ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অধিক ফসল উৎপাদন করা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয় করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশব্যাপী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

মহামারি করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, বিদ্যুতের অভাব এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি সাবধানে এগিয়ে যাই, ইনশাআল্লাহ আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এটা আমার বিশ্বাস।

মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসের পিজিআর সদর দফতরের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সরকার প্রধান বলেন, চলমান করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কয়লা না পাওয়া এবং গ্যাস ও ডিজেলের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উপাদানের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানেও এখন বিদ্যুতের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নিয়মিত জাহাজ চলাচল না করায় বিশ্ব বর্তমানে পরিবহন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবহার কমাতে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের লোডশেডিং করে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা কমানো যায় কিনা সে বিষয়ও ভাবা হচ্ছে। তবে সে ক্ষেত্রে আকস্মিক নয়, মানুষকে প্রস্তুত থাকার সময়টা দিয়েই তা করা যেতে পারে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশবাসী প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং প্রত্যক্ষ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সংকট উত্তরণে এলাকা ভিত্তিক কিছুটা লোডশেডিং চলতে পারে।

সরকার প্রধান বলেন, এখন আমরা একটা সুনির্দিষ্ট সময় যদি ধরে দেই যে, একেক এলাকাভিত্তিক কিছুক্ষণের জন্য সেখানে বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং হবে, তাহলে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারবে। সেভাবেই আমাদের কিছু কিছু পদক্ষেপ এখন থেকেই নিতে হবে। তাহলে আগামী দিনে আরো যে সমস্যা দেখা দিতে পারে সে পরিস্থিতি থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারবো।

অনেক উন্নত দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি এবং জলাশয়কে কাজে লাগানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো যোগ করেন, সে ক্ষেত্রে আমরা যদি সাশ্রয়ী হয়ে উঠি এবং আমাদের সঞ্চয় বাড়াতে পারি তাহলে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারবো।

সরকার প্রধান বলেন, তার সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে প্রতিটি গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে ঘর-বাড়ি করে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণগুলোর দাম অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশে এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। সরকার আর ভর্তুকি দিয়ে কুলাতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা পরিবার, প্রত্যেকটা মানুষ এবং প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম খাদ্য উৎপাদনের পদক্ষেপও যদি নেয় তাহলে বিশ্বব্যাপী এই যে মন্দা, এর অভিঘাত থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারবো। কারণ আমাদের মাটি ও মানুষ আছে। আর এই মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং সে কথা জাতির পিতাই আমাদের বলে গেছেন।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে যারা হেয় প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিল বা আমাকে, আমার পরিবারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে এবং আমার মন্ত্রিসভার সদস্য, সচিব, উপদেষ্টাকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে যারা অসম্মান করতে চেয়েছিল তাদের উপযুক্ত জবাব আমরা দিয়েছি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতু শুধু একটা সেতুই নয়, আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আমাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার ও বহিঃপ্রকাশ।

সশস্ত্র বাহিনীর বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের কথাও জানান সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথম ১৯৯৮ সালে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ এবং ‘মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৯ সালে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং’ এবং ‘আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম ২০০০ সালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ দেওয়া শুরু করে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশকে আর্থসামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে আমরা ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেছি। ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি- ২০১৮’ প্রণয়ন, অ্যারোস্পেস ও এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সিএমএইচগুলোকে অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর করাসহ পিজিআর সদস্যদের জন্য ঝুঁকিভাতা প্রবর্তন এবং আবাসনের বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। আমরা শান্তি চাই এবং জাতির পিতা আমাদের যে পররাষ্ট্র নীতিমালা দিয়েছেন ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’, আমরা সেই নীতিই মেনে চলছি। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের যেন সমস্ত রকম প্রস্তুতি থাকে এবং বিশেষ করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার যেগুলো প্রতীক সেগুলো যেন যথাযথভাবে গড়ে ওঠে, আমরা তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি রোদ, ঝড়, বৃষ্টি মাথায় করে পিজিআর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডস এর লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে রেজিমেন্টের সদস্যরা সাহস, আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করবে। কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত অনুশীলনের মাধ্যমেই এই রেজিমেন্ট আগামীতে আরো সমৃদ্ধ হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ০১:০১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২

অধিক ফসল উৎপাদন করা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয় করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশব্যাপী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

মহামারি করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, বিদ্যুতের অভাব এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি সাবধানে এগিয়ে যাই, ইনশাআল্লাহ আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এটা আমার বিশ্বাস।

মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসের পিজিআর সদর দফতরের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সরকার প্রধান বলেন, চলমান করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কয়লা না পাওয়া এবং গ্যাস ও ডিজেলের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উপাদানের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানেও এখন বিদ্যুতের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নিয়মিত জাহাজ চলাচল না করায় বিশ্ব বর্তমানে পরিবহন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবহার কমাতে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের লোডশেডিং করে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা কমানো যায় কিনা সে বিষয়ও ভাবা হচ্ছে। তবে সে ক্ষেত্রে আকস্মিক নয়, মানুষকে প্রস্তুত থাকার সময়টা দিয়েই তা করা যেতে পারে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশবাসী প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং প্রত্যক্ষ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সংকট উত্তরণে এলাকা ভিত্তিক কিছুটা লোডশেডিং চলতে পারে।

সরকার প্রধান বলেন, এখন আমরা একটা সুনির্দিষ্ট সময় যদি ধরে দেই যে, একেক এলাকাভিত্তিক কিছুক্ষণের জন্য সেখানে বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং হবে, তাহলে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারবে। সেভাবেই আমাদের কিছু কিছু পদক্ষেপ এখন থেকেই নিতে হবে। তাহলে আগামী দিনে আরো যে সমস্যা দেখা দিতে পারে সে পরিস্থিতি থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারবো।

অনেক উন্নত দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি এবং জলাশয়কে কাজে লাগানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো যোগ করেন, সে ক্ষেত্রে আমরা যদি সাশ্রয়ী হয়ে উঠি এবং আমাদের সঞ্চয় বাড়াতে পারি তাহলে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারবো।

সরকার প্রধান বলেন, তার সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে প্রতিটি গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে ঘর-বাড়ি করে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণগুলোর দাম অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশে এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। সরকার আর ভর্তুকি দিয়ে কুলাতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা পরিবার, প্রত্যেকটা মানুষ এবং প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম খাদ্য উৎপাদনের পদক্ষেপও যদি নেয় তাহলে বিশ্বব্যাপী এই যে মন্দা, এর অভিঘাত থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারবো। কারণ আমাদের মাটি ও মানুষ আছে। আর এই মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং সে কথা জাতির পিতাই আমাদের বলে গেছেন।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে যারা হেয় প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিল বা আমাকে, আমার পরিবারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে এবং আমার মন্ত্রিসভার সদস্য, সচিব, উপদেষ্টাকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে যারা অসম্মান করতে চেয়েছিল তাদের উপযুক্ত জবাব আমরা দিয়েছি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতু শুধু একটা সেতুই নয়, আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আমাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার ও বহিঃপ্রকাশ।

সশস্ত্র বাহিনীর বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের কথাও জানান সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথম ১৯৯৮ সালে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ এবং ‘মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৯ সালে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং’ এবং ‘আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম ২০০০ সালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ দেওয়া শুরু করে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশকে আর্থসামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে আমরা ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেছি। ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি- ২০১৮’ প্রণয়ন, অ্যারোস্পেস ও এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সিএমএইচগুলোকে অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর করাসহ পিজিআর সদস্যদের জন্য ঝুঁকিভাতা প্রবর্তন এবং আবাসনের বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। আমরা শান্তি চাই এবং জাতির পিতা আমাদের যে পররাষ্ট্র নীতিমালা দিয়েছেন ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’, আমরা সেই নীতিই মেনে চলছি। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের যেন সমস্ত রকম প্রস্তুতি থাকে এবং বিশেষ করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার যেগুলো প্রতীক সেগুলো যেন যথাযথভাবে গড়ে ওঠে, আমরা তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি রোদ, ঝড়, বৃষ্টি মাথায় করে পিজিআর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডস এর লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে রেজিমেন্টের সদস্যরা সাহস, আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করবে। কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত অনুশীলনের মাধ্যমেই এই রেজিমেন্ট আগামীতে আরো সমৃদ্ধ হবে।


প্রিন্ট