কুড়িগ্রামে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির উৎসব। কুড়িগ্রামের চিরাচরিত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ বজায় রেখে যেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থানীয় সেচ্ছাসেবকদের নিয়ে সমন্বিত মনিটরিং টিম কাজ করবে। যেকোনো গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।’
সভায় বিশেষ বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, এনএসআইয়ের উপ পরিচালক আনিসুর রহমান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির হোসেন।
সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল ও আরিফুল ইসলাম রিগ্যান।
বক্তারা বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ -এই নীতিতে বিশ্বাস করে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের মানুষ পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















