ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলো অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক: ইরানের পাঁচ জাতীয় নারী ফুটবলারের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকে স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফুটবলাররা অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের একটি হোটেল থেকে পালিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টুর্নামেন্ট ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় ইরানি খেলোয়াড়রা চুপ করে ছিলেন। যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে ওই নারী খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যদি তাদের বাধ্য করে দেশে ফেরানো হয়, তাদের নিরাপত্তার জন্য তা গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে।

অধিনায়ক জাহরা ঘনবারিসহ ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচজন খেলোয়াড় গোল্ড কোস্টের টিম হোটেল থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় দাবি করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

তিনি বলেন, এই সাহসী নারীদের দুঃখ-দুর্দশায় অস্ট্রেলিয়ানরা মর্মাহত। তারা এখানে নিরাপদ আছেন এবং এখানে তারা যেন নিজের ঘরে থাকার মত অনুভব করেন।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমকে তাদের ‘সংযম’ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে খেলোয়াড়দের নিরাপদ হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমে তাদের আশ্রয়ের খবর প্রকাশ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, সরকার কয়েকদিন ধরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তারা গোল্ড কোস্টের হোটেল ত্যাগ করার পর একটি নিরাপদ স্থানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছবিতে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা একটি টেবিলের চারপাশে ঘিরে বসে আছেন আর টনি বার্ক মানবিক কারণে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসা দেওয়ার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন।

বার্ক বলেন, খেলোয়াড়রা ‘অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। তিনি বলেন, দলের বাকি সদস্যরাও যদি চান, তাহলে এ দেশে থাকতে পারবেন।

ইরানি দলের বাকি খেলোয়াড়রা দেশে ফিরবেন কিনা-অথবা কখন তারা অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করতে পারবেন তা  জানা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজের সাথে গভীর রাতে ফোনে কথা বলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম নিশ্চিত করেন যে, পাঁচজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আছেন।

কয়েক ঘন্টা আগে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি খেলোয়াড়দের বাধ্য করে ইরানে পাঠানো হয়, তা হবে একটি ‘ভয়ানক মানবিক ভুল।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলো অস্ট্রেলিয়া

আপডেট টাইম : ০২:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক: ইরানের পাঁচ জাতীয় নারী ফুটবলারের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকে স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফুটবলাররা অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের একটি হোটেল থেকে পালিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টুর্নামেন্ট ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় ইরানি খেলোয়াড়রা চুপ করে ছিলেন। যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে ওই নারী খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যদি তাদের বাধ্য করে দেশে ফেরানো হয়, তাদের নিরাপত্তার জন্য তা গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে।

অধিনায়ক জাহরা ঘনবারিসহ ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচজন খেলোয়াড় গোল্ড কোস্টের টিম হোটেল থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় দাবি করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

তিনি বলেন, এই সাহসী নারীদের দুঃখ-দুর্দশায় অস্ট্রেলিয়ানরা মর্মাহত। তারা এখানে নিরাপদ আছেন এবং এখানে তারা যেন নিজের ঘরে থাকার মত অনুভব করেন।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমকে তাদের ‘সংযম’ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে খেলোয়াড়দের নিরাপদ হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমে তাদের আশ্রয়ের খবর প্রকাশ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, সরকার কয়েকদিন ধরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তারা গোল্ড কোস্টের হোটেল ত্যাগ করার পর একটি নিরাপদ স্থানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছবিতে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা একটি টেবিলের চারপাশে ঘিরে বসে আছেন আর টনি বার্ক মানবিক কারণে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসা দেওয়ার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন।

বার্ক বলেন, খেলোয়াড়রা ‘অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। তিনি বলেন, দলের বাকি সদস্যরাও যদি চান, তাহলে এ দেশে থাকতে পারবেন।

ইরানি দলের বাকি খেলোয়াড়রা দেশে ফিরবেন কিনা-অথবা কখন তারা অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করতে পারবেন তা  জানা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজের সাথে গভীর রাতে ফোনে কথা বলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম নিশ্চিত করেন যে, পাঁচজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আছেন।

কয়েক ঘন্টা আগে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি খেলোয়াড়দের বাধ্য করে ইরানে পাঠানো হয়, তা হবে একটি ‘ভয়ানক মানবিক ভুল।’


প্রিন্ট