানুষের আরও কীভাবে সহায়তা করতে পারি।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ডব্লিউটিওসহ বিভিন্ন জোটের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিগুলো করছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোটা ফ্রি, ডিউটি ফ্রি সুবিধা যাতে অব্যাহত থাকে সেই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত কম্প্রেশনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট করবেন। চীনের সঙ্গে আমাদের স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। চীন একটি এফটিএ করার জন্য উদ্যোগী। আসিয়ান কান্ট্রিগুলোর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছি।

ট্যারিফ কমিশনকে ঢেলে সাজানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এলডিসি কান্ট্রি থেকে উন্নত দেশে যাবো ২০২৬ সালে। তখন কিন্তু আমরা আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা রাখতে পারবো না। অন্যের বাজার পেতে চাইলে নিজেদের বাজার ওপেন করতে হবে। এজন্য ট্যারিফ কমিশনকে ন্যাশনালাইজ করতে হবে। কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ ঘোষণা করছি। সেটা বাস্তবায়নে চেষ্টা করছি।

টিসিবিকে ফ্ল্যাগশিপ পণ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তৈরি করেছেন আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য করার জন্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ৭৫ পরবর্তী সময়ে টিসিবিকে আর রপ্তানি করতে দেয়নি। আমদানি করে ন্যায্যমূল্যের যে দোকানগুলো ছিল সেটাও সামরিক সরকার এসে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে যারা নিদিষ্ট আয়ের মানুষ তাদের কষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পেরেছি। বিশেষ করে আমদানিকৃত দুটি পণ্য চিনি এবং তেল এ দুটির সরবরাহ ও দাম গত পাঁচ ছয় মাসে স্থিতিশীল আছে। আমাদের মন্ত্রণালয় বাজার পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করে। আমাদের কাছে টুলস যে আছে তা হলো, আমদানি করে কিছু পণ্য সংগ্রহ করতে পারি। আমরা টিসিবিকে অনেক শক্তিশালী করেছি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষ চাপে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

সিটিজেন প্রতিবেদকঃ গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ চাপে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু শহরের নিদিষ্ট আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে আছে।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় বিএসআরএফের সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব এতে সভাপতিত্ব করেন।

শহরের নিদিষ্ট আয়ের মানুষ চাপে আছে উল্লেখ করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি টিপ্পনী কাটার জন্য বলছি না। বাস্তবতা বলছি, মানুষের কাছে কিন্তু টাকা আছে। গত তিন মাসে দুই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আছে। যেটা গত বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। এই দুই বিলিয়ন ডলার কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ হয়। ফলে গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। গ্রামের মানুষ যারা উৎপাদন করে তারা কিন্তু শহরের নিদিষ্ট আয়ের মানুষের থেকে ভালো আছে। গ্রামের যে লোকটি অটোরিকশা চালায় সে কিন্তু মাল্টিপল কাজ করছে।

তিনি বলেন, খুব বেশি চাপে আছে নিদিষ্ট আয়ের শহরের মানুষ। তাদের সহযোগিতার জন্য টিসিবিসহ অন্যান্য কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা চেষ্টা করছি, শহরভিত্তিক মানুষের আরও কীভাবে সহায়তা করতে পারি।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ডব্লিউটিওসহ বিভিন্ন জোটের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিগুলো করছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোটা ফ্রি, ডিউটি ফ্রি সুবিধা যাতে অব্যাহত থাকে সেই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত কম্প্রেশনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট করবেন। চীনের সঙ্গে আমাদের স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। চীন একটি এফটিএ করার জন্য উদ্যোগী। আসিয়ান কান্ট্রিগুলোর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছি।

ট্যারিফ কমিশনকে ঢেলে সাজানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এলডিসি কান্ট্রি থেকে উন্নত দেশে যাবো ২০২৬ সালে। তখন কিন্তু আমরা আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা রাখতে পারবো না। অন্যের বাজার পেতে চাইলে নিজেদের বাজার ওপেন করতে হবে। এজন্য ট্যারিফ কমিশনকে ন্যাশনালাইজ করতে হবে। কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ ঘোষণা করছি। সেটা বাস্তবায়নে চেষ্টা করছি।

টিসিবিকে ফ্ল্যাগশিপ পণ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তৈরি করেছেন আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য করার জন্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ৭৫ পরবর্তী সময়ে টিসিবিকে আর রপ্তানি করতে দেয়নি। আমদানি করে ন্যায্যমূল্যের যে দোকানগুলো ছিল সেটাও সামরিক সরকার এসে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে যারা নিদিষ্ট আয়ের মানুষ তাদের কষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পেরেছি। বিশেষ করে আমদানিকৃত দুটি পণ্য চিনি এবং তেল এ দুটির সরবরাহ ও দাম গত পাঁচ ছয় মাসে স্থিতিশীল আছে। আমাদের মন্ত্রণালয় বাজার পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করে। আমাদের কাছে টুলস যে আছে তা হলো, আমদানি করে কিছু পণ্য সংগ্রহ করতে পারি। আমরা টিসিবিকে অনেক শক্তিশালী করেছি।


প্রিন্ট