ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না। এমপি, ফজলুল হক মিলন জোনাকী শিল্পীগোষ্টি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন নবনিযুক্ত গাইবান্ধা ডিসিকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা। সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুনামগঞ্জ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের নেতৃবৃন্দরা রিংকি হত্যা: ন্যায়বিচারের দাবিতে উলিপুরে মানববন্ধন বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর আহ্বান সাত বছর পর নাটকে ফিরলেন শার্লিন ফারজানা `২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’ অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চান শান্ত

প্রতারিত এক যুবকের গল্প

অনলাইন ডেস্ক: টমাস। ৩৪ বছরের এই যুবক যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের বাসিন্দা। তার সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় হয় টনিয়া নামের এক তরুণীর। পরে তাদের মধ্যে তৈরি হয় ভার্চুয়াল সম্পর্ক। প্রতিদিন নিজেদের অনুভূতির কথা শেয়ার করতেন তারা।

এভাবে টানা সাত মাস চলার পর ওই যুবক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার। প্রেমের অভিনয় করে তা কাছ থেকে কৌশলে নেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

প্রেমে প্রতারিত হয়ে আর্থিক লোকসানের শিকার ওই যুবকের প্রতারণার কাহিনী বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। এতে উঠে এসেছে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই তরুণী তার কাছ থেকে কীভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

তরুণের কথায় ওই তরুণী ছিলেন সুন্দরী। তার প্রতি খুবই আন্তরিক ছিলেন। কথাবার্তায় প্রায়ই তার সঙ্গে কৌতুক করতেন। ওই তরুণী তাকে জানিছিলেন, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। তিনি দাদির সঙ্গে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। দাদি ক্যান্সারের রোগী।

যুবকের ভাষ্য, ‘একদিন সে আমাকে জানায়, আমি খুব কষ্টে আছি। খাবার জোগান ও দাদির চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক দেনা হয়ে গেছে। সে আমার কাছে টাকা চাইল। পাশাপাশি তার কথার সপক্ষে কিছু কাগজপত্রের ছবিও পাঠাল। আসলে সেগুলো ছিল ভুয়া।’

তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই জানিয়ে ওই তরুণী যুবকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে থাকেন আর বলতেন, এসব টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে (পাওনাদার) পাঠাতে। এরপর তিনি ওই টাকা নিজ অ্যাকাউন্ট সেসব অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন।

কিছুদিন পর যুবকের কাছে বিভিন্ন ঋণ প্রদান কোম্পানি থেকে কাগজপত্র আসতে লাগল। এরপরই জানা গেল প্রকৃত ঘটনা। ওই যুবক জানতে পারলেন আসলে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই তরুণী যে টাকা পাঠাতেন তা ছিল তারই অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণ নেয়া। তিনি কৌশলে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে এভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এরপর টমাস ঋণ প্রদানকারী কোম্পানি এইচএসবিসির আঞ্চলিক শাখায় গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে ব্যাংকের জালিয়াত শনাক্তকারী টিম তার অ্যাকাউন্টে তুলে নেয়া টাকা পুনরায় হস্তান্তর করে দেয়। বর্তমানে তার ক্রেডিট রেটিং পুনর্গঠনের কাজ করছে টিম।

এ ঘটনার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন টমাস। তার ভাষ্য, ‘আমি এভাবে আর কারোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে চাই না।’

তবে এভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া টমাস কোনো প্রথম ব্যক্তি না। বিভিন্ন অনলাইন ডেটিং সাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য অপরকে দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে।

যুক্তরাজ্যের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবাবিষয়ক জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউকে ফিন্যান্সের এক জরিপ বলছে, ২৭ শতাংশ ব্যক্তি অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এসব ভুক্তভোগী বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের কাছে গড়ে ৩২১ পাউন্ড আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে অনেকেই এর থেকে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ জরিপ বলছে, অনলাইনে রোম্যান্স করতে গিয়ে ২০১৯ সালের প্রথম অর্ধেকে ৭.৯ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) লোকসান হয়েছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেক বেশি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না। এমপি, ফজলুল হক মিলন

প্রতারিত এক যুবকের গল্প

আপডেট টাইম : ০১:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: টমাস। ৩৪ বছরের এই যুবক যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের বাসিন্দা। তার সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় হয় টনিয়া নামের এক তরুণীর। পরে তাদের মধ্যে তৈরি হয় ভার্চুয়াল সম্পর্ক। প্রতিদিন নিজেদের অনুভূতির কথা শেয়ার করতেন তারা।

এভাবে টানা সাত মাস চলার পর ওই যুবক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার। প্রেমের অভিনয় করে তা কাছ থেকে কৌশলে নেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

প্রেমে প্রতারিত হয়ে আর্থিক লোকসানের শিকার ওই যুবকের প্রতারণার কাহিনী বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। এতে উঠে এসেছে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই তরুণী তার কাছ থেকে কীভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

তরুণের কথায় ওই তরুণী ছিলেন সুন্দরী। তার প্রতি খুবই আন্তরিক ছিলেন। কথাবার্তায় প্রায়ই তার সঙ্গে কৌতুক করতেন। ওই তরুণী তাকে জানিছিলেন, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। তিনি দাদির সঙ্গে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। দাদি ক্যান্সারের রোগী।

যুবকের ভাষ্য, ‘একদিন সে আমাকে জানায়, আমি খুব কষ্টে আছি। খাবার জোগান ও দাদির চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক দেনা হয়ে গেছে। সে আমার কাছে টাকা চাইল। পাশাপাশি তার কথার সপক্ষে কিছু কাগজপত্রের ছবিও পাঠাল। আসলে সেগুলো ছিল ভুয়া।’

তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই জানিয়ে ওই তরুণী যুবকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে থাকেন আর বলতেন, এসব টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে (পাওনাদার) পাঠাতে। এরপর তিনি ওই টাকা নিজ অ্যাকাউন্ট সেসব অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন।

কিছুদিন পর যুবকের কাছে বিভিন্ন ঋণ প্রদান কোম্পানি থেকে কাগজপত্র আসতে লাগল। এরপরই জানা গেল প্রকৃত ঘটনা। ওই যুবক জানতে পারলেন আসলে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই তরুণী যে টাকা পাঠাতেন তা ছিল তারই অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণ নেয়া। তিনি কৌশলে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে এভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এরপর টমাস ঋণ প্রদানকারী কোম্পানি এইচএসবিসির আঞ্চলিক শাখায় গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে ব্যাংকের জালিয়াত শনাক্তকারী টিম তার অ্যাকাউন্টে তুলে নেয়া টাকা পুনরায় হস্তান্তর করে দেয়। বর্তমানে তার ক্রেডিট রেটিং পুনর্গঠনের কাজ করছে টিম।

এ ঘটনার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন টমাস। তার ভাষ্য, ‘আমি এভাবে আর কারোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে চাই না।’

তবে এভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া টমাস কোনো প্রথম ব্যক্তি না। বিভিন্ন অনলাইন ডেটিং সাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য অপরকে দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে।

যুক্তরাজ্যের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবাবিষয়ক জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউকে ফিন্যান্সের এক জরিপ বলছে, ২৭ শতাংশ ব্যক্তি অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এসব ভুক্তভোগী বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের কাছে গড়ে ৩২১ পাউন্ড আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে অনেকেই এর থেকে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ জরিপ বলছে, অনলাইনে রোম্যান্স করতে গিয়ে ২০১৯ সালের প্রথম অর্ধেকে ৭.৯ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) লোকসান হয়েছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেক বেশি।


প্রিন্ট