ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

অস্তিত্ব সংকটে ভারতের ভোডাফোন

অনলাইন ডেস্ক: ভারত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ টেলিকম বাজার। দেশটিতে গ্রাহকের সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। তারপরেও ভারতের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম কোম্পানি ভোডাফোন ইন্ডিয়া রেকর্ড পরিমাণ লোকসান দিয়েছে। আর এ লোকসানের পরিমাণ ৭০০ কোটি ডলার।

এই লোকসানের পেছনে মূলত দুটো কারণ দেখছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম । প্রথম কারণটি হচ্ছে, ভারতে বহু বছর যাবৎ টেলিফোন কলের রেট নিম্নগামী। দ্বিতীয় কারণটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এ সময় টেলিফোন ডাটার দাম ছিল বেশি।

তিন বছর আগে রিলায়েন্সের জিও মোবাইল নেটওয়ার্ক বাজারে আসার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এ কোম্পানিটি মোবাইল ডাটার দাম কমিয়ে দেয়। ফলে গ্রাহকরা টেলিফোনে কথা বলে খরচ করার চেয়ে ডাটা ব্যবহারে বেশি মনোযোগী। পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে থাকে। রিলায়েন্সের এ পদক্ষেপ অন্য কোম্পানিগুলোর ওপর অনেক চাপ তৈরি করে। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্য কোম্পানিগুলোও তাদের মোবাইল ডাটার দাম কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে তাদের লাভ কমে লোকসানের দিকে যাত্রা শুরু হয়।

বিবিসি বলছে, টেলিকম কোম্পানিগুলো যা আয় করে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকারের টেলিকম ডিপার্টমেন্টকে দিতে হয়। এ নিয়ে টেলিকম কোম্পানিগুলো এবং সরকারের মধ্য ২০০৫ সাল থেকেই মতবিরোধ চলছিল। কোম্পানিগুলো চেয়েছিল তাদের লভ্যাংশ থেকে সরকারকে দিতে। কিন্তু সরকার এর চেয়েও বেশি চেয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিক্রি এবং জমানো অর্থের সুদের ওপরও অংশ দাবি করে সরকার।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে টেলিফোন কোম্পানিগুলো সরকারকে ৯০ হাজার কোটি রুপি দিতে বাধ্য হবে। এর মধ্যে ভোডাফোন ইন্ডিয়া এককভাবে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি রুপি। এর ফলে তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি ভোডাফোনের প্রধান নির্বাহী নিক রিড সতর্ক করে বলেছেন, ভারতে কোম্পানির কার্যক্রম সংশয়ের মধ্যে পড়বে যদি সরকার কর এবং নানাবিধ চার্জ আরোপের মাধ্যমে আঘাত করা বন্ধ না করে।
ভোডাফোন ভারতের কোম্পানির সাথে যৌথভাবে কোম্পানি গঠন করে ব্যবসা করছে। ফলে এই কোম্পানিটি ভারতের টেলিকম বাজারের ২৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

ভোডাফোনের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বৈরি আইন-কানুন, অতিরিক্ত কর এবং সর্বোপরি সুপ্রিম কোর্টের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের ওপর বড় ধরনের বোঝা তৈরি হয়েছে।’ অবশ্য তিনি এ-ও বলেছেন যে, ভারত ছেড়ে যাবার কোনো ইচ্ছে নেই ভোডাফোনের।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভোডাফোন তাদের কোম্পানিতে নতুন কোনো বিনিয়োগ করছে না। ভারতে তাদের অংশীদার আদিত্য বিরলা গ্রুপও নতুন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। তারা যদি কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে এবং এ অবস্থা যদি বজায় থাকে তার অর্থ হচ্ছে ভারতের বাজার ছেড়ে চলে যাবার সম্ভাবনা বেশি ভোডাফোনের।

তবে কথা হলো, ভোডাফোনের মতো একটি বড় কোম্পানি যদি বাজার থেকে চলে যায় তাহলে সেটে ভারতের জন্য মোটেও কোনো ভালো খবর নয়। কারণ এখানে শুধু সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিষয় জড়িত নয়। গত ১০ বছর ধরে সরকার এবং ভোডাফোনের মধ্যে কর নিয়ে বিতণ্ডা চলেছে। যদি ভোডাফোনের মতো একটি কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নেয়, তাহলে অন্য কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে দুইবার চিন্তা করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোডাফোন থাকুক কিংবা না থাকুক-ভারতে মোবাইল ফোনের খরচ বাড়বে। তারা বলছেন, খরচ বৃদ্ধি পাওয়া খারাপ কিছু নয়। কারণ এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বাড়বে। ভারতের বাজারে টিকে থাকার জন্য এটার প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু যদি ভোডাফোন ব্যবসা গুটিয়ে নেয় তাহলে বাজারে দুটো কোম্পানি থাকবে। যেকোনো বাজারের জন্য শুধু দুটো কোম্পানি থাকা মোটেও ভালো খবর নয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

