ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডেনমার্কে রুশ নাশকতার প্রস্তুতির বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড তরুণদের উদ্যোক্তা হতে অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড রাজশাহীতে পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিংয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান সুনামগঞ্জের নতুনপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে চিত্রাংঙ্গন ও কুইজ প্রতিযোগিতা,ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্কুলের দায়িত্ব ফেলে গরুর হাটে ব্যবসা, অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে স্কুলে না থাকার অভিযোগ স্বামীর মৃত্যুর পরই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা, মোহাম্মদপুর চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে নওরিন সুলতানা মিশুর অভিযোগ শান্তিগঞ্জে হ্যান্ডকাপ অবস্হায় পুলিশের কাছ থেকে আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় স্বজনরা

সরকারি জলাশয়ের মাছ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের গাজীরহাট কেল্লার পাশের একটি সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বাইজিদ গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আহতরা হলেন— জুয়েল (৪০), আসলাম (২৫), বাইজিদ (৩৫) ও আরিফ (২২)। আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওই জলাশয়ে ঝাউল ও বাঁধ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে মাছ আহরণ করার প্রচলন রয়েছে। শনিবার চণ্ডীপুর বাজারকেন্দ্রিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাইজিদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ জলাশয়ে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে বাইজিদ দাবি করেন, ভূমি অফিস থেকে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভূমি অফিসের পেশকার জাহিদ ভাই আমাকে পাঠিয়েছেন। মাছ ধরার পর ইউএনও অফিসের আরও কয়েকজন সেখানে আসার কথা ছিল।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে মাছ ধরার অনুমতি দেইনি। বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম মাত্র।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। আমি সবাইকে শান্ত থাকার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে। মাছ ধরার জন্য আমরা কাউকে পাঠাইনি। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেনমার্কে রুশ নাশকতার প্রস্তুতির বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা

সরকারি জলাশয়ের মাছ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

আপডেট টাইম : ১০:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের গাজীরহাট কেল্লার পাশের একটি সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বাইজিদ গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আহতরা হলেন— জুয়েল (৪০), আসলাম (২৫), বাইজিদ (৩৫) ও আরিফ (২২)। আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওই জলাশয়ে ঝাউল ও বাঁধ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে মাছ আহরণ করার প্রচলন রয়েছে। শনিবার চণ্ডীপুর বাজারকেন্দ্রিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাইজিদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ জলাশয়ে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে বাইজিদ দাবি করেন, ভূমি অফিস থেকে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভূমি অফিসের পেশকার জাহিদ ভাই আমাকে পাঠিয়েছেন। মাছ ধরার পর ইউএনও অফিসের আরও কয়েকজন সেখানে আসার কথা ছিল।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে মাছ ধরার অনুমতি দেইনি। বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম মাত্র।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। আমি সবাইকে শান্ত থাকার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে। মাছ ধরার জন্য আমরা কাউকে পাঠাইনি। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট