ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

সরকারি জলাশয়ের মাছ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের গাজীরহাট কেল্লার পাশের একটি সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বাইজিদ গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আহতরা হলেন— জুয়েল (৪০), আসলাম (২৫), বাইজিদ (৩৫) ও আরিফ (২২)। আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওই জলাশয়ে ঝাউল ও বাঁধ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে মাছ আহরণ করার প্রচলন রয়েছে। শনিবার চণ্ডীপুর বাজারকেন্দ্রিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাইজিদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ জলাশয়ে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে বাইজিদ দাবি করেন, ভূমি অফিস থেকে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভূমি অফিসের পেশকার জাহিদ ভাই আমাকে পাঠিয়েছেন। মাছ ধরার পর ইউএনও অফিসের আরও কয়েকজন সেখানে আসার কথা ছিল।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে মাছ ধরার অনুমতি দেইনি। বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম মাত্র।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। আমি সবাইকে শান্ত থাকার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে। মাছ ধরার জন্য আমরা কাউকে পাঠাইনি। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

সরকারি জলাশয়ের মাছ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

আপডেট টাইম : ১০:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের গাজীরহাট কেল্লার পাশের একটি সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বাইজিদ গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আহতরা হলেন— জুয়েল (৪০), আসলাম (২৫), বাইজিদ (৩৫) ও আরিফ (২২)। আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওই জলাশয়ে ঝাউল ও বাঁধ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে মাছ আহরণ করার প্রচলন রয়েছে। শনিবার চণ্ডীপুর বাজারকেন্দ্রিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাইজিদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ জলাশয়ে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে বাইজিদ দাবি করেন, ভূমি অফিস থেকে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভূমি অফিসের পেশকার জাহিদ ভাই আমাকে পাঠিয়েছেন। মাছ ধরার পর ইউএনও অফিসের আরও কয়েকজন সেখানে আসার কথা ছিল।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে মাছ ধরার অনুমতি দেইনি। বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম মাত্র।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। আমি সবাইকে শান্ত থাকার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে। মাছ ধরার জন্য আমরা কাউকে পাঠাইনি। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট