ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

হকির ফজলু ওস্তাদ আর নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ অকালেই চলে গেলেন হকি জগতের প্রিয় মুখ, অনেক বড় তারকার গুরু, সাবেক হকি খেলোয়াড় ও তৃণমূলের সফল কোচ মো. ফজলুল ইসলাম। হকি অঙ্গনে যাকে সবাই ফজলু ওস্তাদ নামেই চেনেন।

আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শাহবাজ আলীর বসবাস পুরান ঢাকাতেই। ফজলুর প্রয়াণ সম্পর্কে সাবেক হকি খেলোয়াড় ও আম্পায়ার বলেন, ‘বাসায় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল এর আগেই..।’

বাংলাদেশের হকির পাইপলাইন ছিল বিকেএসপি ও পুরান ঢাকা। এই দুই জায়গা থেকেই মূলত হকি খেলোয়াড় উঠে আসত। পুরান ঢাকায় বছরের পর বছর হকি নিয়ে কাজ করেছেন ফজুল । অসংখ্য খেলোয়াড় তার হাতে তৈরি যারা এখন ও বিগত সময়ে জাতীয় দলে খেলেছেন।

হকির অন্যতম সুতিকাগার আরমানিটোলা স্কুল। সেই স্কুলের মাঠে প্রায় প্রতিদিনই তিনি হকি খেলা শেখাতেন। আরমানিটোলা স্কুল ছাড়াও পুরান ঢাকার অনেক শিশু-কিশোরই ফজলুর হাতে হকি খেলা শিখেছেন। ফজলুর চলে যাওয়া হকির বড় শূন্যতা। এই অভাব অপূরণীয় মনে করছেন সাবেক জাতীয় তারকা খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল, ‘ফজলু ওস্তাদ নিঃস্বার্থভাবে হকি শেখাতেন। তার মতো আর কেউ নেই আর হবেও না। পুরান ঢাকার অনেকেই তার কাছ থেকে শিখে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছে। আবার কেউ লিগে খেলে জাতীয় দলে এসেছে।’

সাধারণ বীমা, ওয়ান্ডারার্সে খেলেছেন ফজলু। খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়ে এসেই পরিচিতি পেয়েছেন। জাতীয় দল বা জুনিয়র দলের কোচের দায়িত্ব না পেলেও কোনো আফসোস ছিল না তার।

খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন ছিল ফজলুর। হকি খেলা শিখিয়ে যৎসামান্য আয় হতো তার। এতেই চলতেন। আর্থিক অনটনের চিন্তা-ভাবনা ছিল প্রতিনিয়ত। কয়েক বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক করেছিলেন। কয়েক দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে আবার হকি শেখানোর কাজ শুরু করেন। স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যেই সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ফজলু। তৃণমূলে কাজের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন হকির এই নিবেদিত প্রাণ।

দেশের হকি সব সময় সংকটের মধ্যেই থাকে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও বিরাজ করছে সংকট। এর মধ্যে ফজলুর চলে যাওয়া আরো বড় সংকট। ফজলুর প্রয়াণে হকি অঙ্গন কাঁদছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

হকির ফজলু ওস্তাদ আর নেই

আপডেট টাইম : ০১:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ অকালেই চলে গেলেন হকি জগতের প্রিয় মুখ, অনেক বড় তারকার গুরু, সাবেক হকি খেলোয়াড় ও তৃণমূলের সফল কোচ মো. ফজলুল ইসলাম। হকি অঙ্গনে যাকে সবাই ফজলু ওস্তাদ নামেই চেনেন।

আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শাহবাজ আলীর বসবাস পুরান ঢাকাতেই। ফজলুর প্রয়াণ সম্পর্কে সাবেক হকি খেলোয়াড় ও আম্পায়ার বলেন, ‘বাসায় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল এর আগেই..।’

বাংলাদেশের হকির পাইপলাইন ছিল বিকেএসপি ও পুরান ঢাকা। এই দুই জায়গা থেকেই মূলত হকি খেলোয়াড় উঠে আসত। পুরান ঢাকায় বছরের পর বছর হকি নিয়ে কাজ করেছেন ফজুল । অসংখ্য খেলোয়াড় তার হাতে তৈরি যারা এখন ও বিগত সময়ে জাতীয় দলে খেলেছেন।

হকির অন্যতম সুতিকাগার আরমানিটোলা স্কুল। সেই স্কুলের মাঠে প্রায় প্রতিদিনই তিনি হকি খেলা শেখাতেন। আরমানিটোলা স্কুল ছাড়াও পুরান ঢাকার অনেক শিশু-কিশোরই ফজলুর হাতে হকি খেলা শিখেছেন। ফজলুর চলে যাওয়া হকির বড় শূন্যতা। এই অভাব অপূরণীয় মনে করছেন সাবেক জাতীয় তারকা খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল, ‘ফজলু ওস্তাদ নিঃস্বার্থভাবে হকি শেখাতেন। তার মতো আর কেউ নেই আর হবেও না। পুরান ঢাকার অনেকেই তার কাছ থেকে শিখে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছে। আবার কেউ লিগে খেলে জাতীয় দলে এসেছে।’

সাধারণ বীমা, ওয়ান্ডারার্সে খেলেছেন ফজলু। খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়ে এসেই পরিচিতি পেয়েছেন। জাতীয় দল বা জুনিয়র দলের কোচের দায়িত্ব না পেলেও কোনো আফসোস ছিল না তার।

খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন ছিল ফজলুর। হকি খেলা শিখিয়ে যৎসামান্য আয় হতো তার। এতেই চলতেন। আর্থিক অনটনের চিন্তা-ভাবনা ছিল প্রতিনিয়ত। কয়েক বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক করেছিলেন। কয়েক দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে আবার হকি শেখানোর কাজ শুরু করেন। স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যেই সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ফজলু। তৃণমূলে কাজের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন হকির এই নিবেদিত প্রাণ।

দেশের হকি সব সময় সংকটের মধ্যেই থাকে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও বিরাজ করছে সংকট। এর মধ্যে ফজলুর চলে যাওয়া আরো বড় সংকট। ফজলুর প্রয়াণে হকি অঙ্গন কাঁদছে।


প্রিন্ট