ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে আসা রমজান

হাফসা আক্তারঃ

 

সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান মাস। এ মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহানুভূতির চেতনা গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ অন্যের কষ্ট, অনাহার ও বঞ্চনার অনুভূতি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখে।

রমজানের রোজা মানুষকে অন্যায়, অসদাচরণ ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত রোজাদার সমাজের সকল মানুষের সম-অধিকারের বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন। এতে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

এ মাসে ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব বর্তায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যাতে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা পালন করতে পারেন, সে জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মালিকপক্ষের উচিত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম বেতন-ভাতা প্রদান এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া। অধীনস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দেওয়া মানবিক দায়িত্বের অংশ।

ইসলামী বাণীতেও রমজানে অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা এ মাসে কর্মচারী ও দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহ দয়া করেন এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।

রমজান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি মানুষ রমজানের শিক্ষাকে সারা বছর অনুসরণ করে—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও মতভেদ ভুলে সহনশীল আচরণ বজায় রাখে—তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

রমজানের মূল শিক্ষা হলো—মানবতার পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে আসা রমজান

আপডেট টাইম : ০৪:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাফসা আক্তারঃ

 

সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান মাস। এ মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহানুভূতির চেতনা গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ অন্যের কষ্ট, অনাহার ও বঞ্চনার অনুভূতি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখে।

রমজানের রোজা মানুষকে অন্যায়, অসদাচরণ ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত রোজাদার সমাজের সকল মানুষের সম-অধিকারের বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন। এতে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

এ মাসে ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব বর্তায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যাতে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা পালন করতে পারেন, সে জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মালিকপক্ষের উচিত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম বেতন-ভাতা প্রদান এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া। অধীনস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দেওয়া মানবিক দায়িত্বের অংশ।

ইসলামী বাণীতেও রমজানে অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা এ মাসে কর্মচারী ও দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহ দয়া করেন এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।

রমজান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি মানুষ রমজানের শিক্ষাকে সারা বছর অনুসরণ করে—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও মতভেদ ভুলে সহনশীল আচরণ বজায় রাখে—তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

রমজানের মূল শিক্ষা হলো—মানবতার পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলা।


প্রিন্ট