ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় আ/সা/মি গ্রে/ফ/তার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কুমিল্লার যে বাড়ির সুর ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশের হৃদয়ে পোশাক শ্রমিকদের দ্রুত সর্বজনীন পেনশনে আনার আহ্বান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালন কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষ্যে ২১তম ওয়াজ মাহফিল ত্রিশালে কৃতি শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, সংবর্ধনা পেলেন ২১৪ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা নাটোরে মাধনগর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

বিশ্বের মধ্যে ভারতে সব চেয়ে বেশি যক্ষা রোগের সংখ্যা

লুতুব আলি, কলকাতা :

সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে ভারতে সব থেকে বেশি যক্ষা রোগের সংখ্যা। যা বিশ্বের মোট যক্ষা রোগীর প্রায় ২৭ শতাংশ। ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষা দিবস। ভারতের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে চরম উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী আজ বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে এক অভিনব পদ্ধতিতে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হল। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এক প্রকার রাস্তায় নেমে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করলো। বর্ধমান শহরের মল্লিক পুকুর এলাকার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্ক মহিলাদের যক্ষা রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হলো। উপস্থিত ছেলেমেয়েদের কলম, চকলেট দিয়ে বিশ্ব যক্ষা রোগ দিবসটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা হলো। সংস্থার সম্পাদক, বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ প্রলয় মজুমদার জানান, সচেতনতামূলক আলোচনার শেষে সকলের জন্য যক্ষা রোগ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয় এবং সঠিক উত্তরদাতাদের উপহার স্বরূপ কলম, চকলেট দেওয়া হয়। ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ ডা: রবার্ট কোচ যক্ষা রোগের জীবাণু মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের শত বছর পর ১৯৮২ সাল থেকে এই দিনটি বিশ্বযক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যক্ষা রোগটি মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। এটি সাধারণত ফুসফুসে আক্রান্ত করে, তবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ কেউ আক্রান্ত করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ভারতে যক্ষা রোগীর আক্রান্ত সংখ্যা শীর্ষে। ভারতের যে রাজ্যগুলিতে যক্ষা রোগীর সংখ্যা বেশি সেগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু। ভারতের পর বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ফিলিপাইন, পাকিস্তান সহ এই দেশগুলিতে বিশ্বের মোট যক্ষা রোগীর ৫৬ শতাংশ বসবাস করে। এক সমীক্ষায় জানা গেছে ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ সক্রিয় যক্ষা আক্রান্ত হয় এবং ১২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মারা যান। বাংলাদেশের প্রতিবছর যক্ষ্মার কারণে ৩৮ হাজার মানুষ মারা যান। বিশেষজ্ঞ কয়েক জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের যক্ষা রোগকে অনেকটা দমন করা হয়েছে। এখানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে অনেকটা দমন করা গেছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষা রোগ সম্পর্কে যে সমস্ত পদক্ষেপ গুলি গ্রহণ করেছে সেগুলি হল: সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয়, বেসরকারি খাতের সাথে সহযোগিতা, গবেষণা ও উন্নয়ন। যক্ষা রোগের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার মিডিয়া অফিসার অঙ্কিতা সাম বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে একইসঙ্গে আরও দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করে যক্ষা রোগকে নির্মূল করতে হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী

বিশ্বের মধ্যে ভারতে সব চেয়ে বেশি যক্ষা রোগের সংখ্যা

আপডেট টাইম : ১০:০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

লুতুব আলি, কলকাতা :

সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে ভারতে সব থেকে বেশি যক্ষা রোগের সংখ্যা। যা বিশ্বের মোট যক্ষা রোগীর প্রায় ২৭ শতাংশ। ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষা দিবস। ভারতের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে চরম উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী আজ বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে এক অভিনব পদ্ধতিতে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হল। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এক প্রকার রাস্তায় নেমে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করলো। বর্ধমান শহরের মল্লিক পুকুর এলাকার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্ক মহিলাদের যক্ষা রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হলো। উপস্থিত ছেলেমেয়েদের কলম, চকলেট দিয়ে বিশ্ব যক্ষা রোগ দিবসটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা হলো। সংস্থার সম্পাদক, বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ প্রলয় মজুমদার জানান, সচেতনতামূলক আলোচনার শেষে সকলের জন্য যক্ষা রোগ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয় এবং সঠিক উত্তরদাতাদের উপহার স্বরূপ কলম, চকলেট দেওয়া হয়। ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ ডা: রবার্ট কোচ যক্ষা রোগের জীবাণু মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের শত বছর পর ১৯৮২ সাল থেকে এই দিনটি বিশ্বযক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যক্ষা রোগটি মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। এটি সাধারণত ফুসফুসে আক্রান্ত করে, তবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ কেউ আক্রান্ত করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ভারতে যক্ষা রোগীর আক্রান্ত সংখ্যা শীর্ষে। ভারতের যে রাজ্যগুলিতে যক্ষা রোগীর সংখ্যা বেশি সেগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু। ভারতের পর বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ফিলিপাইন, পাকিস্তান সহ এই দেশগুলিতে বিশ্বের মোট যক্ষা রোগীর ৫৬ শতাংশ বসবাস করে। এক সমীক্ষায় জানা গেছে ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ সক্রিয় যক্ষা আক্রান্ত হয় এবং ১২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মারা যান। বাংলাদেশের প্রতিবছর যক্ষ্মার কারণে ৩৮ হাজার মানুষ মারা যান। বিশেষজ্ঞ কয়েক জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের যক্ষা রোগকে অনেকটা দমন করা হয়েছে। এখানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে অনেকটা দমন করা গেছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষা রোগ সম্পর্কে যে সমস্ত পদক্ষেপ গুলি গ্রহণ করেছে সেগুলি হল: সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয়, বেসরকারি খাতের সাথে সহযোগিতা, গবেষণা ও উন্নয়ন। যক্ষা রোগের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার মিডিয়া অফিসার অঙ্কিতা সাম বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে একইসঙ্গে আরও দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করে যক্ষা রোগকে নির্মূল করতে হবে।


প্রিন্ট