নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন প্রায় শতভাগ কারখানায় পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বুধবার রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নানা সংকটের মধ্যেও বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলো শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাদের বেতন, ভাতা ও উৎসব বোনাস পরিশোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এর ফলে শ্রমিকরা তাদের আইনসম্মত পাওনা বুঝে পেয়েছেন এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুত ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করায় উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। এতে শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিজিএমইএ’র তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কয়েকটি কারখানায় পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা আজকের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও প্রায় ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ কারখানা মানবিক বিবেচনায় মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম হিসেবে শ্রমিকদের প্রদান করেছে।
শিল্পাঞ্চলে যাত্রীদের চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলোতেও ছুটি দেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।