ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পেটে নানা সমস্যা, অন্ত্রের কৃমি নয় তো! সম্পর্ক ঠিক রাখতে যেটা সত্যি কাজে দেয়, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জবির ২৯ শিক্ষার্থী মনোনীত অক্টোবরে শেষ হতে পারে জিয়াউলের গুম-খুনের মামলার বিচার কাজ পুত্রের জন্মদিনে শাকিব-অপুর বিশেষ বার্তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি ইউনানের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে একগুচ্ছ প্রস্তাব বাংলাদেশের এগিয়ে গিয়েও জয় অধরাই থাকল বাংলাদেশের রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুইজারল্যান্ডে গণভোট, নিরপেক্ষতার কঠোর সংজ্ঞা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব দেন।

সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নেন। তাদের কাছ থেকে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি জানান,অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নিয়েছেন। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বারবারই তাদের আহ্বান জানিয়েছি এবং আহ্বান জানাই। তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। আপনাদের যে সমস্ত বক্তব্য আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার প্রেক্ষিতে যেগুলো গ্রহণযোগ্য, সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা গ্রহণ করব। এটা ভালো হতো, তারা যদি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। তাহলে দলের পক্ষ থেকে উচ্চারিত অনেক বিষয় আমরা ধারণ করতে পারতাম।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের মধ্যে পক্ষ থাকুক, বিভক্তি না। জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে স্বাক্ষরিত করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলো ধারণ করব।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নিতে হয়।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যেহেতু আমরা একমত হয়েছি, আমরা ধারণ করব। ভবিষ্যতে কোনো পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে যেন গণভোটে যেতে হয়, এই চারটা বিধানের সঙ্গে এই দুইটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একমত হয়েছিল। এটা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল।

সালাহউদ্দিন জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেগুলোতে গণভোট হবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে ডিসেম্বরের ভিতরে আমরা আমাদের রিপোর্টটা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে পারি। সেই ক্ষেত্রে এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটা বিল আসবে। আমি আশা করি, জানুয়ারি সেশনে, যেটা বছরের প্রথম অধিবেশন, সেই সেশনে বিলটা আসবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেটে নানা সমস্যা, অন্ত্রের কৃমি নয় তো!

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

আপডেট টাইম : ০৭:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব দেন।

সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নেন। তাদের কাছ থেকে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি জানান,অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নিয়েছেন। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বারবারই তাদের আহ্বান জানিয়েছি এবং আহ্বান জানাই। তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। আপনাদের যে সমস্ত বক্তব্য আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার প্রেক্ষিতে যেগুলো গ্রহণযোগ্য, সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা গ্রহণ করব। এটা ভালো হতো, তারা যদি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। তাহলে দলের পক্ষ থেকে উচ্চারিত অনেক বিষয় আমরা ধারণ করতে পারতাম।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের মধ্যে পক্ষ থাকুক, বিভক্তি না। জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে স্বাক্ষরিত করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলো ধারণ করব।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নিতে হয়।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যেহেতু আমরা একমত হয়েছি, আমরা ধারণ করব। ভবিষ্যতে কোনো পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে যেন গণভোটে যেতে হয়, এই চারটা বিধানের সঙ্গে এই দুইটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একমত হয়েছিল। এটা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল।

সালাহউদ্দিন জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেগুলোতে গণভোট হবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে ডিসেম্বরের ভিতরে আমরা আমাদের রিপোর্টটা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে পারি। সেই ক্ষেত্রে এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটা বিল আসবে। আমি আশা করি, জানুয়ারি সেশনে, যেটা বছরের প্রথম অধিবেশন, সেই সেশনে বিলটা আসবে।


প্রিন্ট