ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় আ/সা/মি গ্রে/ফ/তার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কুমিল্লার যে বাড়ির সুর ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশের হৃদয়ে পোশাক শ্রমিকদের দ্রুত সর্বজনীন পেনশনে আনার আহ্বান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালন কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষ্যে ২১তম ওয়াজ মাহফিল ত্রিশালে কৃতি শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, সংবর্ধনা পেলেন ২১৪ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা নাটোরে মাধনগর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

টঙ্গীতে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে দাপুটে মাদক কারবার নেপথ্যে পারুল-মানিক দম্পতি

মোঃ আবু হাসান আকন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আবারও আলোচনায় উঠেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। বিশেষ করে এরশাদ নগর বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট—যার নেতৃত্বে রয়েছেন পারুল ও তাঁর স্বামী মানিক এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই দম্পতি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও রহস্যজনক কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান। কোনো কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পারুল এরশাদ নগর এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের তবে এসব মামলার পরও তিনি নির্বিঘ্নে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে তাঁর স্বামী মানিক নিজেকে ‘যুবদল নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ই মূলত তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে রাখার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মানিকের এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পারুলের মাদক ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এরশাদ নগর বস্তির ভেতরে ইয়াবা, গাঁজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য। পারুল ও মানিকের নিয়ন্ত্রণেই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা রাজনৈতিক চাপের ভয় দেখানো হয়।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সুশীল সমাজের অভিমত, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করা হোক।ড


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী

টঙ্গীতে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে দাপুটে মাদক কারবার নেপথ্যে পারুল-মানিক দম্পতি

আপডেট টাইম : ০৮:৩০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মোঃ আবু হাসান আকন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আবারও আলোচনায় উঠেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। বিশেষ করে এরশাদ নগর বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট—যার নেতৃত্বে রয়েছেন পারুল ও তাঁর স্বামী মানিক এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই দম্পতি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও রহস্যজনক কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান। কোনো কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পারুল এরশাদ নগর এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের তবে এসব মামলার পরও তিনি নির্বিঘ্নে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে তাঁর স্বামী মানিক নিজেকে ‘যুবদল নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ই মূলত তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে রাখার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মানিকের এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পারুলের মাদক ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এরশাদ নগর বস্তির ভেতরে ইয়াবা, গাঁজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য। পারুল ও মানিকের নিয়ন্ত্রণেই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা রাজনৈতিক চাপের ভয় দেখানো হয়।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সুশীল সমাজের অভিমত, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করা হোক।ড


প্রিন্ট