ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ব্যাডমিন্টন কোর্ট গোদাগাড়ীর সেই তারেকের বিপুল পরিমাণ জমি ক্রোকের নির্দেশ মাদক সিন্ডিকেটের অবৈধ আয়ে বড় ধাক্কা ত্রাণ বিতরণ ও বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আগামীকাল বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় যাচ্ছেন যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না এইচএলপিএফ-এ জলবায়ু সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ বাংলাদেশের রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে: মাহদী আমিন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবেঃ জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানী মিরপুরে পানির তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি বান্দরবানে ৪ পর্যটককে উদ্ধার করেছে বিজিবি ডিসি সম্মেলনে পিরোজপুরের ডিসির প্রস্তাবের ইতিবাচক ফল, ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত

রাজধানী মিরপুরে পানির তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

রাজধানীর কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, কাফরুলসহ পল্লবী এলাকার বিভিন্ন সেকশনে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দিন দিন পানির এই সংকট ভয়বাহ আকার ধারণ করছে। সংকট শুরুর দুই মাস পার হতে চললেও মেলেনি কার্যকর কোনো সমাধান।

কাজীপাড়া, পূর্ব কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মনিপুর, পীরেরবাগ ও আশপাশের এলাকার হাজারো পরিবার পানির জন্য হাহাকার করছেন। দীর্ঘদিনের পানি সংকট, অনিয়মিত সরবরাহ এবং দৈনন্দিন ভোগান্তির কারণে অনেকেই এখন ওই এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।

শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আহমাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন একবার পানি দিচ্ছে ওয়াসা। ওই সময় পানি ধরে রেখে সারাদিনের কাজকর্ম করতে হয়। সামান্য এই পানিতে রান্নাবান্না কোনোভাবে চললেও গোসল ও কাপড়চোপড় ধোয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কখনও কখনও রান্নাবান্না চলে না, হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

ওই এলাকার তুর্য নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানান, পানি সংকটের কারণে অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় থেকে তাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। পানির অভাবে পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গোসল ও জামাকাপড় ঠিকঠাক পরিচ্ছন্ন না করা গেলে পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন বলেও জানান তুর্য।

আশফাকুর রহিম নামে এক বাড়ির মালিক জানান, সমস্যা দুই মাস ধরে চলছে। ভাড়াটিয়ারা বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে ওয়াসা থেকে পানির গাড়ি কিনতে হচ্ছে। তাতেও প্রয়োজন মিটছে না। সপ্তাহে কয়েক দিন পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে পানি এলেও তাতে প্রায়ই দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আবার পানির ট্যাংকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার।

মুনিরা জামান নামে ওই এলাকা এক নারী বাসিন্দা বলেন, মেট্রোরেলে অফিস যাতায়াত সুবিধাজনক বলে শেওড়াপাড়ায় বাসা নিয়েছিলাম। পানির এই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে তো এভাবে বসবাস করা যায় না। বাড়ির মালিককে বাসা ছেড়ে দেব বলে জানিয়ে দিয়েছি।

ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাকুর্তা প্ল্যান্টের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ব্যাপকভাবে নিচে নেমে গেছে। পানি শোধনাগারে বিঘ্ন হওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিম কাজীপাড়ায় কিছু দিন পরপর পানি সংকট দেখা দিচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসা জানায়, রাজধানীতে প্রতিদিন পানির মোট চাহিদা প্রায় ৩০০ কোটি লিটার। এই বিপুল চাহিদা পূরণে তারা প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি গভীর নলকূপ বসিয়েছে, যার মধ্যে কেবল মিরপুর এলাকাতেই আছে প্রায় ১৮০টি। তবে এত আয়োজনের পরও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াসা। ফলস্বরূপ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মনিপুর, ৬০ ফিট ও পীরবাগের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ব্যাডমিন্টন কোর্ট

রাজধানী মিরপুরে পানির তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, কাফরুলসহ পল্লবী এলাকার বিভিন্ন সেকশনে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দিন দিন পানির এই সংকট ভয়বাহ আকার ধারণ করছে। সংকট শুরুর দুই মাস পার হতে চললেও মেলেনি কার্যকর কোনো সমাধান।

কাজীপাড়া, পূর্ব কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মনিপুর, পীরেরবাগ ও আশপাশের এলাকার হাজারো পরিবার পানির জন্য হাহাকার করছেন। দীর্ঘদিনের পানি সংকট, অনিয়মিত সরবরাহ এবং দৈনন্দিন ভোগান্তির কারণে অনেকেই এখন ওই এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।

শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আহমাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন একবার পানি দিচ্ছে ওয়াসা। ওই সময় পানি ধরে রেখে সারাদিনের কাজকর্ম করতে হয়। সামান্য এই পানিতে রান্নাবান্না কোনোভাবে চললেও গোসল ও কাপড়চোপড় ধোয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কখনও কখনও রান্নাবান্না চলে না, হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

ওই এলাকার তুর্য নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানান, পানি সংকটের কারণে অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় থেকে তাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। পানির অভাবে পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গোসল ও জামাকাপড় ঠিকঠাক পরিচ্ছন্ন না করা গেলে পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন বলেও জানান তুর্য।

আশফাকুর রহিম নামে এক বাড়ির মালিক জানান, সমস্যা দুই মাস ধরে চলছে। ভাড়াটিয়ারা বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে ওয়াসা থেকে পানির গাড়ি কিনতে হচ্ছে। তাতেও প্রয়োজন মিটছে না। সপ্তাহে কয়েক দিন পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে পানি এলেও তাতে প্রায়ই দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আবার পানির ট্যাংকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার।

মুনিরা জামান নামে ওই এলাকা এক নারী বাসিন্দা বলেন, মেট্রোরেলে অফিস যাতায়াত সুবিধাজনক বলে শেওড়াপাড়ায় বাসা নিয়েছিলাম। পানির এই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে তো এভাবে বসবাস করা যায় না। বাড়ির মালিককে বাসা ছেড়ে দেব বলে জানিয়ে দিয়েছি।

ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাকুর্তা প্ল্যান্টের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ব্যাপকভাবে নিচে নেমে গেছে। পানি শোধনাগারে বিঘ্ন হওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিম কাজীপাড়ায় কিছু দিন পরপর পানি সংকট দেখা দিচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসা জানায়, রাজধানীতে প্রতিদিন পানির মোট চাহিদা প্রায় ৩০০ কোটি লিটার। এই বিপুল চাহিদা পূরণে তারা প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি গভীর নলকূপ বসিয়েছে, যার মধ্যে কেবল মিরপুর এলাকাতেই আছে প্রায় ১৮০টি। তবে এত আয়োজনের পরও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াসা। ফলস্বরূপ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মনিপুর, ৬০ ফিট ও পীরবাগের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।


প্রিন্ট