ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু

সম্প্রতি জর্ডানের ইফতা বিভাগ গুজবকে হারাম ঘোষণা

ধর্ম ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: সম্প্রতি জর্ডানের ইফতা বিভাগ গুজব ছড়ানোকে হারাম বলে ফতোয়া জারি করেছেন। হাদিসের আলোকেও গুজব তথা মিথ্যা বলা কবিরা গোনাহের শামিল।

গতকাল বুধবার জর্ডানের এক ইফতা বিভাগ এ ফতোয়া গুজব ছড়ানোকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেন, ‘যে কোনো ধরণের গুজব ছড়ানো ইসলামে হারাম। এর মাধ্যমে অনেক সময় নিরীহ মানুষ নির্যাতিত হয়ে আসছে, তাই ইসলামে গুজবের স্থান নেই।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিষয়ে মুহূর্তেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এ গুজবে মানুষ আতংকিত হয়ে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা ইসলাম কোনো ভাবে সমর্থন করে না।
ফতোয়ায় আরো বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের যোগাযোগ সহজ করেছে ঠিক। এর খারাপ দিকগুলো থেকে সবার সচেতনতা জরুরি।

সে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ছড়িয়ে দেয়া, মানুষের নামে অপমানকর স্ট্যাটাস দেয়া, মানুষের সম্মান নষ্ট করা একেবারেই অনৈতিক। খারাপ কথা ও অবৈধ ছবি কিংবা ভিডিও শেয়ার করা হারাম। এসব থেকে সবার বিরত থাকতে হবে।

ইসলামিক সেবা সংস্থা পিআর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জর্ডানের বিভাগীয় পরিচালক হাসান আবু আরকুব জর্ডান টাইমসকে জানান, গুজবের এ ফতোয়াটি গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। কেননা বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুধু গুজব আর গুজব ছড়িয়েই চলছে কিছু মানুষ।

এ ফতোয়ার পর অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে অনেক মন্তব্য হয়েছে অনলাইনে। অনেক এ ফতোয়াকে সুন্দর একটি ফতোয়া বলে হারামের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

সৌদি আরবে বসবাসরত একজন জর্ডানের নাগরিক তার ফেসবুক থেকে মন্তব্য করেছেন, অবশ্যই এটা হারাম। কিন্তু দুর্নীতি সম্পর্কে শরিয়ত কী বলে? অবশ্যই হারাম কাজগুলো থেকে আমদের বেঁচে থাকা উচিৎ।

অন্য একজন মন্তব্য করেছেন যে, ‘গুজব হারাম হওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করছি। তবে তথ্য যদি সত্য হয় তাহলে সে তথ্য গোপন করার পক্ষে আমি নাই।’

উল্লেখ্য যে, যা শুনে তা বলে বেড়ানো বা প্রচার করা যেমন মারাত্মক মিথ্যাচার তেমনি তা গুজব তৈরির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনারও তৈরি হয়। আর এর ফলে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষ। এ ব্যাপারে হাদিসে এসেছে-
হজরত হাফস ইবনে আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গুজবের মতো ঘোষিত হারাম ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে মিথ্যাচারের আশংকা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের অধিবেশন শুরু

সম্প্রতি জর্ডানের ইফতা বিভাগ গুজবকে হারাম ঘোষণা

আপডেট টাইম : ০৯:২৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০১৯

ধর্ম ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: সম্প্রতি জর্ডানের ইফতা বিভাগ গুজব ছড়ানোকে হারাম বলে ফতোয়া জারি করেছেন। হাদিসের আলোকেও গুজব তথা মিথ্যা বলা কবিরা গোনাহের শামিল।

গতকাল বুধবার জর্ডানের এক ইফতা বিভাগ এ ফতোয়া গুজব ছড়ানোকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেন, ‘যে কোনো ধরণের গুজব ছড়ানো ইসলামে হারাম। এর মাধ্যমে অনেক সময় নিরীহ মানুষ নির্যাতিত হয়ে আসছে, তাই ইসলামে গুজবের স্থান নেই।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিষয়ে মুহূর্তেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এ গুজবে মানুষ আতংকিত হয়ে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা ইসলাম কোনো ভাবে সমর্থন করে না।
ফতোয়ায় আরো বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের যোগাযোগ সহজ করেছে ঠিক। এর খারাপ দিকগুলো থেকে সবার সচেতনতা জরুরি।

সে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ছড়িয়ে দেয়া, মানুষের নামে অপমানকর স্ট্যাটাস দেয়া, মানুষের সম্মান নষ্ট করা একেবারেই অনৈতিক। খারাপ কথা ও অবৈধ ছবি কিংবা ভিডিও শেয়ার করা হারাম। এসব থেকে সবার বিরত থাকতে হবে।

ইসলামিক সেবা সংস্থা পিআর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জর্ডানের বিভাগীয় পরিচালক হাসান আবু আরকুব জর্ডান টাইমসকে জানান, গুজবের এ ফতোয়াটি গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। কেননা বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুধু গুজব আর গুজব ছড়িয়েই চলছে কিছু মানুষ।

এ ফতোয়ার পর অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে অনেক মন্তব্য হয়েছে অনলাইনে। অনেক এ ফতোয়াকে সুন্দর একটি ফতোয়া বলে হারামের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

সৌদি আরবে বসবাসরত একজন জর্ডানের নাগরিক তার ফেসবুক থেকে মন্তব্য করেছেন, অবশ্যই এটা হারাম। কিন্তু দুর্নীতি সম্পর্কে শরিয়ত কী বলে? অবশ্যই হারাম কাজগুলো থেকে আমদের বেঁচে থাকা উচিৎ।

অন্য একজন মন্তব্য করেছেন যে, ‘গুজব হারাম হওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করছি। তবে তথ্য যদি সত্য হয় তাহলে সে তথ্য গোপন করার পক্ষে আমি নাই।’

উল্লেখ্য যে, যা শুনে তা বলে বেড়ানো বা প্রচার করা যেমন মারাত্মক মিথ্যাচার তেমনি তা গুজব তৈরির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনারও তৈরি হয়। আর এর ফলে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষ। এ ব্যাপারে হাদিসে এসেছে-
হজরত হাফস ইবনে আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গুজবের মতো ঘোষিত হারাম ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে মিথ্যাচারের আশংকা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


প্রিন্ট