ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা শূকরের ভাইরাস সোয়াইন ফ্লু’তে আক্রান্ত ইমরান হাশমি গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে : নাহিদ ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ব্রেকআপের ঠিক পরেই যে ৫টি কাজ কখনোই করা উচিত নয় ডিমের চেয়েও বেশি প্রোটিন পেতে খেতে পারেন যেসব খাবার বেস্ট ফ্রেন্ড সাফার জন্মদিন, শুভেচ্ছায় যা বললেন তৌসিফ মাভাবিপ্রবিতে ১৫ দিনব্যাপী তিন হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

আমির হোসাইনঃ
স্টাফ রিপোর্টারঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চড়গাঁও গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী ছমিনা আক্তার (৩০) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী জুয়েল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নিহতের গ্রামের বাড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকার গোলাকান্দাইল সাওঘাটের একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানের জননী ছমিনা আক্তারকে গলা টিপে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী জুয়েল মিয়া (৩৮) ঘরের ভেতরে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় একই রাতে ঢাকার ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়।

এদিকে, ৯ জুলাই সকালে নিহত ছমিনার গ্রামের বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চড়গাঁও গ্রামে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।

নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় নয় বছর আগে একই গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে ছমিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় ছমিনার ওপর নির্যাতন চালাতেন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছে।

পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জুয়েলকে তালাক দেন ছমিনা। এরপর দুই সন্তানকে বাবা-মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় কাজের সন্ধানে যান। পরে রূপগঞ্জ এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

পরিবারের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে জুয়েল রূপগঞ্জে গিয়ে ছমিনার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন এবং বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে একই বাসায় থাকতে শুরু করেন। ঘটনার দিন বাড়িতে ফেরা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছমিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শুধু জুয়েল নয়, তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত সকলের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই রাতে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই মুসা মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

আপডেট টাইম : ০২:১৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আমির হোসাইনঃ
স্টাফ রিপোর্টারঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চড়গাঁও গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী ছমিনা আক্তার (৩০) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী জুয়েল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নিহতের গ্রামের বাড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকার গোলাকান্দাইল সাওঘাটের একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানের জননী ছমিনা আক্তারকে গলা টিপে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী জুয়েল মিয়া (৩৮) ঘরের ভেতরে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় একই রাতে ঢাকার ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়।

এদিকে, ৯ জুলাই সকালে নিহত ছমিনার গ্রামের বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চড়গাঁও গ্রামে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।

নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় নয় বছর আগে একই গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে ছমিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় ছমিনার ওপর নির্যাতন চালাতেন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছে।

পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জুয়েলকে তালাক দেন ছমিনা। এরপর দুই সন্তানকে বাবা-মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় কাজের সন্ধানে যান। পরে রূপগঞ্জ এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

পরিবারের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে জুয়েল রূপগঞ্জে গিয়ে ছমিনার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন এবং বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে একই বাসায় থাকতে শুরু করেন। ঘটনার দিন বাড়িতে ফেরা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছমিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শুধু জুয়েল নয়, তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত সকলের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই রাতে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই মুসা মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট