ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ ঝিনাইদহে সচেতনতামূলক পুষ্টি মেলা প্রতিদিন যে খাবার খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে যে ৫টি প্রত্যাশা থেকে দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে নর্থ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেট আসন ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাট কুপার সিরাজগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন জ্বালানি অনুসন্ধানে ব্রুনাইকে বিনিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও কমনওয়েলথ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিম্নতম মজুরী বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী এআই নিয়ে ঢাকায় বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক সামিট, থাকছে ১৫০ স্টলের প্রদর্শনী

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে যে ৫টি প্রত্যাশা থেকে দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: পারিবারিক বা ঘটকালিভিত্তিক বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবনের সূচনা হয় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে। দুই পরিবারের উচ্ছ্বাস আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় নবদম্পতি প্রায়ই দেখতে পান যে, বৈবাহিক জীবন নিয়ে তাদের দুজনের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বেশ বড় ফারাক রয়েছে।

পারিবারিক দায়িত্ব থেকে শুরু করে আবেগীয় চাহিদা- বিভিন্ন বিষয়ে প্রত্যাশাগুলো নিয়ে আলোচনা না হলে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের ঝগড়ায় রূপ নিতে পারে। এমন পাঁচটি সাধারণ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হলো, যা এ ধরনের বিয়েতে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করতে পারে-

একজন সঙ্গীর ওপর বেশি মানিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রাখা

অনেক দাম্পত্য সম্পর্কেই এমনটা দেখা যায় যে, কোনো একজন সঙ্গীর ওপরই অধিকাংশ ছাড় দেওয়ার চাপ থাকে। এর অর্থ হতে পারে নিজের দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন করা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ত্যাগ করা অথবা নতুন পারিবারিক নিয়মের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন অন্য সঙ্গী নিজে কোনো ছাড় দিতে বা মানিয়ে নিতে আগ্রহী হন না। একটি সুন্দর ও সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য উভয় সঙ্গীরই একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং একে অপরের চাহিদাকে সম্মান করা জরুরি।

সঙ্গী মনের কথা নিজে থেকেই বুঝে নেবে- এমন প্রত্যাশা রাখা

অনেক সময় একজন সঙ্গী আশা করেন যে, তিনি যখন মন খারাপ করে থাকেন বা তার কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, তখন অন্য সঙ্গী তা নিজে থেকেই বুঝে নেবেন। তার জন্য তাকে আলাদা করে কিছু বলতে হবে না।

কিন্তু মানুষ তাদের অনুভূতি ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ করে। একজনের কাছে যা খুব স্পষ্ট মনে হতে পারে, অন্যজনের কাছে তা হয়তো মোটেও পরিষ্কার নয়। সঙ্গী নিজে থেকে সব বুঝে নেবে- এমনটা আশা না করে, দম্পতিদের উচিত তাদের অনুভূতি ও প্রয়োজন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা।

সব সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রাখা

পারিবারিক বা ঘটকালি-নির্ভর বিয়েতে পরিবারের সম্পৃক্ততা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কথাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

কোথায় থাকবেন, কীভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনা করবেন কিংবা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা- এসব বিষয়ে উভয় সঙ্গীরই মতামত থাকা উচিত। বাবা-মাকে সম্মান করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে দম্পতিদের নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো স্বাধীনতাও থাকা প্রয়োজন।

সব গৃহস্থালির কাজ স্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রাখা

কিছু পরিবারে এখনো এমন প্রত্যাশা থাকে যে, নারীরাই রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার করা এবং অন্যান্য গৃহস্থালির দায়িত্ব সামলাবেন- এমনকী যখন সেই নারী বাইরে পূর্ণকালীন চাকরি করেন, তখনও।

এর ফলে একজন সঙ্গী নিজেকে অতিরিক্ত চাপে জর্জরিত এবং অবমূল্যায়িত মনে করতে পারেন। ঘরের কাজ কেবল স্ত্রীর দায়িত্ব- এমনটা না ভেবে, বরং এই কাজগুলো সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত।

বিয়ের পরপরই ভালোবাসা তৈরি হবে- এমন প্রত্যাশা রাখা

বিয়ে করলেই যে দুজন মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, তা কিন্তু নয়। পারিবারিক বা ঘটকালি-নির্ভর বিয়েতে একে অপরের অভ্যাস, ব্যক্তিত্ব এবং আবেগীয় চাহিদাগুলো বোঝার জন্য দম্পতিদের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

