ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দেশি-বিদেশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী ‘এক গ্রাম এক পণ্য (ওভিওপি)’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি কর্মসূচির কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

বাসস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাসরুর আরেফিন বলেন, গ্রামীণ উদ্যোগ, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পণ্য এবং এসএমই খাতে অর্থায়ন কাঠামো নির্ধারণে কমিটি কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন গ্রামভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে সহায়তার জন্য ফাইন্যান্সিং নীতি তৈরি করছি। তবে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আকার এখনো নির্ধারিত হয়নি। আশা করছি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কমিটির কাজ শেষ হবে।’

তিনি জানান, প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পণ্যে বিশেষায়িত গ্রাম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হস্তচালিত তাঁতপণ্য, কৃষিজাত পণ্য, দুগ্ধজাত সামগ্রী, মৃৎশিল্প, পাটজাত পণ্য, মধু ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে।

উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা, বিপণন সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনায় প্রচলিত জামানত নির্ভর ঋণ ব্যবস্থার পরিবর্তে উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো ভ্যালু চেইন ভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিটি ক্লাস্টারে ন্যূনতম ৫০ জন উৎপাদক থাকবে এবং দেশের ৬৪টি জেলায় এই কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি উৎপাদককে ডিজিটাল পরিচয় প্রদান, কিউআর কোড ট্রেসেবিলিটি এবং বিকল্প তথ্যভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ওভিওপি’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে জামদানি, রাজশাহীর আমসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ ওভিওপি মডেল গ্রামীণ এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করবে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এই মডেল সফলভাবে প্রয়োগ হয়েছে, যেখানে গ্রামভিত্তিক পণ্য আন্তর্জাতিক অনলাইন বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানো, শহরমুখী অভিবাসন হ্রাস এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ

আপডেট টাইম : ১০:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দেশি-বিদেশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী ‘এক গ্রাম এক পণ্য (ওভিওপি)’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি কর্মসূচির কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

বাসস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাসরুর আরেফিন বলেন, গ্রামীণ উদ্যোগ, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পণ্য এবং এসএমই খাতে অর্থায়ন কাঠামো নির্ধারণে কমিটি কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন গ্রামভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে সহায়তার জন্য ফাইন্যান্সিং নীতি তৈরি করছি। তবে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আকার এখনো নির্ধারিত হয়নি। আশা করছি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কমিটির কাজ শেষ হবে।’

তিনি জানান, প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পণ্যে বিশেষায়িত গ্রাম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হস্তচালিত তাঁতপণ্য, কৃষিজাত পণ্য, দুগ্ধজাত সামগ্রী, মৃৎশিল্প, পাটজাত পণ্য, মধু ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে।

উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা, বিপণন সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনায় প্রচলিত জামানত নির্ভর ঋণ ব্যবস্থার পরিবর্তে উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো ভ্যালু চেইন ভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিটি ক্লাস্টারে ন্যূনতম ৫০ জন উৎপাদক থাকবে এবং দেশের ৬৪টি জেলায় এই কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি উৎপাদককে ডিজিটাল পরিচয় প্রদান, কিউআর কোড ট্রেসেবিলিটি এবং বিকল্প তথ্যভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ওভিওপি’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে জামদানি, রাজশাহীর আমসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ ওভিওপি মডেল গ্রামীণ এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করবে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এই মডেল সফলভাবে প্রয়োগ হয়েছে, যেখানে গ্রামভিত্তিক পণ্য আন্তর্জাতিক অনলাইন বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানো, শহরমুখী অভিবাসন হ্রাস এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


প্রিন্ট