ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইলন মাস্কের নেই: হোয়াইট হাউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অনেক বিষয়েই নাক গলিয়েছেন ইলন মাস্ক। মার্কিন প্রশাসনের দক্ষতা বিভাগের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, প্রশাসনের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই ইলন মাস্কের।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পরিচালক জোশুয়া ফিশার সই করা এক নথিতে বলা হয়েছে, ইলন মাস্কের ভূমিকা ট্রাম্প প্রশাসনে একজন হোয়াইট হাউজ কর্মী ও প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নির্ধারিত। তিনি সরকারি ডিওজিইর কোনো কর্মচারী নন ও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, মাস্ক কেবলমাত্র প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিতে পারেন এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা পৌঁছে দিতে পারেন। অন্যান্য জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউজ উপদেষ্টাদের মতো, মাস্কের নিজস্ব বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য। ওই মামলার নথিতে ফিশার এসব কথা বলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপের মধ্যে একটি হলো- মার্কিন প্রশাসন সংকুচিত করা। আর এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইলন মাস্ককে। তারই অংশ হিসেবে ডিওজিই সরকারি সংস্থাগুলোর ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সংস্কার আনতে ছাঁটাই করা হয়েছে হাজারো কর্মী।

সোমবার ডিওজিই ও মার্কিন প্রশাসনে ইলন মাস্কের কার্যক্রম নিয়ে এক মামলা আদালতে ওঠে। মামলার উদ্দেশ্য, ইলন মাস্কের থেকে সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবস্থা রক্ষা করা। ১৩ জন ডেমোক্রেটিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জরুরি আদেশ চেয়ে মামলা করেছেন, যাতে মাস্ক ও ডিওজিইকে সরকারি সিস্টেমে প্রবেশ করা এবং সাতটি সংস্থার কর্মীদের বরখাস্ত করা থেকে বিরত রাখা যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেলরা ইলন মাস্কের ডিওজিই দলকে শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, জ্বালানি, পরিবহন, বাণিজ্য বিভাগ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশ থেকে নিষিদ্ধ করতে চান। তারা আরও দাবি করেছেন, বিচারক যেন মাস্ক ও ডিওজিই দলের সদস্যদের সরকারি কর্মচারীদের বরখাস্ত করা বা ছুটিতে পাঠানো থেকে বিরত রাখেন।

অঙ্গরাজ্যগুলো যুক্তি দিয়েছে, তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা মাস্কের দলকে সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিল করা ও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ এনেছে।

মার্কিন জেলা বিচারক তানিয়া চাটকান বলেন, আমি যা শুনছি তা অবশ্যই উদ্বেগজনক, তবে আমি কোনো আদেশ দেওয়ার আগে আমাকে যথাযথ প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত পেতে হবে। অঙ্গরাজ্যগুলো জরুরি নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিচারক আরও বলেন, এটি অনেকটা প্রতিরোধমূলক নিষেধাজ্ঞার মতো, যা আইনত অনুমোদিত নয়। যদি অঙ্গরাজ্যগুলো শেষ পর্যন্ত মামলায় জয়ী হয়, তবেই তিনি নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন।

মাস্কের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে এ নিয়ে প্রায় ২০টি মামলা হয়েছে। শুক্রবার ডিওজিইর ওপর একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছেন নিউইয়র্কের মার্কিন জেলা বিচারক জেনেট ভার্গাস। এ নিষেধাজ্ঞায় মাস্কের দলকে ট্রেজারি বিভাগের সেই সিস্টেমে প্রবেশ থেকে বিরত রেখেছে। এই সিস্টেমে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের লেনদেন হয়। তবে ডিওজিই নিয়ে বেশির ভাগ মামলায় বিচারকেরা এখনো চূড়ান্ত রায় দেননি।

সূত্র: রয়টার্স


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইলন মাস্কের নেই: হোয়াইট হাউজ

আপডেট টাইম : ০১:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অনেক বিষয়েই নাক গলিয়েছেন ইলন মাস্ক। মার্কিন প্রশাসনের দক্ষতা বিভাগের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, প্রশাসনের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই ইলন মাস্কের।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পরিচালক জোশুয়া ফিশার সই করা এক নথিতে বলা হয়েছে, ইলন মাস্কের ভূমিকা ট্রাম্প প্রশাসনে একজন হোয়াইট হাউজ কর্মী ও প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নির্ধারিত। তিনি সরকারি ডিওজিইর কোনো কর্মচারী নন ও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, মাস্ক কেবলমাত্র প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিতে পারেন এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা পৌঁছে দিতে পারেন। অন্যান্য জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউজ উপদেষ্টাদের মতো, মাস্কের নিজস্ব বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য। ওই মামলার নথিতে ফিশার এসব কথা বলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপের মধ্যে একটি হলো- মার্কিন প্রশাসন সংকুচিত করা। আর এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইলন মাস্ককে। তারই অংশ হিসেবে ডিওজিই সরকারি সংস্থাগুলোর ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সংস্কার আনতে ছাঁটাই করা হয়েছে হাজারো কর্মী।

সোমবার ডিওজিই ও মার্কিন প্রশাসনে ইলন মাস্কের কার্যক্রম নিয়ে এক মামলা আদালতে ওঠে। মামলার উদ্দেশ্য, ইলন মাস্কের থেকে সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবস্থা রক্ষা করা। ১৩ জন ডেমোক্রেটিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জরুরি আদেশ চেয়ে মামলা করেছেন, যাতে মাস্ক ও ডিওজিইকে সরকারি সিস্টেমে প্রবেশ করা এবং সাতটি সংস্থার কর্মীদের বরখাস্ত করা থেকে বিরত রাখা যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেলরা ইলন মাস্কের ডিওজিই দলকে শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, জ্বালানি, পরিবহন, বাণিজ্য বিভাগ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশ থেকে নিষিদ্ধ করতে চান। তারা আরও দাবি করেছেন, বিচারক যেন মাস্ক ও ডিওজিই দলের সদস্যদের সরকারি কর্মচারীদের বরখাস্ত করা বা ছুটিতে পাঠানো থেকে বিরত রাখেন।

অঙ্গরাজ্যগুলো যুক্তি দিয়েছে, তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা মাস্কের দলকে সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিল করা ও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ এনেছে।

মার্কিন জেলা বিচারক তানিয়া চাটকান বলেন, আমি যা শুনছি তা অবশ্যই উদ্বেগজনক, তবে আমি কোনো আদেশ দেওয়ার আগে আমাকে যথাযথ প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত পেতে হবে। অঙ্গরাজ্যগুলো জরুরি নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিচারক আরও বলেন, এটি অনেকটা প্রতিরোধমূলক নিষেধাজ্ঞার মতো, যা আইনত অনুমোদিত নয়। যদি অঙ্গরাজ্যগুলো শেষ পর্যন্ত মামলায় জয়ী হয়, তবেই তিনি নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন।

মাস্কের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে এ নিয়ে প্রায় ২০টি মামলা হয়েছে। শুক্রবার ডিওজিইর ওপর একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছেন নিউইয়র্কের মার্কিন জেলা বিচারক জেনেট ভার্গাস। এ নিষেধাজ্ঞায় মাস্কের দলকে ট্রেজারি বিভাগের সেই সিস্টেমে প্রবেশ থেকে বিরত রেখেছে। এই সিস্টেমে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের লেনদেন হয়। তবে ডিওজিই নিয়ে বেশির ভাগ মামলায় বিচারকেরা এখনো চূড়ান্ত রায় দেননি।

সূত্র: রয়টার্স


প্রিন্ট