বিয়ের পরপরই খুব ঘনিষ্ঠতা বা গভীর ভালোবাসা আশা করাটা অযথা চাপের সৃষ্টি করতে পারে। ভালোবাসা কত দ্রুত গড়ে ওঠে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে, দম্পতিরা পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার ওপর এবং নিজেদের গতিতে একে অপরকে জানার ওপর মনোযোগ দিতে পারেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে যে ৫টি প্রত্যাশা থেকে দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে

আপডেট টাইম : ০২:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: পারিবারিক বা ঘটকালিভিত্তিক বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবনের সূচনা হয় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে। দুই পরিবারের উচ্ছ্বাস আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় নবদম্পতি প্রায়ই দেখতে পান যে, বৈবাহিক জীবন নিয়ে তাদের দুজনের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বেশ বড় ফারাক রয়েছে।

পারিবারিক দায়িত্ব থেকে শুরু করে আবেগীয় চাহিদা- বিভিন্ন বিষয়ে প্রত্যাশাগুলো নিয়ে আলোচনা না হলে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের ঝগড়ায় রূপ নিতে পারে। এমন পাঁচটি সাধারণ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হলো, যা এ ধরনের বিয়েতে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করতে পারে-

একজন সঙ্গীর ওপর বেশি মানিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রাখা

অনেক দাম্পত্য সম্পর্কেই এমনটা দেখা যায় যে, কোনো একজন সঙ্গীর ওপরই অধিকাংশ ছাড় দেওয়ার চাপ থাকে। এর অর্থ হতে পারে নিজের দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন করা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ত্যাগ করা অথবা নতুন পারিবারিক নিয়মের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন অন্য সঙ্গী নিজে কোনো ছাড় দিতে বা মানিয়ে নিতে আগ্রহী হন না। একটি সুন্দর ও সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য উভয় সঙ্গীরই একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং একে অপরের চাহিদাকে সম্মান করা জরুরি।

সঙ্গী মনের কথা নিজে থেকেই বুঝে নেবে- এমন প্রত্যাশা রাখা

অনেক সময় একজন সঙ্গী আশা করেন যে, তিনি যখন মন খারাপ করে থাকেন বা তার কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, তখন অন্য সঙ্গী তা নিজে থেকেই বুঝে নেবেন। তার জন্য তাকে আলাদা করে কিছু বলতে হবে না।

কিন্তু মানুষ তাদের অনুভূতি ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ করে। একজনের কাছে যা খুব স্পষ্ট মনে হতে পারে, অন্যজনের কাছে তা হয়তো মোটেও পরিষ্কার নয়। সঙ্গী নিজে থেকে সব বুঝে নেবে- এমনটা আশা না করে, দম্পতিদের উচিত তাদের অনুভূতি ও প্রয়োজন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা।

সব সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রাখা

পারিবারিক বা ঘটকালি-নির্ভর বিয়েতে পরিবারের সম্পৃক্ততা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কথাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

কোথায় থাকবেন, কীভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনা করবেন কিংবা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা- এসব বিষয়ে উভয় সঙ্গীরই মতামত থাকা উচিত। বাবা-মাকে সম্মান করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে দম্পতিদের নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো স্বাধীনতাও থাকা প্রয়োজন।

সব গৃহস্থালির কাজ স্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রাখা

কিছু পরিবারে এখনো এমন প্রত্যাশা থাকে যে, নারীরাই রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার করা এবং অন্যান্য গৃহস্থালির দায়িত্ব সামলাবেন- এমনকী যখন সেই নারী বাইরে পূর্ণকালীন চাকরি করেন, তখনও।

এর ফলে একজন সঙ্গী নিজেকে অতিরিক্ত চাপে জর্জরিত এবং অবমূল্যায়িত মনে করতে পারেন। ঘরের কাজ কেবল স্ত্রীর দায়িত্ব- এমনটা না ভেবে, বরং এই কাজগুলো সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত।

বিয়ের পরপরই ভালোবাসা তৈরি হবে- এমন প্রত্যাশা রাখা

বিয়ে করলেই যে দুজন মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, তা কিন্তু নয়। পারিবারিক বা ঘটকালি-নির্ভর বিয়েতে একে অপরের অভ্যাস, ব্যক্তিত্ব এবং আবেগীয় চাহিদাগুলো বোঝার জন্য দম্পতিদের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

বিয়ের পরপরই খুব ঘনিষ্ঠতা বা গভীর ভালোবাসা আশা করাটা অযথা চাপের সৃষ্টি করতে পারে। ভালোবাসা কত দ্রুত গড়ে ওঠে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে, দম্পতিরা পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার ওপর এবং নিজেদের গতিতে একে অপরকে জানার ওপর মনোযোগ দিতে পারেন।


প্রিন্ট