ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

নারায়ণগঞ্জে খোলা অবস্থায় টিসিবির পণ্য বিতরণ, ওজনে কারচুপি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কায় ক্ষুব্ধ জনতা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২২, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে সিল করা প্যাকেটের বদলে খোলা অবস্থায় পণ্য বিতরণ করায় সাধারণ মানুষ ও সুবিধাভোগীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

টিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য (যেমন: ডাল, চিনি, চাল ইত্যাদি) নির্দিষ্ট মাপে এবং আগে থেকে সিল করা প্যাকেটে ভোক্তাদের দেওয়ার নিয়ম। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্যের সঠিক ওজন, মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। কিন্তু নাসিকের এই তিনটি ওয়ার্ডে ডিলাররা সেই নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্যাকেট ছাড়া এভাবে খোলা পণ্য বিতরণের ফলে তারা নানাভাবে প্রতারিত হওয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এর মধ্যে প্রধান সমস্যাগুলো হলো:১. ওজনে কারচুপি: খোলা অবস্থায় পণ্য মাপার সময় ডিলাররা কৌশলে ওজনে কম দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্যাকেটজাত না থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সঠিক ওজন যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২. ভেজাল মেশানোর সুযোগ: সিল করা প্যাকেট না থাকায় অসাধু চক্র সহজেই মানহীন বা ভেজাল পণ্য আসল পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ৩. মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি: খোলা পরিবেশে পণ্য রাখা এবং বিতরণের ফলে এতে ধুলাবালি, জীবাণু ও পোকামাকড় মেশার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পণ্য গ্রহণ করলে পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, “আমরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিই একটু স্বস্তির জন্য। কিন্তু খোলা অবস্থায় পণ্য দিয়ে আমাদের ওজনেও ঠকানো হচ্ছে, আবার এসব পণ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ভয়ও থাকছে।”

 

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনসাধারণ ও সচেতন মহলের দাবি— অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যেন বিষয়টি তদন্ত করে। যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, সেই অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত প্যাকেটজাত পণ্য বিতরণের নিয়ম নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

নারায়ণগঞ্জে খোলা অবস্থায় টিসিবির পণ্য বিতরণ, ওজনে কারচুপি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কায় ক্ষুব্ধ জনতা

আপডেট টাইম : ০৯:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২২, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে সিল করা প্যাকেটের বদলে খোলা অবস্থায় পণ্য বিতরণ করায় সাধারণ মানুষ ও সুবিধাভোগীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

টিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য (যেমন: ডাল, চিনি, চাল ইত্যাদি) নির্দিষ্ট মাপে এবং আগে থেকে সিল করা প্যাকেটে ভোক্তাদের দেওয়ার নিয়ম। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্যের সঠিক ওজন, মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। কিন্তু নাসিকের এই তিনটি ওয়ার্ডে ডিলাররা সেই নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্যাকেট ছাড়া এভাবে খোলা পণ্য বিতরণের ফলে তারা নানাভাবে প্রতারিত হওয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এর মধ্যে প্রধান সমস্যাগুলো হলো:১. ওজনে কারচুপি: খোলা অবস্থায় পণ্য মাপার সময় ডিলাররা কৌশলে ওজনে কম দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্যাকেটজাত না থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সঠিক ওজন যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২. ভেজাল মেশানোর সুযোগ: সিল করা প্যাকেট না থাকায় অসাধু চক্র সহজেই মানহীন বা ভেজাল পণ্য আসল পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ৩. মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি: খোলা পরিবেশে পণ্য রাখা এবং বিতরণের ফলে এতে ধুলাবালি, জীবাণু ও পোকামাকড় মেশার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পণ্য গ্রহণ করলে পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, “আমরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিই একটু স্বস্তির জন্য। কিন্তু খোলা অবস্থায় পণ্য দিয়ে আমাদের ওজনেও ঠকানো হচ্ছে, আবার এসব পণ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ভয়ও থাকছে।”

 

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনসাধারণ ও সচেতন মহলের দাবি— অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যেন বিষয়টি তদন্ত করে। যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, সেই অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত প্যাকেটজাত পণ্য বিতরণের নিয়ম নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট