ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক স্বত্ব বিক্রিতে রেকর্ড গড়ল শাহরুখের ‘কিং’ রোনালদোকে নিয়ে সংশয়, পর্তুগাল দলে নতুন বিপদ মৃত্যুঝুঁকি পেরিয়ে এবার ৩ দেশে দীর্ঘ সফরে পোপ দেশের যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মানবতার কল্যাণে আশরাফ রাজিয়া ফাউন্ডেশন — মুর্শেদুল ইসলাম লাখপুর শিমুলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে থেমে থেমে চলছে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ১৫ কিলোমিটার জুড়ে আটকে আছে যানবাহন দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলায় দিনাজপুর মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত জেলা কমিটিকে সংবর্ধনা কেশবপুরে দীঘির পানিতে অর্ধগলিত নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধার বালীগাঁও মধ্যপাড়া যুব সমাজের উদ্যেগে বালীগাঁও প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেট বিপিএল সিজন -৫ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন। জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠন করবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্দোলন করে কি সরকার গঠন করা সম্ভব? সরকার গঠনের সঠিক পথ একমাত্র নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে দেশে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের অনুধাবন করতে হবে যে দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণই সবার আগে।

দেশে একটি সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে তার সুফল সরাসরি জনগণ পাবে। আর সরকার যদি ভালো কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত ও মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ক্রমাগত বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে সেই সুযোগ তৃতীয় কোনো পক্ষ নেবে। দুই ভাই যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক এসে সালিশ করার সুযোগ পায় এবং একপর্যায়ে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কবজা করতে চায়। যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, নিজেদের কোন্দলের মাধ্যমে তাদের পথই সুগম করা হচ্ছে।

দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ ধ্বংস হয়ে গেলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কোনো জবাব দিতে পারব না। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে আমরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বহু মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। এখন সব বিভেদ ভুলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আসল সময় এসেছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব স্তর থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অপতৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একটি গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কিছু মানুষ এখনো অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে তথা দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়। এ ধরনের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে প্রকৌশলীদের অবদান অনস্বীকার্য। দক্ষ ও সুশিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে এবং বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রকৌশলীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, পেশাজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন।

আইডিইবির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক স্বত্ব বিক্রিতে রেকর্ড গড়ল শাহরুখের ‘কিং’

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

আপডেট টাইম : ০৮:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন। জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠন করবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্দোলন করে কি সরকার গঠন করা সম্ভব? সরকার গঠনের সঠিক পথ একমাত্র নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে দেশে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের অনুধাবন করতে হবে যে দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণই সবার আগে।

দেশে একটি সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে তার সুফল সরাসরি জনগণ পাবে। আর সরকার যদি ভালো কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত ও মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ক্রমাগত বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে সেই সুযোগ তৃতীয় কোনো পক্ষ নেবে। দুই ভাই যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক এসে সালিশ করার সুযোগ পায় এবং একপর্যায়ে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কবজা করতে চায়। যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, নিজেদের কোন্দলের মাধ্যমে তাদের পথই সুগম করা হচ্ছে।

দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ ধ্বংস হয়ে গেলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কোনো জবাব দিতে পারব না। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে আমরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বহু মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। এখন সব বিভেদ ভুলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আসল সময় এসেছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব স্তর থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অপতৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একটি গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কিছু মানুষ এখনো অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে তথা দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়। এ ধরনের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে প্রকৌশলীদের অবদান অনস্বীকার্য। দক্ষ ও সুশিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে এবং বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রকৌশলীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, পেশাজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন।

আইডিইবির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট