ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের (এনসিএম) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হজের এক নতুন ঋতুচক্র। এর ফলে আগামী অন্তত ২৫ বছর পবিত্র হজ আর গ্রীষ্মকালে পড়বে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের মুখপাত্র হুসাইন আল-কাহতানি এক বিবৃতিতে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর হজের মৌসুমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী বছর থেকে পরবর্তী টানা আট বছর হজ হবে বসন্তকালে। এরপরের আট বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে শীতকালে। শীতকাল শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কয়েক বছর শরতের মনোরম আবহাওয়ায় হজ পালিত হবে। এভাবে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে ২০৫০ সালের দিকে হজ আবার গ্রীষ্মকালে ফিরে যাবে।

কেন এই পরিবর্তন?

সাধারণত ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে হিজরি ক্যালেন্ডার প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন এগিয়ে যায়। চাঁদের হিসাব অনুযায়ী দিন গণনার এই পার্থক্যের কারণে হজের সময়ও প্রতি বছর পেছাতে থাকে। প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্র পূরণ করে হজ আবার আগের ঋতুতে ফিরে আসে। এনসিএম ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী হজের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে আগামী আড়াই দশক হজযাত্রীদের আর তপ্ত রোদের প্রখরতার সঙ্গে লড়তে হবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মক্কার মসজিদুল হারাম ও আরাফার ময়দানে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তেন, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ছিল চরম শারীরিক পরীক্ষার সময়। ২৫ থেকে ৩০ মে’র মধ্যে এ বছর হজ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মূলত বসন্তের আবহাওয়ায় পড়বে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে মক্কায় একেবারেই গরম থাকবে না। তবে মে মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা গ্রীষ্মের সেই চরম পর্যায়ের চেয়ে অনেক কম ও সহনশীল থাকবে। এতে করে মিনায় অবস্থান, আরাফার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর মতো হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকনগুলো পালন করা অনেক সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য যেমন সহজ হবে, তেমনি হাজিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত পালন করতে পারবেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ

আপডেট টাইম : ০৫:৪৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের (এনসিএম) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হজের এক নতুন ঋতুচক্র। এর ফলে আগামী অন্তত ২৫ বছর পবিত্র হজ আর গ্রীষ্মকালে পড়বে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের মুখপাত্র হুসাইন আল-কাহতানি এক বিবৃতিতে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর হজের মৌসুমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী বছর থেকে পরবর্তী টানা আট বছর হজ হবে বসন্তকালে। এরপরের আট বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে শীতকালে। শীতকাল শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কয়েক বছর শরতের মনোরম আবহাওয়ায় হজ পালিত হবে। এভাবে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে ২০৫০ সালের দিকে হজ আবার গ্রীষ্মকালে ফিরে যাবে।

কেন এই পরিবর্তন?

সাধারণত ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে হিজরি ক্যালেন্ডার প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন এগিয়ে যায়। চাঁদের হিসাব অনুযায়ী দিন গণনার এই পার্থক্যের কারণে হজের সময়ও প্রতি বছর পেছাতে থাকে। প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্র পূরণ করে হজ আবার আগের ঋতুতে ফিরে আসে। এনসিএম ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী হজের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে আগামী আড়াই দশক হজযাত্রীদের আর তপ্ত রোদের প্রখরতার সঙ্গে লড়তে হবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মক্কার মসজিদুল হারাম ও আরাফার ময়দানে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তেন, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ছিল চরম শারীরিক পরীক্ষার সময়। ২৫ থেকে ৩০ মে’র মধ্যে এ বছর হজ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মূলত বসন্তের আবহাওয়ায় পড়বে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে মক্কায় একেবারেই গরম থাকবে না। তবে মে মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা গ্রীষ্মের সেই চরম পর্যায়ের চেয়ে অনেক কম ও সহনশীল থাকবে। এতে করে মিনায় অবস্থান, আরাফার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর মতো হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকনগুলো পালন করা অনেক সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য যেমন সহজ হবে, তেমনি হাজিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত পালন করতে পারবেন।


প্রিন্ট