মোহাম্মদ রাসেল: রাজধানীর মিরপুরে পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার (১৮-২২ ভবন) পশ্চিমপাড় সরকারী কর্মচারী কল্যান সমিতি তে একক আধিপত্য বিস্তার করে গত আট বছরে সমিতির টাকা আত্নসাৎ এবং সমিতিকে নিজের পৈত্রিক সম্পতির মত একক সিদ্ধান্তে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করছেন সমিতির বর্তমান সভাপতি মো.রোকনুজ্জামান খান। আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতিসহ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই সমিতিটি। এমনটাই দাবী করছেন একাধিক সদস্য।
সমিতিটি ২০১১ ইংরেজী সনে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন পায়। ২ বছর পর পর সংস্লিস্ট অধিদপ্তর থেকে নতুন কমিটির অনুমোদনের কথা থাকলেও ১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোন অনুমোদন নেননি। বর্তমানে অনুমোদনহীন কমিটিতে চলছে সমিতির কার্যক্রম। তার একাধিক অপকর্ম নিয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলে অধিদপ্তর থেকে সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দিলেও কোনরুপ তোয়াক্কা করছেননা তিনি।
খোজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ ইং সনে পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার (১৮-২২ ভবন) পশ্চিমপাড় সরকারী কর্মচারী কল্যান সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সমিতি পরিচালনা ও সরকারী অনুমোদনের জন্য একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ ২ বছর স্থায়ী হবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪৫ দিন পুর্বে নতুন কমিটি নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা। কিন্তু বর্তমান কমিটির মেয়াদ আর শেষের দিকে আসলেও রোকনুজ্জামান নির্বাচন কমিশন গঠনের কোন উদ্যোগ নেননি। সমিতির একাউন্ট নিজেই পরিচলনা করেন তিনি। নতুন কমিটির কাছে একাউন্ট হস্তান্তর করার কথা থাকলেও এ যাবৎ কোন কমিটির কাছে তিনি কখোনও একাউন্ট হস্তান্তর করেননি। সমিতির চাঁদা একাউন্টে প্লেস না করে নিজের মত খরচ করছেন। সদস্যদের সমিতির কোন হিসাব দিচ্ছেন না। এখন পর্যন্ত কোনো সাধারন সভা ডাকেননি এমনকি কার্যকর কমিটির একটি সভাও ডাকেননি তিনি।
স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থি রোকনুজ্জামান খান দেশের জাতীয় দিবসগুলোতেও সমিতির কোন কার্যক্রম করেন না। বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস ও স্বধীনতা দিবস এমনকি ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসেও কোন কার্যক্রম না করে সমিতির অফিসে তালা মেরে রাখেন সভাপতি রোকনুজ্জামান। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে স্থনীয় এমপি উপস্থিত ছিলেন কিন্তু সভাপতি উপস্থিত হননি এতে এমপি তাকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে বক্তব্যে উপস্থাপন করেন।
সরে জমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় এই সমিতিকে পুজি করে রোকনুজ্জামান হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। পশ্চিম পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার ভবন ১৮ থেকে ২২ এর ভিতরে ফাকা জায়গায় ৬৭ টি ভ্যান গাড়ি,১০/১২ টি বাহিরের গাড়ি এবং একটি বড় বাস পার্কিং করে রাখা। এসব রিক্সা, ভ্যান গাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে ৪০ হাজার টাকা আসে যা সমিতির একাউন্টে জমা হওয়ার কথা থাকলেও রোকনুজ্জামান সমিতির একাউন্টে না রেখে সকল টাকা নিজে আত্নসাৎ করেন বলে জানান একাধিক সদস্য। শুধু রিক্সা, ভ্যান, প্রাইভেটকার ও বাসের ভাড়া বাবদ গত ৬ বছরে ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা যার কোন হিসেব সমিতিকে দিচ্ছেননা এই প্রভাবশালী সভাপতি।
রোকনুজ্জামান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর গাড়ির ড্রাইভার থাকা কালিন সমিতির সকল সদস্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এছাড়া ঐ মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে নানান তদবির, দুর্নীতি ও অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তিনি।
এসব অপকর্মের বিষয়ে জানার জন্য সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান খানের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