অস্তিত্ব সংকটে ভারতের ভোডাফোন

আপডেট টাইম : ০২:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: ভারত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ টেলিকম বাজার। দেশটিতে গ্রাহকের সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। তারপরেও ভারতের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম কোম্পানি ভোডাফোন ইন্ডিয়া রেকর্ড পরিমাণ লোকসান দিয়েছে। আর এ লোকসানের পরিমাণ ৭০০ কোটি ডলার।

এই লোকসানের পেছনে মূলত দুটো কারণ দেখছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম । প্রথম কারণটি হচ্ছে, ভারতে বহু বছর যাবৎ টেলিফোন কলের রেট নিম্নগামী। দ্বিতীয় কারণটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এ সময় টেলিফোন ডাটার দাম ছিল বেশি।

তিন বছর আগে রিলায়েন্সের জিও মোবাইল নেটওয়ার্ক বাজারে আসার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এ কোম্পানিটি মোবাইল ডাটার দাম কমিয়ে দেয়। ফলে গ্রাহকরা টেলিফোনে কথা বলে খরচ করার চেয়ে ডাটা ব্যবহারে বেশি মনোযোগী। পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে থাকে। রিলায়েন্সের এ পদক্ষেপ অন্য কোম্পানিগুলোর ওপর অনেক চাপ তৈরি করে। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্য কোম্পানিগুলোও তাদের মোবাইল ডাটার দাম কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে তাদের লাভ কমে লোকসানের দিকে যাত্রা শুরু হয়।

বিবিসি বলছে, টেলিকম কোম্পানিগুলো যা আয় করে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকারের টেলিকম ডিপার্টমেন্টকে দিতে হয়। এ নিয়ে টেলিকম কোম্পানিগুলো এবং সরকারের মধ্য ২০০৫ সাল থেকেই মতবিরোধ চলছিল। কোম্পানিগুলো চেয়েছিল তাদের লভ্যাংশ থেকে সরকারকে দিতে। কিন্তু সরকার এর চেয়েও বেশি চেয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিক্রি এবং জমানো অর্থের সুদের ওপরও অংশ দাবি করে সরকার।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে টেলিফোন কোম্পানিগুলো সরকারকে ৯০ হাজার কোটি রুপি দিতে বাধ্য হবে। এর মধ্যে ভোডাফোন ইন্ডিয়া এককভাবে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি রুপি। এর ফলে তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি ভোডাফোনের প্রধান নির্বাহী নিক রিড সতর্ক করে বলেছেন, ভারতে কোম্পানির কার্যক্রম সংশয়ের মধ্যে পড়বে যদি সরকার কর এবং নানাবিধ চার্জ আরোপের মাধ্যমে আঘাত করা বন্ধ না করে।
ভোডাফোন ভারতের কোম্পানির সাথে যৌথভাবে কোম্পানি গঠন করে ব্যবসা করছে। ফলে এই কোম্পানিটি ভারতের টেলিকম বাজারের ২৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

ভোডাফোনের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বৈরি আইন-কানুন, অতিরিক্ত কর এবং সর্বোপরি সুপ্রিম কোর্টের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের ওপর বড় ধরনের বোঝা তৈরি হয়েছে।’ অবশ্য তিনি এ-ও বলেছেন যে, ভারত ছেড়ে যাবার কোনো ইচ্ছে নেই ভোডাফোনের।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভোডাফোন তাদের কোম্পানিতে নতুন কোনো বিনিয়োগ করছে না। ভারতে তাদের অংশীদার আদিত্য বিরলা গ্রুপও নতুন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। তারা যদি কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে এবং এ অবস্থা যদি বজায় থাকে তার অর্থ হচ্ছে ভারতের বাজার ছেড়ে চলে যাবার সম্ভাবনা বেশি ভোডাফোনের।

তবে কথা হলো, ভোডাফোনের মতো একটি বড় কোম্পানি যদি বাজার থেকে চলে যায় তাহলে সেটে ভারতের জন্য মোটেও কোনো ভালো খবর নয়। কারণ এখানে শুধু সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিষয় জড়িত নয়। গত ১০ বছর ধরে সরকার এবং ভোডাফোনের মধ্যে কর নিয়ে বিতণ্ডা চলেছে। যদি ভোডাফোনের মতো একটি কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নেয়, তাহলে অন্য কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে দুইবার চিন্তা করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোডাফোন থাকুক কিংবা না থাকুক-ভারতে মোবাইল ফোনের খরচ বাড়বে। তারা বলছেন, খরচ বৃদ্ধি পাওয়া খারাপ কিছু নয়। কারণ এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বাড়বে। ভারতের বাজারে টিকে থাকার জন্য এটার প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু যদি ভোডাফোন ব্যবসা গুটিয়ে নেয় তাহলে বাজারে দুটো কোম্পানি থাকবে। যেকোনো বাজারের জন্য শুধু দুটো কোম্পানি থাকা মোটেও ভালো খবর নয়।


প্রিন্ট