ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১ মিষ্টি আপেল চিনে কিনবেন যেভাবে রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীন ভাষা ব্যবহারের আহ্বান রিজভীর সম্পদ কমলেও ভারতের ধনী অভিনেতার শীর্ষে শাহরুখ বাইকের ক্লাচ প্লেট দীর্ঘদিন ভালো রাখার সহজ উপায় অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল লাকসামে ২,৫০০ ভোটারের সুবিধা উপেক্ষা করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ: জুলকারনাইন মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি ‎পিরোজপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশে চীনের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ : মইন খান দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা রয়েছে: বাকৃবি উপাচার্য

জাতিসংঘের ভাষণে মামদানিকে আক্রমণ করতে পারেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র সমালোচনা করতে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করার পর দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। ইসরায়েলি নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এই ভাষণ অনেকটা নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্যের মতো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি পণ্য রপ্তানির ওপর ব্রিটেন সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সও একই ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে।

পশ্চিম তীরে হামাস সক্রিয় নয় বলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মন্তব্য করায় ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে গাজাই হামাসের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় মাখোঁর ওই মন্তব্যকে ‘চরম হাস্যকর’ বলে আখ্যায়িত করে। কার্যালয়টি আরও বলেছে, হামাস ‘প্রায় প্রতিদিনই ইহুদিদের ওপর হামলা চালায়।’

কার্যালয়টি বলেছে, ‘তারা জুডিয়া ও সামারিয়ায় অসংখ্য ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।’ পশ্চিম তীরকে ইসরাইল বাইবেলের নাম জুডিয়া ও সামারিয়া বলে অভিহিত করে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল অঞ্চলটি দখল করে।

গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ায় মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক এমনিতেই ভালো ছিল না।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রায় নিশ্চিতভাবেই গুরুত্ব পাবে।

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিচ্ছে ইসরাইল।

-জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা-

তবে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে জনপ্রিয় নয়। যুদ্ধের পর জ্বালানির দামও বেড়েছে।

বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বলেন, তেহরান ‘লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতিদের, গাজা ও জুডিয়া-সামারিয়ায় হামাস এবং ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেয়।’

তিনি ইরানকে এমন একটি ‘শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেন, ‘যা নিজ দেশের নাগরিকেরা প্রতিবাদ করার সাহস করলে তাদের হত্যা করে।’

নেতানিয়াহু জাতিসংঘ এবং বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেরও তীব্র সমালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তিনি গুতেরেসের ধারাবাহিক সমালোচক।

অস্বাভাবিকভাবে, গুতেরেস এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের পূর্ণ নাম উল্লেখ করেন। এসব পদক্ষেপে গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

নেতানিয়াহু সরকার বারবার জাতিসংঘের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের আড়াল করার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী ইসরাইলে হামাসের ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই হামলাই গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইল গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, অঞ্চলটির পুনর্গঠন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশেও বিধিনিষেধ আরোপ করছে দেশটি।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স এ সপ্তাহে এএফপিকে বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য গাজায় ইঞ্জিনের তেলের মতো জরুরি সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘অত্যন্ত কঠিন’ আচরণ করছে। অথচ বিলাসবহুল বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

সন্ডার্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইসরাইলি সরকার তাদের জনগণকে বোঝাতে চাইছে, কেন তাদের আবার নির্বাচিত করা উচিত।’

আগের বছরগুলোর মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ হতে পারে। তাঁর নীতির প্রতিবাদে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি বাইরে বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হতে পারেন।

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১

জাতিসংঘের ভাষণে মামদানিকে আক্রমণ করতে পারেন নেতানিয়াহু

আপডেট টাইম : ০৪:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র সমালোচনা করতে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করার পর দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। ইসরায়েলি নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এই ভাষণ অনেকটা নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্যের মতো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি পণ্য রপ্তানির ওপর ব্রিটেন সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সও একই ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে।

পশ্চিম তীরে হামাস সক্রিয় নয় বলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মন্তব্য করায় ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে গাজাই হামাসের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় মাখোঁর ওই মন্তব্যকে ‘চরম হাস্যকর’ বলে আখ্যায়িত করে। কার্যালয়টি আরও বলেছে, হামাস ‘প্রায় প্রতিদিনই ইহুদিদের ওপর হামলা চালায়।’

কার্যালয়টি বলেছে, ‘তারা জুডিয়া ও সামারিয়ায় অসংখ্য ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।’ পশ্চিম তীরকে ইসরাইল বাইবেলের নাম জুডিয়া ও সামারিয়া বলে অভিহিত করে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল অঞ্চলটি দখল করে।

গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ায় মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক এমনিতেই ভালো ছিল না।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রায় নিশ্চিতভাবেই গুরুত্ব পাবে।

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিচ্ছে ইসরাইল।

-জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা-

তবে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে জনপ্রিয় নয়। যুদ্ধের পর জ্বালানির দামও বেড়েছে।

বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বলেন, তেহরান ‘লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতিদের, গাজা ও জুডিয়া-সামারিয়ায় হামাস এবং ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেয়।’

তিনি ইরানকে এমন একটি ‘শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেন, ‘যা নিজ দেশের নাগরিকেরা প্রতিবাদ করার সাহস করলে তাদের হত্যা করে।’

নেতানিয়াহু জাতিসংঘ এবং বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেরও তীব্র সমালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তিনি গুতেরেসের ধারাবাহিক সমালোচক।

অস্বাভাবিকভাবে, গুতেরেস এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের পূর্ণ নাম উল্লেখ করেন। এসব পদক্ষেপে গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

নেতানিয়াহু সরকার বারবার জাতিসংঘের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের আড়াল করার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী ইসরাইলে হামাসের ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই হামলাই গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইল গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, অঞ্চলটির পুনর্গঠন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশেও বিধিনিষেধ আরোপ করছে দেশটি।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স এ সপ্তাহে এএফপিকে বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য গাজায় ইঞ্জিনের তেলের মতো জরুরি সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘অত্যন্ত কঠিন’ আচরণ করছে। অথচ বিলাসবহুল বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

সন্ডার্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইসরাইলি সরকার তাদের জনগণকে বোঝাতে চাইছে, কেন তাদের আবার নির্বাচিত করা উচিত।’

আগের বছরগুলোর মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ হতে পারে। তাঁর নীতির প্রতিবাদে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি বাইরে বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হতে পারেন।

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


প্রিন্ট