এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
নিখোঁজের দুইদিন পর ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৫)এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২০ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহের ব্যাটবল চত্বর সংলগ্ন ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নুরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের মৃত মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে। শাওন ময়মনসিংহ নগরীর আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দুই বন্ধুকে সাতজনের একটি ছিনতাইকারী কিশোর দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। এসময় দুই বন্ধু নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে তাদেরকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন মঞ্জুরুলের পিছু নেয়। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওনের সন্ধান মেলেনি। পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে দলটির ১৫ বছর বয়সি এক সদস্যকে ধরে তারা থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। রাতে শাওনের সন্ধান শুরু করলেও কোথাও খুঁজে পাইনি বন্ধুরা।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও খোঁজ মেলেনি শাওনের। এদিন বিকেলে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
ঘটনার সময় শাওনের সঙ্গে থাকা মঞ্জুরুল আহসান বলেন,একটু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ছিনতাইকারী কিশোর দল আমকে ও আমার বন্ধু শাওনকে ঘিরে ধরেছিল। আমাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন দিতে চাইলেও তারা মারধর করে। দুই বন্ধু আত্মরক্ষার্থে দুদিকে ছুটে যাই। আমি বাঁচতে পারলেও বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো নাজমুস সাকিব বলেন, রাতে ব্রক্ষপুত্র নদের কিনারার পানিতে মরদেহটি দেখতে পেয়ে এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি বলেন, এখনো নিহতের বডির সুরতহাল করা হয়নি। তাই শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থী শাওন নিখোঁজ হওয়ার পর জড়িত সন্দেহে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শাওনের মৃত্যুর সঙ্গে যে বা যারা জড়িত থাকবে, তাদেরকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
এঘটনায় শুক্রবার রাত থেকেই আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী ও আশপাশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তারা নিহত শাওনের আসামিদের অতিদ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাওনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে আজ বিকাল পাঁচটায় তার নিজ গ্রামের চরঝাকালিয়া ঈদগাহ মাঠে।
শাওনের এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, বন্ধুমহল ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















