ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

গৌরীপুরে পাম্প থেকে ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে এবং বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই। তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে, সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

গৌরীপুরে পাম্প থেকে ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে এবং বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই। তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে, সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।


প্রিন্ট