ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

আটক প্রিয়াঙ্কার আলো-পানি বন্ধ, রাত কাটল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভারতের উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে অবস্থিত একটি গেস্ট হাউসে আলো-পানি ছাড়াই রাত কাটিয়েছেন। প্রদেশটির বারানসিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে গতকাল শুক্রবার তাকে আটক করে দেশটির পুলিশ।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গতকাল রাতে রাজ্য সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে ফিরে যেতে বলেছেন। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে যাবেন না।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকার বিনিময়ে প্রিয়াঙ্কাকে মুক্তির প্রস্তাব দেয় রাজ্য সরকার। গেস্ট হাউসের আলো-পানি বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এভাবেই এখানে দশ দিন থাকতে হলে থাকব। কিন্তু নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে ফিরব না।’

গতকাল রাতে বেশ কয়েকটি টুইট করেন, আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে বারানসি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রজভূষণ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে চুনার দুর্গ নামের ওই গেস্ট হাউসে যান। শুক্রবার তাকে আটক করার সেখানে রাখা হয়।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট বার্তায় বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ সরকার বারানসির এডিজি ব্রজভূষণ, মির্জাপুরের কমিশনার দীপক আগারওয়াল এবং ডিআইজিকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন এটা বলার জন্য যে, ওইসব পরিবারের সঙ্গে দেখা না করেই আমার চলে যাওয়া উচিত। তারা শেষ পর্যন্ত এখানে অপেক্ষা করেছেন।’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও লিখেছেন, ‘তারা আমাকে কেন কাস্টডিতে নিয়েছে তার ব্যাখ্যা আমাকে দিতে পারেনি এমনকি তারা আমাকে কোনো কাগজও দেখাতে পারেনি। আজ হাসপাতালে একটা ১৭ বছরের বাচ্চাকে দেখলাম। পেটে গুলি লেগেছে। আমার সন্তানের মতোই তার বয়স। তার মা গুলিবিদ্ধ হয়ে পাশের বিছানায় শুয়ে আছে। রাজ্যের আইন কোথায়?’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অপর একটি টুইটে বলেছেন, ‘আমার আইনজীবীর কথা অনুযায়ী, আমাকে আটক করার বিষয়টি সব দিক থেকেই বেআইনি। তারা আমাকে উচ্চপর্যায়ের কথা বলছে। কিন্তু উচ্চপর্যায়টা কারা সেটা জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারছে না।’

তিন আরও বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি যে, কোনো আইন লঙ্ঘন করার উদ্দেশ্যে আমি এখানে আসিনি, আমি এসেছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। আমি তাদেরকে বলেছি, আমি সেসব পরিবারের সঙ্গে কথা না বলে কোনোভাবেই যাব না।’

চলতি সপ্তাহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা জেলায় নারীসহ ১০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ওই গ্রামে যাওয়ার পথে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথের সমালোচনা মুখর প্রিয়াঙ্কা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

আটক প্রিয়াঙ্কার আলো-পানি বন্ধ, রাত কাটল

আপডেট টাইম : ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভারতের উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে অবস্থিত একটি গেস্ট হাউসে আলো-পানি ছাড়াই রাত কাটিয়েছেন। প্রদেশটির বারানসিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে গতকাল শুক্রবার তাকে আটক করে দেশটির পুলিশ।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গতকাল রাতে রাজ্য সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে ফিরে যেতে বলেছেন। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে যাবেন না।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকার বিনিময়ে প্রিয়াঙ্কাকে মুক্তির প্রস্তাব দেয় রাজ্য সরকার। গেস্ট হাউসের আলো-পানি বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এভাবেই এখানে দশ দিন থাকতে হলে থাকব। কিন্তু নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে ফিরব না।’

গতকাল রাতে বেশ কয়েকটি টুইট করেন, আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে বারানসি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রজভূষণ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে চুনার দুর্গ নামের ওই গেস্ট হাউসে যান। শুক্রবার তাকে আটক করার সেখানে রাখা হয়।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট বার্তায় বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ সরকার বারানসির এডিজি ব্রজভূষণ, মির্জাপুরের কমিশনার দীপক আগারওয়াল এবং ডিআইজিকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন এটা বলার জন্য যে, ওইসব পরিবারের সঙ্গে দেখা না করেই আমার চলে যাওয়া উচিত। তারা শেষ পর্যন্ত এখানে অপেক্ষা করেছেন।’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও লিখেছেন, ‘তারা আমাকে কেন কাস্টডিতে নিয়েছে তার ব্যাখ্যা আমাকে দিতে পারেনি এমনকি তারা আমাকে কোনো কাগজও দেখাতে পারেনি। আজ হাসপাতালে একটা ১৭ বছরের বাচ্চাকে দেখলাম। পেটে গুলি লেগেছে। আমার সন্তানের মতোই তার বয়স। তার মা গুলিবিদ্ধ হয়ে পাশের বিছানায় শুয়ে আছে। রাজ্যের আইন কোথায়?’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অপর একটি টুইটে বলেছেন, ‘আমার আইনজীবীর কথা অনুযায়ী, আমাকে আটক করার বিষয়টি সব দিক থেকেই বেআইনি। তারা আমাকে উচ্চপর্যায়ের কথা বলছে। কিন্তু উচ্চপর্যায়টা কারা সেটা জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারছে না।’

তিন আরও বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি যে, কোনো আইন লঙ্ঘন করার উদ্দেশ্যে আমি এখানে আসিনি, আমি এসেছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। আমি তাদেরকে বলেছি, আমি সেসব পরিবারের সঙ্গে কথা না বলে কোনোভাবেই যাব না।’

চলতি সপ্তাহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা জেলায় নারীসহ ১০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ওই গ্রামে যাওয়ার পথে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথের সমালোচনা মুখর প্রিয়াঙ্কা।


প্রিন্ট