ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা : জ্বালানিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজায় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো হচ্ছে; ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে সহায়তা প্রত্যাশা করছি: অর্থমন্ত্রী অঢেল সম্পদের মালিক একাধিক মামলার আসামি অমিতের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির একাধিক তদন্ত হলেও অদ্যবধি কোনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি: ক্ষুব্ধ জনসাধারণ নাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা মুকুন্দপুর ইউনিয়নে মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ‎ কিশোরগ্যাং কিরন রবি দাশের হামলার শিকার ঋষীধারা বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা অংকন ব্যাণাজীর কালীগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শনে সহকারী কমিশনার (ভূমি), আদালতের রায় পর্যন্ত বালু ভরাটে নিষেধাজ্ঞা

সৃজনশীল প্রতিভাবানদেরও ঋণ দিতে বললেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রকিবেদক: সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পসহ সৃজনশীল খাতের প্রতিভাবানদেরও ঋণের আওতায় এনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি বা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৃজনশীল খাতের উদ্যোক্তাদেরও অর্থায়ন করতে হবে। শুধু ঋণ দিলেই হবে না, তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণেও সহায়তা দিতে হবে।

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন তহবিল’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বক্তব্য রাখেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে এ খাতের অবদান অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

দেশের অনেক শিক্ষিত ও সৃজনশীল মানুষ অর্থের অভাবে তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারছেন না উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত। এসব মানুষের কাছে অর্থায়নের সুযোগ পৌঁছে দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করা এ ধরনের তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য।

ঋণের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের সঙ্গে সুদ বা অর্থায়ন ব্যয় যুক্ত থাকায় উদ্যোক্তার মধ্যে বিনিয়োগ সফল করার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগের প্রতি একটি প্রণোদনাও তৈরি হয়। অন্যদিকে, বিনা খরচের অনুদানের অর্থ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজে লাগে না।

তিনি জানান, এ ধরনের অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আরো ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাঁতি, কাঁসাশিল্পী ও মৃত্তিকাশিল্পীসহ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই কাজ করে আসছে। তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক নকশা, মানসম্মত কাঁচামাল, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা করা গেলে এসব পণ্যের মূল্য অনেক বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, নকশা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ১০০ টাকার একটি পণ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিক্রি করা যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ দিলেই হবে না। তাদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তার সমন্বিত ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ঋণগুলো দিচ্ছেন, এর আওতা আরো বিস্তৃত করতে হবে। প্রচলিত উদ্যোগের পাশাপাশি যেসব সৃজনশীল প্রতিভা রয়েছে, তাদেরও এই অর্থায়নের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বাকি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করবে।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

সৃজনশীল প্রতিভাবানদেরও ঋণ দিতে বললেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রকিবেদক: সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পসহ সৃজনশীল খাতের প্রতিভাবানদেরও ঋণের আওতায় এনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি বা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৃজনশীল খাতের উদ্যোক্তাদেরও অর্থায়ন করতে হবে। শুধু ঋণ দিলেই হবে না, তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণেও সহায়তা দিতে হবে।

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন তহবিল’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বক্তব্য রাখেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে এ খাতের অবদান অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

দেশের অনেক শিক্ষিত ও সৃজনশীল মানুষ অর্থের অভাবে তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারছেন না উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত। এসব মানুষের কাছে অর্থায়নের সুযোগ পৌঁছে দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করা এ ধরনের তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য।

ঋণের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের সঙ্গে সুদ বা অর্থায়ন ব্যয় যুক্ত থাকায় উদ্যোক্তার মধ্যে বিনিয়োগ সফল করার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগের প্রতি একটি প্রণোদনাও তৈরি হয়। অন্যদিকে, বিনা খরচের অনুদানের অর্থ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজে লাগে না।

তিনি জানান, এ ধরনের অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আরো ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাঁতি, কাঁসাশিল্পী ও মৃত্তিকাশিল্পীসহ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই কাজ করে আসছে। তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক নকশা, মানসম্মত কাঁচামাল, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা করা গেলে এসব পণ্যের মূল্য অনেক বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, নকশা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ১০০ টাকার একটি পণ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিক্রি করা যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ দিলেই হবে না। তাদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তার সমন্বিত ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ঋণগুলো দিচ্ছেন, এর আওতা আরো বিস্তৃত করতে হবে। প্রচলিত উদ্যোগের পাশাপাশি যেসব সৃজনশীল প্রতিভা রয়েছে, তাদেরও এই অর্থায়নের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বাকি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করবে।’


প্রিন্ট