ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআইয়ের প্রভাবে কমছে নতুন স্নাতকদের চাকরির সুযোগ

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে চাকরির বাজারে নতুন স্নাতকদের চাহিদা কমছে। বিশেষ করে যেসব খাতে এআইয়ের ব্যবহার বেশি, সেসব ক্ষেত্রে এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

থারমান শানমুগারত্নম বলেন, বর্তমানে এমন একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর কর্মজীবনের প্রথম ধাপে প্রবেশের সুযোগ কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ নতুন স্নাতকদের প্রথম চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় চাহিদা কম দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যেসব খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেখানে নতুন স্নাতকদের চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার প্রবণতা আরও পরিষ্কার।

সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এআইয়ের বিস্তার শুধু প্রযুক্তি খাতের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে না, কর্মসংস্থানের সুযোগেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর নতুন কর্মীরা বিভিন্ন প্রাথমিক পর্যায়ের পদে যোগ দেন। এসব পদে অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে তারা ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। তবে এআইয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হওয়ায় এসব পদে কর্মীর চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান নিয়ে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ভাবার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন থারমান শানমুগারত্নম। এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে যে পরিবর্তন আসছে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

একই সঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নতুন বৈষম্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট। তার আশঙ্কা, এআইয়ের বিস্তারের কারণে অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে এআই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা তৈরি হবে এবং কর্মজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআইয়ের প্রভাবে কমছে নতুন স্নাতকদের চাকরির সুযোগ

আপডেট টাইম : ১২:২৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে চাকরির বাজারে নতুন স্নাতকদের চাহিদা কমছে। বিশেষ করে যেসব খাতে এআইয়ের ব্যবহার বেশি, সেসব ক্ষেত্রে এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

থারমান শানমুগারত্নম বলেন, বর্তমানে এমন একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর কর্মজীবনের প্রথম ধাপে প্রবেশের সুযোগ কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ নতুন স্নাতকদের প্রথম চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় চাহিদা কম দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যেসব খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেখানে নতুন স্নাতকদের চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার প্রবণতা আরও পরিষ্কার।

সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এআইয়ের বিস্তার শুধু প্রযুক্তি খাতের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে না, কর্মসংস্থানের সুযোগেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর নতুন কর্মীরা বিভিন্ন প্রাথমিক পর্যায়ের পদে যোগ দেন। এসব পদে অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে তারা ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। তবে এআইয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হওয়ায় এসব পদে কর্মীর চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান নিয়ে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ভাবার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন থারমান শানমুগারত্নম। এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে যে পরিবর্তন আসছে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

একই সঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নতুন বৈষম্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট। তার আশঙ্কা, এআইয়ের বিস্তারের কারণে অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে এআই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা তৈরি হবে এবং কর্মজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


প্রিন্ট