রিমন হোসেন,
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ার কথা তুলে ধরে মাসিক সহায়তা ভাতা, পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।
সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আমরা রেমিটেন্স যোদ্ধা’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে তারা দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
সেখানে ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা ঐক্য’ এর পক্ষে মোহাম্মদ আবুল কালাম নামে একজন বলেন, “ছুটিতে দেশে আসার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়ায় অনেক প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।” এ দিকে ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে দাবিগুলো মেনে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছে, “প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ”। উক্ত সংঘটনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেলিম রানা সহ পরিচালক রিমন হোসেন খুবই উদ্বিগ্ন। মূলত, দেশ ও প্রবাসী ভুক্তভোগীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছে উক্ত সংঘটনের সদস্যগণ।
প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেলিম রানা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে আসা প্রবাসীদের দাবি যৌক্তিক এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
পরিচালক রিমন হোসেন জানান, আমাদের সংগঠনের সদস্য দেশ এবং প্রবাসী ভুক্তভোগীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছে। আরব আমিরাত ফেরত ভুক্তভোগীদের দাবিগুলো যৌক্তিক আমরা উক্ত দাবিগুলো মানার আহ্বান জানাচ্ছি সরকারের নিকট।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মাসিক ১৫-২০ হাজার টাকা প্রবাসী সহায়তা ভাতা দেওয়া, কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের আরব আমিরাতে পাঠানো সম্ভব না হলে সরকারের উদ্যোগে উপযুক্ত অন্য দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং বিকল্প দেশে পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা ভাতা অব্যাহত রাখা।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা করে ভিসা জটিলতার দ্রুত সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করা। একইসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসুলার সেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার দাবিও তুলে ধরেছেন প্রবাসীরা।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসা নবায়ন, পুনঃপ্রাপ্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার স্থায়ী সমাধানেরও দাবি করেছেন তারা। বৈধভাবে কর্মরত ও অবস্থানরত প্রবাসীদের ভিসা সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান ও বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেইসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুনির্দিষ্ট প্রবাসী পেনশন বা কল্যাণ ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনারও দাবি তোলা হয়েছে।
গত জুলাই মাসে অনেক বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করতে শুরু করে আরব আমিরাত সরকার। তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফেও একাধিক বক্তব্য আসে। সেসময় পশ্চিম এশিয়ার দেশটির সরকারের কাছে ৩ অগাস্ট পর্যন্ত ৯৮৫ জনের ভিসা বাতিলের তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ।
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু বলেন, “ভিসা বাতিল হওয়া ৪ হাজার বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আমরা অবগত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















