ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

বাহারি ফুলে রঙিন রাজশাহী, ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: বাহারি ফুলে রঙিন সাজে সেজেছে রাজশাহী মহানগরী। ইতোমধ্যে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে চারপাশ। তীব্র তাপদাহে পুড়লেও দেখা মিলছে না কাঙ্খিত বৃষ্টির। এর মধ্যে যেন প্রকৃতিতে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে নানা রঙের ফুল। কৃষ্ণচূড়ার আবির নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে বর্ণিল রূপে। দেখে মনে হবে, প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন জ্বলছে।

ঝলমলে হলুদ সোনালু, বেগুনি জারুল, সাদা ও গোলাপি কাঠগোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলে ছেয়ে গেছে চারপাশ। সড়ক বিভাজক থেকে শুরু করে অলিগলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকা থেকে পদ্মাপাড়—সবখানেই যেন বসেছে রঙের মেলা। ইট-পাথরের নগরীতে প্রকৃতির এই উপস্থিতি পর্যটক এবং পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে প্রতিনিয়ত।

গ্রীষ্ম এলেই যে ফুলটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, সেটি কৃষ্ণচূড়া। নগরীর পদ্মাপাড় এলাকায় এখন এই ফুলের আধিপত্য স্পষ্ট। ডালে ডালে ফুটে থাকা লাল ফুলগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন আগুন জ্বলছে।

অন্যদিকে সোনালু ফুলের ঝুলন্ত হলুদ থোকা যেন নগরজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনালি আবেশ। দীর্ঘ মঞ্জুরিতে সাজানো ফুলগুলোকে দেখে মনে হয় গাছে ঝুলছে সোনার মালা। ক্যাসিয়া ফিস্টুলা নামের গাছটি অনেক জায়গায় ‘বানরলাঠি’ নামেও পরিচিত। গ্রীষ্মের শুরুতেই এ ফুল ফোটে এবং দ্রুতই গাছ ভরে যায় ফুলে ফুলে।

বেগুনি রঙের জারুল ফুল শহরের সৌন্দর্যে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলগুলো নগরীর প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও জীবন্ত। কাঠগোলাপ নগরীর মূল সড়কগুলোতে এ সময়ে ব্যাপকভাবে দৃষ্টি কাড়ছে। সাদা, গোলাপি কিংবা হালকা হলুদ আভায় ফুটে থাকা এ ফুলের কোমল সৌন্দর্য পথচারীদের মন ছুঁয়ে যায়। প্লুমেরিয়া অবটুসা নামের গাছটির বৈশিষ্ট্য হলো—অনেক সময় পাতা গজানোর আগেই ফুল ফুটতে শুরু করে। ফলে পুরো গাছটি ফুলে ঢেকে গিয়ে সৃষ্টি করে অপূর্ব দৃশ্য।

পর্যটক বা নগরবাসীর কাছে ফুলগুলো এখন শুধু সৌন্দর্যের উপাদান নয় বরং মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। সকালবেলার নরম আলো কিংবা বিকেলের মৃদু রোদে ফুলগুলোর রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যা ব্যস্ত পথচারীদের মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।

রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দা ফারহানা বলেন, ‌‘রাজশাহীর ফুলগুলো শহরকে একেবারে আলাদা করে তুলেছে। গরমের মধ্যেও এগুলো দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা বাংলাদেশে না, উন্নত এক দেশে আছি।’

রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসমাউল হক বলেন, ‘শহরটা এখন অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। তবে এ সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। অনেকেই আমরা ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছি, যা আসলেই কাম্য নয়। কারণ ‘বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে এসব ফুল দেখলে গ্রামের কথা মনে পড়ে। ব্যস্ত জীবনে কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।’

রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শাহ মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘ফুলগুলো শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রজাপতি আকর্ষণ করে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগালে নগরীর তাপমাত্রা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

