বিনোদন ডেস্ক:
কক্সবাজারের টেকনাফের তরুণ ইসমাইল আহমেদ রোহিঙ্গা ভাষার গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রমের দীর্ঘ গল্প।
টেকনাফে জন্ম নেওয়া ইসমাইল দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে ছোটবেলা থেকেই দিনমজুরি ও বিভিন্ন ধরনের শ্রমের কাজ করেছেন।
পরবর্তীতে টেকনাফ বিজিবি ক্যাম্পে নৌকার মাঝি হিসেবে প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। ইসমাইলের ভাষ্য, কর্মজীবনে বিজিবি সদস্যরা তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন, যা তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
পরে তিনি ঢাকায় এক বড় ভাইয়ের কাছে চলে যান। সেখানে গান, গিটার ও কিবোর্ড বাজানো শেখার সুযোগ পান। ওই বড় ভাই তাকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রেখে শিল্পী হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেন।
এক ঈদের ছুটিতে টেকনাফে এসে তিনি লক্ষ্য করেন, স্থানীয় মানুষ রোহিঙ্গা ভাষার গান বেশ আগ্রহ নিয়ে শুনছেন। একটি জনপ্রিয় রোহিঙ্গা গান “মনোত খুশিলার” গেয়ে টিকটকে আপলোড করেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
বর্তমানে ইসমাইল আহমেদ শুধু গান নিয়েই থেমে থাকতে চান না। তিনি কবিতা ও আবৃত্তি চর্চা করছেন, বই পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও দক্ষ হতে ইংরেজিতে কথা বলার কোর্সও সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এই তরুণের স্বপ্ন, সংগীত ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























