ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ ঝিনাইদহে সচেতনতামূলক পুষ্টি মেলা প্রতিদিন যে খাবার খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে যে ৫টি প্রত্যাশা থেকে দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে নর্থ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেট আসন ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাট কুপার সিরাজগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন জ্বালানি অনুসন্ধানে ব্রুনাইকে বিনিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও কমনওয়েলথ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিম্নতম মজুরী বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী এআই নিয়ে ঢাকায় বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক সামিট, থাকছে ১৫০ স্টলের প্রদর্শনী

এআই নিয়ে ঢাকায় বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক সামিট, থাকছে ১৫০ স্টলের প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, বাণিজ্য ও ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় বসছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সামিট উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চলমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।

তিনি বলেন, মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং একটি টেকসই এআই পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন দাঁড়িয়ে রয়েছে মানুষ, ব্যবসা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এই তিনের নিখুঁত সমন্বয়ের ওপর।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআই-এর এই সুদৃঢ় যৌথ প্রয়াস দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির রূপান্তর এবং একটি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে মূলত চারটি মূল স্তম্ভ বা পিলারের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো (স্টেম শিক্ষা), গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও পেপারকে কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সরাসরি বাজারের উপযোগী করা, ইনভেস্টর ও মার্কেটের সাথে গবেষকদের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, স্পেস রিসার্চ ও ব্ল-ইকোনমি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা।

এছাড়া দেশে প্রচুর মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হওয়ায় তাদের কাজে লাগাতে এবং নতুন ড্রাগ ও লাইফস্টাইল পণ্য উদ্ভাবনের জন্য বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে বলেও সচিব উল্লেখ করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, আর্থিক সেবা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, এ জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, সামিটে উদ্বোধনী অধিবেশনের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক তিনটি অধিবেশন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির জন্য বিটুবি ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ‘এআই বিজনেস এক্সপো’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি এআই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০টি স্টলে পণ্য ও সেবা প্রদর্শিত হবে।

একই সঙ্গে দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারা তাঁদের উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক ধারণা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ

এআই নিয়ে ঢাকায় বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক সামিট, থাকছে ১৫০ স্টলের প্রদর্শনী

আপডেট টাইম : ০১:২২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, বাণিজ্য ও ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় বসছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সামিট উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চলমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।

তিনি বলেন, মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং একটি টেকসই এআই পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন দাঁড়িয়ে রয়েছে মানুষ, ব্যবসা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এই তিনের নিখুঁত সমন্বয়ের ওপর।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআই-এর এই সুদৃঢ় যৌথ প্রয়াস দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির রূপান্তর এবং একটি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে মূলত চারটি মূল স্তম্ভ বা পিলারের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো (স্টেম শিক্ষা), গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও পেপারকে কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সরাসরি বাজারের উপযোগী করা, ইনভেস্টর ও মার্কেটের সাথে গবেষকদের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, স্পেস রিসার্চ ও ব্ল-ইকোনমি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা।

এছাড়া দেশে প্রচুর মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হওয়ায় তাদের কাজে লাগাতে এবং নতুন ড্রাগ ও লাইফস্টাইল পণ্য উদ্ভাবনের জন্য বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে বলেও সচিব উল্লেখ করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, আর্থিক সেবা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, এ জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, সামিটে উদ্বোধনী অধিবেশনের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক তিনটি অধিবেশন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির জন্য বিটুবি ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ‘এআই বিজনেস এক্সপো’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি এআই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০টি স্টলে পণ্য ও সেবা প্রদর্শিত হবে।

একই সঙ্গে দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারা তাঁদের উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক ধারণা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট