ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার সার পাচার রোধে উদাসীনতার অভিযোগ: ২০ বছরের অধিক সময় একই রাজাপুর উপজেলা মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি মাহমুদা সম্পাদক রিক্তা তাহিরপুরে মামলার বাদির লোকজন কর্তৃক আসামীদের বাড়িঘর  ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে মৌচাক এলাকায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণের দাবিতে অবরোধ ও বিক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দারা রোকাইয়া আক্তার রিংকি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য

সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে আসা রমজান

হাফসা আক্তারঃ

 

সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান মাস। এ মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহানুভূতির চেতনা গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ অন্যের কষ্ট, অনাহার ও বঞ্চনার অনুভূতি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখে।

রমজানের রোজা মানুষকে অন্যায়, অসদাচরণ ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত রোজাদার সমাজের সকল মানুষের সম-অধিকারের বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন। এতে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

এ মাসে ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব বর্তায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যাতে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা পালন করতে পারেন, সে জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মালিকপক্ষের উচিত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম বেতন-ভাতা প্রদান এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া। অধীনস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দেওয়া মানবিক দায়িত্বের অংশ।

ইসলামী বাণীতেও রমজানে অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা এ মাসে কর্মচারী ও দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহ দয়া করেন এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।

রমজান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি মানুষ রমজানের শিক্ষাকে সারা বছর অনুসরণ করে—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও মতভেদ ভুলে সহনশীল আচরণ বজায় রাখে—তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

রমজানের মূল শিক্ষা হলো—মানবতার পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার

সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে আসা রমজান

আপডেট টাইম : ০৪:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাফসা আক্তারঃ

 

সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান মাস। এ মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহানুভূতির চেতনা গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ অন্যের কষ্ট, অনাহার ও বঞ্চনার অনুভূতি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখে।

রমজানের রোজা মানুষকে অন্যায়, অসদাচরণ ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত রোজাদার সমাজের সকল মানুষের সম-অধিকারের বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন। এতে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।

এ মাসে ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব বর্তায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যাতে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা পালন করতে পারেন, সে জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মালিকপক্ষের উচিত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম বেতন-ভাতা প্রদান এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া। অধীনস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দেওয়া মানবিক দায়িত্বের অংশ।

ইসলামী বাণীতেও রমজানে অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা এ মাসে কর্মচারী ও দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহ দয়া করেন এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।

রমজান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি মানুষ রমজানের শিক্ষাকে সারা বছর অনুসরণ করে—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও মতভেদ ভুলে সহনশীল আচরণ বজায় রাখে—তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

রমজানের মূল শিক্ষা হলো—মানবতার পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলা।


প্রিন্ট