বাহারি ফুলে রঙিন রাজশাহী, ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা

আপডেট টাইম : ০৮:২০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: বাহারি ফুলে রঙিন সাজে সেজেছে রাজশাহী মহানগরী। ইতোমধ্যে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে চারপাশ। তীব্র তাপদাহে পুড়লেও দেখা মিলছে না কাঙ্খিত বৃষ্টির। এর মধ্যে যেন প্রকৃতিতে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে নানা রঙের ফুল। কৃষ্ণচূড়ার আবির নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে বর্ণিল রূপে। দেখে মনে হবে, প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন জ্বলছে।

ঝলমলে হলুদ সোনালু, বেগুনি জারুল, সাদা ও গোলাপি কাঠগোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলে ছেয়ে গেছে চারপাশ। সড়ক বিভাজক থেকে শুরু করে অলিগলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকা থেকে পদ্মাপাড়—সবখানেই যেন বসেছে রঙের মেলা। ইট-পাথরের নগরীতে প্রকৃতির এই উপস্থিতি পর্যটক এবং পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে প্রতিনিয়ত।

গ্রীষ্ম এলেই যে ফুলটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, সেটি কৃষ্ণচূড়া। নগরীর পদ্মাপাড় এলাকায় এখন এই ফুলের আধিপত্য স্পষ্ট। ডালে ডালে ফুটে থাকা লাল ফুলগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন আগুন জ্বলছে।

অন্যদিকে সোনালু ফুলের ঝুলন্ত হলুদ থোকা যেন নগরজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনালি আবেশ। দীর্ঘ মঞ্জুরিতে সাজানো ফুলগুলোকে দেখে মনে হয় গাছে ঝুলছে সোনার মালা। ক্যাসিয়া ফিস্টুলা নামের গাছটি অনেক জায়গায় ‘বানরলাঠি’ নামেও পরিচিত। গ্রীষ্মের শুরুতেই এ ফুল ফোটে এবং দ্রুতই গাছ ভরে যায় ফুলে ফুলে।

বেগুনি রঙের জারুল ফুল শহরের সৌন্দর্যে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলগুলো নগরীর প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও জীবন্ত। কাঠগোলাপ নগরীর মূল সড়কগুলোতে এ সময়ে ব্যাপকভাবে দৃষ্টি কাড়ছে। সাদা, গোলাপি কিংবা হালকা হলুদ আভায় ফুটে থাকা এ ফুলের কোমল সৌন্দর্য পথচারীদের মন ছুঁয়ে যায়। প্লুমেরিয়া অবটুসা নামের গাছটির বৈশিষ্ট্য হলো—অনেক সময় পাতা গজানোর আগেই ফুল ফুটতে শুরু করে। ফলে পুরো গাছটি ফুলে ঢেকে গিয়ে সৃষ্টি করে অপূর্ব দৃশ্য।

পর্যটক বা নগরবাসীর কাছে ফুলগুলো এখন শুধু সৌন্দর্যের উপাদান নয় বরং মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। সকালবেলার নরম আলো কিংবা বিকেলের মৃদু রোদে ফুলগুলোর রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যা ব্যস্ত পথচারীদের মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।

রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দা ফারহানা বলেন, ‌‘রাজশাহীর ফুলগুলো শহরকে একেবারে আলাদা করে তুলেছে। গরমের মধ্যেও এগুলো দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা বাংলাদেশে না, উন্নত এক দেশে আছি।’

রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসমাউল হক বলেন, ‘শহরটা এখন অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। তবে এ সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। অনেকেই আমরা ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছি, যা আসলেই কাম্য নয়। কারণ ‘বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে এসব ফুল দেখলে গ্রামের কথা মনে পড়ে। ব্যস্ত জীবনে কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।’

রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শাহ মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘ফুলগুলো শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রজাপতি আকর্ষণ করে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগালে নগরীর তাপমাত্রা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।’


প্রিন্ট